প্রযোজক সজিদ নাদিয়াদওয়ালা এবং পরিচালক বিশাল ভড়ঝা ২০২৬ সালের অন্যতম প্রত্যাশিত চলচ্চিত্র ‘ও’ রোমিও’র প্রথম দৃশ্য প্রকাশ করেছেন। ছবিটি বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে গড়া একটি অন্ধকার প্রেমের কাহিনী, যা দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
‘ও’ রোমিও’তে শাহীদ কাপুর এবং ত্রিপ্তি দিম্রিরা প্রধান চরিত্রে অভিনয় করবেন। দুই অভিনেতার চরিত্র একে অপরের প্রতি অনুপযুক্ত প্রেমে জর্জরিত, যা গল্পের মূল চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়। তাদের সম্পর্কের জটিলতা এবং অমীমাংসিত আবেগের পরিণতি ছবির মূল থিম গঠন করে।
শাহীদ কাপুরের বিশাল ভড়ঝার সঙ্গে পুনর্মিলন এই ছবিটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। পূর্বে ‘মিলি’ এবং ‘ওয়াটার’ মত প্রকল্পে দুজনের সহযোগিতা সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছিল, আর এবার তাদের পুনরায় একসঙ্গে কাজ করা দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশাল ভড়ঝা তার স্বতন্ত্র বর্ণনাশৈলীর জন্য পরিচিত; তিনি কাঁচা অনুভূতি, জটিল চরিত্র এবং নৈতিক দ্বিধা মিশ্রিত করে গল্পকে গভীরতা দেন। ‘ও’ রোমিও’তে তিনি প্রেম ও প্রতিশোধের মিশ্রণকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চিত্রের কাস্টে নানা পাটেকর, অবিনাশ তিওয়ারি, দিশা পাটানি, ফারিদা জালাল, আরুনা ইরানি, বিক্রান্ত মেসি এবং তামান্না ভাটিয়া সহ একাধিক পরিচিত নাম অন্তর্ভুক্ত। প্রত্যেক শিল্পী তাদের নিজস্ব স্বতন্ত্র শক্তি দিয়ে ছবির বর্ণনায় রঙ যোগ করবেন।
নানা পাটেকর ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন, তার অভিজ্ঞতা ও তীব্র অভিনয় শৈলী গল্পের গম্ভীর স্বরকে সমর্থন করবে। অবিনাশ তিওয়ারি তরুণ চরিত্রে নতুন দৃষ্টিকোণ নিয়ে আসবেন, যা কাহিনীর গতিপথে নতুন মোড় যোগ করবে।
দিশা পাটানি তার স্বতন্ত্র ক্যারিশমা দিয়ে প্রধান চরিত্রের সঙ্গে জটিল সম্পর্কের সূক্ষ্মতা প্রকাশ করবেন। ফারিদা জালাল এবং আরুনা ইরানি বয়স্ক চরিত্রে অভিজ্ঞতার ছাপ রেখে গল্পের গভীরতা বাড়াবেন।
বিক্রান্ত মেসি আধুনিক যুবকের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রেমের অন্ধকার দিকগুলোকে তুলে ধরবেন, যা দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। তামান্না ভাটিয়া বিশেষ উপস্থিতিতে ছবিতে চমক যোগ করবেন, যা দর্শকের প্রত্যাশা বাড়াবে।
প্রথম দৃশ্যের ভিজ্যুয়াল টোন গাঢ় ও মর্মস্পর্শী, যা প্রেমের অতিরিক্ত তীব্রতা, ক্ষতি এবং প্রতিশোধের থিমকে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করে। ছবির রঙের প্যালেট এবং ক্যামেরা কাজের মাধ্যমে অশান্তি ও আকাঙ্ক্ষার মিশ্রণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এই দৃশ্যের প্রকাশের পর দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল বাড়ে, কারণ এটি রোমান্সের বাইরে গিয়ে আসক্তি, ক্ষতি এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন উত্থাপন করে। ছবির গম্ভীর পরিবেশ এবং জটিল চরিত্রের গঠন ভবিষ্যতে বড় আলোচনার বিষয় হতে পারে।
‘ও’ রোমিও’কে একটি রিভেঞ্জ রোম্যান্স হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে প্রেমের ব্যথা এবং প্রতিশোধের তীব্রতা একসাথে মিশে আছে। বিশাল ভড়ঝার স্বতন্ত্র শৈলী এই ধারাকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করবে, যা দর্শকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হতে পারে।
প্রযোজক সজিদ নাদিয়াদওয়ালা ছবির উৎপাদন ও প্রচারকে সর্বোচ্চ মাত্রায় চালিয়ে যাচ্ছেন, এবং চলচ্চিত্রটি ২০২৬ সালের শীর্ষ রিলিজের তালিকায় স্থান পেয়েছে। শিল্পের অভ্যন্তরে এবং বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই এই প্রকল্পের প্রতি উচ্চ প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে।
‘ও’ রোমিও’ দর্শকদেরকে গভীর আবেগের স্রোতে ডুবিয়ে রাখবে, যেখানে প্রেম, ক্ষতি এবং প্রতিশোধের মিশ্রণ এক অনন্য সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর সমালোচক ও সাধারণ দর্শকের কাছ থেকে সমানভাবে প্রশংসা পেতে পারে, এটাই এখন পর্যন্ত উপলব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে অনুমান।



