টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধন মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে, এবং পুরো টুর্নামেন্টের সময়সীমা এক মাসের কমে। অংশগ্রহণকারী সব দল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তবে বাংলাদেশের দল এখনও তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসিকে দ্বিতীয়বার চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছে যে, তারা ভারতভিত্তিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে না পারার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভ্রমণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উদ্বেগের কারণে দলটি ভারত থেকে দূরে থাকতে চাইছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এর সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া মিডিয়ার সামনে এ বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানিয়েছেন যে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিসিসিআই বৈঠকে বাংলাদেশি দলের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত কোনো আলোচনা হয়নি।
বৈঠকের সময় সাংবাদিকরা সরাসরি জিজ্ঞাসা করেন, বাংলাদেশি ম্যাচগুলোকে ভারতের বাইরে সরানোর জন্য আইসিসির কাছে কোনো অনুরোধ করা হয়েছে কি না। সাইকিয়া স্পষ্ট করে বলেন যে, সেই প্রশ্নটি বৈঠকের এজেন্ডায় ছিল না।
বৈঠকের মূল বিষয় ছিল সেন্টার অব এক্সিলেন্সের উন্নয়ন এবং অন্যান্য ক্রিকেট সংক্রান্ত বিষয়। তিনি যোগ করেন, এই সভা কেবলমাত্র অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রীভূত ছিল, কোনো দলীয় অংশগ্রহণের বিষয় আলোচিত হয়নি।
সাইকিয়া আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশি দলটি ভারত থেকে দূরে খেলবে কিনা, তা আইসিসির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল এবং তা বিসিসিআইর আলোচনার বিষয় নয়। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও ভেন্যু সংক্রান্ত বিষয়গুলোই প্রধান দৃষ্টিভঙ্গি।
একই সময়ে, সাইকিয়া জানিয়ে দেন যে, বিসিসিআই কর্তৃক মুস্তাফিজুর রহমানকে দলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি প্রথমবার তিনি প্রকাশ করেন এবং তা তৎক্ষণাৎ মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করে।
মুস্তাফিজুরের বাদ পড়া নিয়ে ক্রিকেট সমুদায়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। কিছু বিশ্লেষক এই সিদ্ধান্তকে ক্রীড়া ভিত্তিক বলে সমর্থন করেন, আবার অন্যরা রাজনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত দেখেন। বিতর্ক এখনো থেমে যায়নি।
আইসিসি এখনও বাংলাদেশি দলের অংশগ্রহণ ও ম্যাচের ভেন্যু নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি। তাই দলটি কীভাবে এবং কোথায় খেলবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো তাদের প্রশিক্ষণ শিবির চালিয়ে যাচ্ছে এবং কিছু দল ইতিমধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচে অংশ নিয়েছে। এই প্রস্তুতি দলগুলোর পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের অনিশ্চয়তা দেশের ক্রিকেট বোর্ডকে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে ফেলেছে। ভ্রমণ, নিরাপত্তা এবং লজিস্টিক্সের সব দিকই পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে।
বিশ্বকাপের সূচি বর্তমানে অপরিবর্তিত রয়েছে; প্রথম ম্যাচগুলো ভারতের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হবে। এই সূচি অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের প্রথম সপ্তাহে বেশ কয়েকটি উচ্চপ্রোফাইল ম্যাচ নির্ধারিত।
ফ্যান এবং বিশ্লেষকরা এই বিকাশগুলোকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি ভক্তরা দলটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন।
বিসিসিআইয়ের এই অবস্থান দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনার প্রতিফলন। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্রীড়া ক্ষেত্রেও সমন্বয় কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে, টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ হিসেবে ভারতের দায়িত্ব বজায় রাখতে হবে এবং সকল অংশগ্রহণকারী দলের জন্য ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক শাসন সংস্থা আইসিসি এখনো সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে টুর্নামেন্টের লজিস্টিক্স ও সময়সূচি পুনর্বিন্যাস হতে পারে।
বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের পরবর্তী পদক্ষেপগুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে। তারা আইসিসির সঙ্গে সমন্বয় করে স্পষ্টতা চাইবে এবং সম্ভাব্য বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করবে।
যদি বাংলাদেশি দল শেষ পর্যন্ত ভারত থেকে দূরে খেলতে বাধ্য হয়, তবে টুর্নামেন্টের অন্যান্য দেশীয় ভেন্যুতে ম্যাচের ব্যবস্থা করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।
সারসংক্ষেপে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি তীব্র, কিন্তু বাংলাদেশি দলের অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। বিসিসিআই এবং আইসিসি উভয়েরই এই বিষয়টি সমাধান করতে হবে, যাতে টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত হয়।
এই অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, বিশ্বকাপের শুরুর তারিখ নিকটে আসছে এবং ক্রিকেটপ্রেমীরা উত্তেজনা ও প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছে।



