যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকার এবং বাংলাদেশ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের মধ্যে ৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটন সফরের সময় ভিসা বন্ড নীতির সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি বিষয়ক বিষয়গুলোও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।
হুকার এই সাক্ষাতে উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশি ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের জন্য স্বল্পমেয়াদি বি১ ভিসা বন্ডের শর্তাবলি পুনর্বিবেচনা করতে পারে। তিনি বলেন, যদি পর্যটকদের অতিরিক্ত সময় দেশে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে, তবে বর্তমান বন্ড নীতি পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে।
খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্যের আমদানি বাড়ানোর সম্ভাবনা তুলে ধরে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে কৃষি পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উভয় দেশের ব্যবসায়িক সংযোগ শক্তিশালী করার জন্য ভিসা প্রক্রিয়ার সহজীকরণ প্রয়োজন।
বাণিজ্যিক সুযোগের পাশাপাশি, খলিলুর রহমান বাংলাদেশি ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের জন্য বি১ ভিসা বন্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি যুক্তি দেন, স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক সফরগুলোতে বন্ডের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করলে উভয় দেশের অর্থনৈতিক মিথস্ক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে।
হুকার এই অনুরোধকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো এই প্রস্তাবটি বিশদভাবে পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে নীতিগত পরিবর্তন করা সম্ভব।
বন্ড নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা সম্পর্কে হুকার আরও জানান, পর্যটকদের অতিরিক্ত সময় দেশে থাকার হার কমে গেলে, যুক্তরাষ্ট্র ভিসা বন্ডের বর্তমান শর্তাবলি পুনরায় বিবেচনা করতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, ভিসা নীতি ও পর্যটন প্রবাহের মধ্যে সরাসরি সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া হয়।
অধিকন্তু, হুকার বাংলাদেশি অনিবন্ধিত নাগরিকদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের সমন্বয় উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং মন্ত্রী গোলাম মোর্তুজা জানান, একই দিনে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এই বৈঠকে দুই দেশের কূটনৈতিক ও কৌশলগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়।
কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে আসন্ন বাংলাদেশি জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশ্নগুলোও আলোচনার অংশ ছিল। উভয় পক্ষই নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
সেই দিনই বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খলিলুর রহমান। শপথ গ্রহণের পর, নতুন দূতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়।
বৈঠকের মূল বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, দুই দেশের বাণিজ্যিক লেনদেনের সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত ছিল। হুকার ও কাপুর উভয়ই এই বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও সহযোগিতা নিশ্চিত করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারির সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে নির্বাচনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিশদ তথ্য প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমর্থন অপরিহার্য।
এই আলোচনার ফলস্বরূপ, উভয় দেশই ভবিষ্যতে ভিসা নীতি, বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করেছে। বিশেষ করে, স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক ভিসা বন্ডের শর্তাবলি পুনর্বিবেচনা হলে বাংলাদেশি ব্যবসায়িকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বাধা হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি, ভিসা নীতি, বাণিজ্যিক সুযোগ এবং নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে পারস্পরিক সমঝোতা গড়ে তোলার ভিত্তি স্থাপন করেছে।



