20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকাতারে ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রাক্তন কর্মকর্তা পূর্ণেন্দু তিওয়ারি পুনরায় গ্রেফতার

কাতারে ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রাক্তন কর্মকর্তা পূর্ণেন্দু তিওয়ারি পুনরায় গ্রেফতার

কাতারের আদালতের রায়ের পর গত ডিসেম্বর মাসে পূর্ণেন্দু তিওয়ারি, যিনি ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রাক্তন কর্মকর্তা, আবার গ্রেফতার হয়েছেন। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, তিওয়ারি এবং তার পরিবারকে কাতারের দূতাবাসের কমান্ডার নিয়মিতভাবে যোগাযোগ রাখছেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অতিরিক্ত মন্তব্য করা উপযুক্ত নয়।

তিওয়ারি ২০২২ সালের আগস্টে কাতারের গোয়েন্দা সংস্থা দ্বারা আটজন প্রাক্তন ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তার সঙ্গে একসঙ্গে গ্রেফতার হন। ওই সময়ে তারা কাতারের একটি বেসরকারি সংস্থা, দাহরা গ্লোবাল টেকনোলজিসে কর্মরত ছিলেন। গ্রেফতারের পর মিডিয়ায় প্রকাশ পায় যে এই কর্মকর্তারা ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করছিলেন।

কাতারের আদালত ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে আটজনকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয়। তবে ভারত সরকারের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ সকলকে দোষমুক্ত করে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তির পর নৌবাহিনীর সাতজন প্রাক্তন কর্মকর্তা ভারত ফিরে আসেন, তবে তিওয়ারি এখনও কাতারে আটক আছেন।

পূর্ণেন্দু তিওয়ারি মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের বাসিন্দা। তার বোন সামাজিক মাধ্যমে এবং প্রকাশ্যভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং নৌবাহিনীর প্রধানকে মানবিক কারণে তিওয়ারিকে তৎক্ষণাৎ মুক্তি এবং ভারতে ফেরত আনার আবেদন জানিয়েছেন। তবে কাতারের আদালতের রায়ের পর পুনরায় গ্রেফতার হওয়ায় এই আবেদনগুলো এখনো ফলপ্রসূ হয়নি।

মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান। কাতারের বিচারিক কর্তৃপক্ষের পরবর্তী রায় বা শুনানির তারিখ এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানানো হয়েছে যে মামলাটি সম্পূর্ণভাবে বিচারাধীন থাকবে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, কাতারের দূতাবাস তিওয়ারি এবং তার পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক সমর্থন প্রদান করছে।

এই ঘটনার পটভূমিতে ২০২২ থেকে চলমান গোয়েন্দা তদন্তের ধারাবাহিকতা রয়েছে, যেখানে ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের কাতারের গোপনীয় তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। যদিও পূর্বে মৃত্যুদণ্ডের রায় পরিবর্তন হয়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তিওয়ারির পুনরায় গ্রেফতার কাতারের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের জটিলতা উন্মোচন করে।

অধিকন্তু, কাতারের বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন, এমন ধরনের গুপ্তচরবৃত্তি মামলায় আইনি প্রক্রিয়া এবং মানবিক দিক উভয়ই সমানভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিওয়ারির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা কাতারের আদালতের পরবর্তী রায়ের ওপর নির্ভরশীল।

সামগ্রিকভাবে, পূর্ণেন্দু তিওয়ারির পুনরায় গ্রেফতার কাতার-ভারত সম্পর্কের সংবেদনশীল মুহূর্তকে চিহ্নিত করে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। মামলাটির পরবর্তী অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য রায়ের ফলাফল আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টিতে থাকবে, তবে বর্তমানে তিওয়ারি এবং তার পরিবার কাতারের বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments