ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে অপ্রত্যাশিত সংকটে ফেলেছে। হোয়াইট হাউসের সূত্রে মঙ্গলবার জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন, যার মধ্যে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাদ দেওয়া হয়নি।
নাটোর মৌলিক নীতি অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশের ওপর আক্রমণকে সমগ্র জোটের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জোটের সবচেয়ে শক্তিশালী সদস্যই অন্য একটি সদস্যের ওপর হুমকি তুলছে, যা পূর্বে অদেখা ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
সাদা বাড়ি থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘বিভিন্ন বিকল্প’ বিবেচনা করছে। যদিও সামরিক শক্তি ব্যবহার সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়নি, তবে বিকল্প পথ অনুসন্ধানের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের উপ-প্রধান স্টাফ স্টিফেন মিলার একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা একটি পরাশক্তি। আমরা পরাশক্তির মতোই আচরণ করব।” এই মন্তব্যটি ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলো যে শাসন ও দখল পদ্ধতি অবলম্বন করত, তার স্মরণ করিয়ে দেয়।
মার্কো রুবিও, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, গ্রিনল্যান্ডে সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা কমাতে বললেন, বর্তমান প্রশাসন মূলত অঞ্চলটি কিনে নেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। রুবিওর মতে, এই পদ্ধতি সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা জারি করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি ন্যাটোর আরেকটি সদস্যদেশের ওপর সামরিক অভিযান চালায়, তাহলে ন্যাটোসহ সবকিছুর সমাপ্তি ঘটবে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা নিরাপত্তা ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়বে।”
ফ্রেডেরিকসেনের এই সতর্কবার্তা ন্যাটোর অভ্যন্তরে গভীর উদ্বেগের সঞ্চার করেছে। ন্যাটোর অন্যান্য সদস্য দেশগুলো এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো বিরোধপূর্ণ মন্তব্য করেনি, তবে তাদের নীরবতা সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নির্ভরশীলতার স্বীকৃতি নির্দেশ করে।
ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল। তাই গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত ট্রাম্পের নতুন হুমকি ইউরোপের কূটনৈতিক কৌশলে জটিলতা যোগ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ করে, তবে তা ন্যাটোর অভ্যন্তরে ঐক্যের ক্ষতি ঘটাতে পারে এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর পুনর্গঠনকে বাধ্য করতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে। কিছু বিশ্লেষক যুক্তি দেন, অঞ্চলটির স্বাভাবিক সম্পদ ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরিস্থিতিতে, ন্যাটোর শীর্ষ পর্যায়ে জরুরি বৈঠকের সম্ভাবনা বাড়ছে। সদস্য দেশগুলোকে গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের প্রভাব মূল্যায়ন করে যৌথ নীতি নির্ধারণের প্রয়োজন হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড হুমকি ন্যাটোর ঐতিহ্যবাহী নিরাপত্তা নীতি ও ইউরোপের কূটনৈতিক ভারসাম্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, যা পরবর্তী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নিতে পারে।



