অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ব্যাটসম্যান ট্র্যাভিস হেড, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (CA) এর ঘোষণার পর তৃতীয় বছর ধারাবাহিকভাবে বিগ বাস্কেটবল লিগ (বিবিএল) এ অংশ নেবে না। তিনি আগামী মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি২০ বিশ্বকাপের জন্য বিশ্রাম ও প্রস্তুতি নিতে চান।
হেডের এই সিদ্ধান্তের পেছনে অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক টেস্ট ক্যালেন্ডার এবং দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব রয়েছে। তিনি অশেস সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার ৪-১ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যেখানে পাঁচটি টেস্টে ৬২৯ রান করে সিরিজের শীর্ষ স্কোরার হন।
বিবিএল থেকে দূরে থাকলেও হেডের ফর্ম অশেসের পরেও বজায় রয়েছে। তার বামহাতি স্টাইল ও ধারাবাহিকতা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে শক্তিশালী করে তুলেছে, যা বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে কাজে লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, অল-রাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনও এই মৌসুমে বিবিএল এ না খেলায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনটি টেস্টে অংশগ্রহণের পর ব্যাকের বড় সার্জারির পর পুনরুদ্ধার পর্যায়ে আছেন, এবং কোনো বিবিএল চুক্তি না থাকায় পুরো মনোযোগ তার ফিটনেসে কেন্দ্রীভূত।
প্যাট কমিন্স (পিঠের আঘাত) ও জোশ হ্যাজলউড (হ্যামস্ট্রিং) সম্পর্কে বোর্ডের কোনো বিশদ বিবরণ না দিলেও, দুজনই বিশ্বকাপের আগে সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি নেওয়া হবে না বলে অনুমান করা হচ্ছে।
CA-র জাতীয় দল ব্যবস্থাপক বেন অলিভার উল্লেখ করেন, “পাঁচ টেস্টের অশেস সিরিজ অত্যন্ত কঠিন, তাই প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য আলাদা পুনরুদ্ধার ও প্রস্তুতির পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “যদি সম্ভব হয়, খেলোয়াড়রা আসন্ন দুই সপ্তাহে বিবিএল-এ অংশ নিতে পারবে, তবে প্রধান লক্ষ্য টি২০ বিশ্বকাপের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করা।”
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার কিছু খেলোয়াড়ের জন্য বিবিএল-এ সীমিত অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে, তবে তা সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের অবস্থা ও কোচিং স্টাফের পরামর্শের ওপর নির্ভরশীল।
অস্ট্রেলিয়া টি২০ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় শিরোপা অর্জনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটি গ্রুপ বি-তে আইরল্যান্ডের মুখোমুখি হবে, এবং প্রথম ম্যাচটি কলম্বোর রাজধানী কোলোম্বোতে ১১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
গ্রুপ বি-তে আইরল্যান্ডের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়া অস্ট্রেলিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হবে, কারণ শুরুর ম্যাচে জয় পেলে টুর্নামেন্টের বাকি ধাপগুলোতে আত্মবিশ্বাস বাড়বে।
অস্ট্রেলিয়ার কোচিং স্টাফ বলছেন, টিমের ফিটনেস, ফিল্ডিং ও ব্যাটিং রোস্টারকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এখনই অগ্রাধিকার। তারা অশেসের পরের বিশ্রামকালকে ব্যবহার করে খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা পুনরুদ্ধার এবং টি২০ ফরম্যাটের জন্য কৌশলগত পরিবর্তন করতে চান।
সারসংক্ষেপে, ট্র্যাভিস হেড ও ক্যামেরন গ্রিনের বিবিএল থেকে অনুপস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর জোর দিয়ে দলটি আগামী ফেব্রুয়ারিতে কলোম্বোতে আইরল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে প্রবেশ করবে, এবং বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত শীর্ষ পারফরম্যান্সের লক্ষ্য রাখবে।



