বোলিউডের ২০২৬ সালের প্রত্যাশিত ছবির মধ্যে অন্যতম নাগঝিলা, এবার রবী কিশনকে প্রধান বিরোধী চরিত্রে দেখা যাবে। প্রধান নায়ক হিসেবে কার্তিক আর্যন এই রূপান্তরশীল নাগের ভূমিকায় রইবেন, আর কিশনের উপস্থিতি ছবির গল্পে নতুন মোড় আনবে।
নাগঝিল্লা একটি ফ্যান্টাসি-অ্যাকশন চলচ্চিত্র, যেখানে কার্তিক আর্যন এক শেপ-শিফটিং সাপের রূপে দর্শকের সামনে আসবেন। এই ধারণা চলচ্চিত্রকে ভয়েস-ইফেক্ট ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের সমন্বয়ে বিশেষ করে তুলেছে, যা দর্শকের কল্পনাকে উড়িয়ে দেবে।
চলচ্চিত্রটি গত বছরই ঘোষণা করা হয়েছিল এবং স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সময়, ১৪ই আগস্ট, মুক্তি পাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পোস্ট-প্রোডাকশন কাজের জটিলতা এবং ভিএফএক্সের পরিমাণের কারণে মুক্তির তারিখটি এখন বছরের পরবর্তী সময়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নাগঝিল্লার দায়িত্বে আছেন মৃগদীপ সিং লাম্বা, যিনি ফুকরেয় সিরিজের মাধ্যমে পরিচিতি অর্জন করেছেন। ছবির উৎপাদনে কেরান জোহরের ধর্মা প্রোডাকশনস এবং মহাবীর জৈন ফিল্মস যুক্ত হয়েছে, যা দু’টি বড় নামের সমন্বয়কে নির্দেশ করে।
এই প্রকল্পটি কার্তিক আর্যন ও মহাবীর জৈনের প্রথম যৌথ কাজ, তেমনি মহাবীর জৈন ও কেরান জোহরের প্রথম সহযোগিতা। কার্তিক আর্যনের সঙ্গে কেরান জোহরের দ্বিতীয় চলচ্চিত্রটি হবে এই, যা তাদের পূর্বের ‘তু মেরি মেইন তেরা মেইন তেরা’ এর পরের ধারাবাহিকতা।
রবী কিশন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘লাপাটা লেডিস’ (২০২৪), ‘মামলা লিগ্যাল হাই’ (২০২৪) এবং ‘সন অফ সর্দার ২’ (২০২৫) মত ছবিতে সফল পারফরম্যান্স দিয়ে নিজের অবস্থান মজবুত করেছেন। তার অভিজ্ঞতা এবং শক্তিশালী উপস্থিতি এই রকম জটিল বিরোধী চরিত্রে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়েছে।
কিশন এই প্রকল্পে যোগ দিতে উচ্ছ্বসিত, এবং তিনি যে চরিত্রটি পাবেন তা তার জন্য বিশেষভাবে লিখিত বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। চরিত্রের গভীরতা ও সূক্ষ্মতা তাকে আকৃষ্ট করেছে, যা তার অভিনয়কে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কার্তিক আর্যন ও রবী কিশনের মধ্যে দৃশ্যগুলোকে বিশেষ দৃষ্টিতে দেখা হবে। দুই অভিনেতার পারস্পরিক ক্রিয়া ও তীব্রতা ছবির মূল আকর্ষণ হিসেবে উঠে আসবে, যা দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে।
শুটিং কাজটি কয়েক মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। বর্তমানে প্রধান শুটিং পর্যায়ে রয়েছে, এবং প্রধান লোকেশনগুলোতে কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
চিত্রটির ভিএফএক্স কাজের পরিমাণ বেশি হওয়ায় পোস্ট-প্রোডাকশন সময়সীমা দীর্ঘ হবে। বিশেষ প্রভাব, ডিজিটাল রেন্ডারিং এবং সাউন্ড ডিজাইনের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন, যা ছবির গুণগত মান নিশ্চিত করবে।
প্রযোজক ও প্রধান অভিনেতা উভয়ই কাজের গতি ত্বরান্বিত না করে যথাযথ সময়ে নিখুঁত ফলাফল অর্জনের ওপর জোর দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, এই চলচ্চিত্রটি একটি বিশেষ প্রকল্প, যা দর্শকের কাছে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা তাদের অগ্রাধিকার।
নাগঝিল্লা ভিজ্যুয়াল স্পেকট্যাকল এবং শক্তিশালী গল্পের সমন্বয় ঘটাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দর্শকরা রূপান্তরশীল নাগের রোমাঞ্চকর যাত্রা এবং বিরোধীর সঙ্গে তার সংঘর্ষের অপেক্ষায় রয়েছেন।
সামগ্রিকভাবে, রবী কিশনের নতুন ভূমিকায় যোগদান এবং ভিএফএক্স-সমৃদ্ধ এই প্রকল্পটি বোলিউডের আসন্ন বড় হিটের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ছবির মুক্তি হলে এটি দর্শকের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে, এবং উভয় অভিনেতার পারফরম্যান্সের প্রশংসা পাবে।



