তেজগাঁও, ঢাকা – স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রাক্তন নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির বুধবার রাত ৮টার পরে গুলিবিদ্ধ হন এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর পর মৃত ঘোষণা করা হয়। একই সময়ে তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদও গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম গুলিবিদ্ধের পরপরই তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করে, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে কয়েক দিন আগে থেকে স্বামীকে জীবননাশের হুমকি দিচ্ছিলেন। তবে হুমকির উৎস ও কারণ সম্পর্কে তিনি পুলিশকে স্পষ্ট করে জানাননি।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান জানান, মুছাব্বিরের পক্ষ থেকে হুমকি সম্পর্কে পূর্বে কোনো তথ্য পুলিশকে দেওয়া হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, হুমকির পেছনের কারণ বা দায়ী ব্যক্তির পরিচয় এখনো পরিষ্কার হয়নি।
গোলিবিদ্ধের স্থান ছিল কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউতে হোটেল সুপারস্টারের পাশে অবস্থিত আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলি। অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারী গোষ্ঠী গুলি চালিয়ে মুছাব্বিরকে মারাত্মক আঘাত করে, আর সঙ্গে থাকা ইউনিয়ন সম্পাদককে গুলিবিদ্ধ করে। দুজনকে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে ব্রিটিশ রেডিয়ো হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকগণ দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, মাসুদকে জরুরি শল্যচিকিৎসা করা হয় এবং তিনি হাসপাতালে ভর্তি থাকেন।
মুছাব্বিরের পরিবার জানায়, তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং এক সময় কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম-সম্পাদকও ছিলেন। পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে জেলখানায় ছিলেন।
মামলার তদন্তে তেজগাঁও থানা পুলিশই নয়, গোয়েন্দা পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ও জড়িত। উপ-কমিশনার ইবনে মিজান জানান, তদন্তে গুলিবিদ্ধের পেছনের সম্ভাব্য প্রেরণা ও সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী চিহ্নিত করার জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
পুলিশের মতে, মুছাব্বিরের গুলিবিদ্ধের সঙ্গে গত বছর ২৯ ডিসেম্বর চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের উপর হামলার ঘটনা এবং কারওয়ান বাজারে ব্যবসায়ীদের ওপর আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু সংযোগ থাকতে পারে। সেই সময়ে ব্যবসায়ীদের উপর হামলা ঘটায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, ব্যবসায়ীদের ওপর আক্রমণের ফলে ওই এলাকায় ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যায় এবং মুছাব্বিরের নিয়ন্ত্রণের অধীনে থাকা কিছু এলাকা নতুন গোষ্ঠীর হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি স্থানীয় উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
অতিরিক্তভাবে, ফার্মগেট এলাকায় গ্যারেজ দখল নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলমান। গ্যারেজ দখল সংক্রান্ত ঘটনায় মুছাব্বিরের কোনো সংযোগের সন্দেহ উত্থাপিত হয়েছে, যা তদন্তে নতুন দিক যোগ করেছে।
পুলিশ এখন পর্যন্ত গুলিবিদ্ধের সময় উপস্থিত অজ্ঞাত গুলিবিদ্ধদের সনাক্ত করতে সক্ষম হয়নি। তবে গুলি চালানো গাড়ি, অস্ত্রের ধরন এবং গুলিবিদ্ধের সময়ের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের তালিকা সংকুচিত করার কাজ চলছে।
সুরাইয়া বেগমের দায়ের পর, তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী অতিরিক্ত অভিযোগ বা দোষারোপের সম্ভাবনা রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাসেবক গোষ্ঠী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করেছে যে, গুলিবিদ্ধের পরপরই নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা উচিত।
অধিক তথ্য ও আপডেটের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা হবে।



