শুক্রবার সন্ধ্যা ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের মিলনায়তে ‘পর্যটন উন্নয়নে সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক একটি কর্মশালা আয়োজন করা হয়। এই সেশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল পর্যটন শিল্পের প্রসারে মিডিয়ার অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী সম্পদকে প্রচার করা।
কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, যিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক এবং উপ-পরিচালকও উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের মতামত শেয়ার করেন।
পর্যটন খাতের অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে কথা বলার সময় পরিচালক উল্লেখ করেন যে বিশ্বব্যাপী মোট জিডিপির প্রায় দশ শতাংশই সরাসরি পর্যটন থেকে আসে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই সেক্টরটি দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়তা করে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে।
পর্যটন শিল্পকে আরও আকর্ষণীয় করার জন্য মিডিয়ার ভূমিকা অপরিহার্য বলে তিনি বলেন। জেলা পর্যায়ে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলোকে পর্যটন পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে সাংবাদিকদের সঠিক তথ্য সরবরাহ এবং সৃজনশীল কভারেজ দরকার। এভাবে স্থানীয় পর্যটন গন্তব্যগুলোকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের নজরে আনা সম্ভব হবে।
এই কর্মশালায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মোট ৬৫ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ধরণের প্রকাশনা—দৈনিক, সাপ্তাহিক, অনলাইন পোর্টাল এবং টেলিভিশন—প্রতিনিধিত্ব করে, যা কর্মশালার বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করে।
কর্মশালার আলোচনায় উল্লেখ করা হয় যে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা হলে তারা স্থানীয় পর্যটন সম্পদকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারবে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সাংবাদিকতা ও পর্যটন শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলবে।
উদাহরণস্বরূপ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহাসিক ‘শ্রীমঙ্গল মন্দির’ ও ‘বড়বিলের বৌদ্ধ ধ্বংসাবশেষ’ পর্যটকদের আকৃষ্ট করার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এদের প্রচার এখনো সীমিত। যদি স্থানীয় সাংবাদিকরা এই স্থানগুলোর ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে গভীরভাবে রিপোর্ট করেন, তবে পর্যটক প্রবাহ বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কর্মশালার সমাপ্তিতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ দেওয়া হয়—প্রতিটি সংবাদ প্রতিবেদনে স্থানীয় পর্যটন আকর্ষণকে সংযুক্ত করার চেষ্টা করুন এবং পাঠকদের জন্য স্পষ্ট, বাস্তবসম্মত ভ্রমণ নির্দেশনা প্রদান করুন। আপনার কভারেজ কীভাবে স্থানীয় সম্প্রদায়ের উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে, তা নিয়ে ভাবা আপনার পরবর্তী কাজের দিকনির্দেশনা হতে পারে।



