20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমার্কো রুবিও ও ড্যানিশ কর্মকর্তারা গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করবেন

মার্কো রুবিও ও ড্যানিশ কর্মকর্তারা গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করবেন

মার্কো রুবিও, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব, আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে বৈঠক করবেন। গ্রিনল্যান্ড, ডেনমার্কের অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দাবি এবং ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসন নীতি দুইয়ের মধ্যে টানাপোড়েনের মুখে। এই বৈঠকের ফলাফল গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গ্রিনল্যান্ডের ভূগোলিক অবস্থান আর্কটিক ও আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যে, অধিকাংশ অংশ আর্কটিক বৃত্তের উপরে অবস্থিত। দ্বীপটি যুক্তরাজ্যের নয় গুণের চেয়ে বড়, তবে জনসংখ্যা মাত্র ৫৭,০০০, যার বেশিরভাগই ইনুইট জাতির অন্তর্ভুক্ত। রাজধানী নুক, দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত, যেখানে জনসংখ্যার কেন্দ্রীয় গোষ্ঠী বসবাস করে।

দ্বীপের প্রাকৃতিক দৃশ্য শীতল তুষার ও বরফে ঢাকা পর্বতমালা, ঝকঝকে ফিয়র্ড এবং বিশাল হিমবাহে পরিপূর্ণ, যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপের কারণে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে উদ্বেগের স্রোত দেখা দিচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষত বয়স্ক ও তরুণ শিল্পী, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক উপস্থিতি নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা প্রকাশ করছেন। একজন প্রবীণ ব্যক্তি তার লাঠি দিয়ে জোরে জোরে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা গ্রিনল্যান্ডের রাজধানীতে স্থাপন করা কখনোই স্বীকৃত হবে না। অন্য একজন মহিলা, যিনি নাম প্রকাশ না করে কথা বলছেন, ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা হস্তক্ষেপের পর গ্রিনল্যান্ডকে জোরপূর্বক দখল করার সম্ভাবনা নিয়ে “মৃত্যুর মতো ভয়” অনুভব করছেন।

২০-এর দশকের মাঝামাঝি বয়সী মৃৎশিল্পী পিলু চেম্নিটজও একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নীতিমালা নিয়ে “অত্যন্ত ক্লান্ত” বোধ করছেন এবং গ্রিনল্যান্ডের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন বজায় রাখতে চায়। ডেনমার্কের উপনিবেশিক ইতিহাসের ফলে সৃষ্ট আঘাতের কথা স্বীকার করে তিনি দেশীয় স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে চায়, তবে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেন।

সর্বশেষ সমীক্ষা অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের ৮৫% বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের দখলকে বিরোধিতা করেন এবং অধিকাংশই ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। তবু, ডেনমার্কের আর্থিক সহায়তা, বিশেষত সাবসিডি, গ্রিনল্যান্ডের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা স্বাধীনতার পথে কিছুটা দ্বিধা সৃষ্টি করে।

ডেনমার্কের সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে, গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোই মূল লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ডেনমার্কের প্রতিনিধিরা গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থ রক্ষা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সমন্বিত কৌশল প্রস্তাবের আশা করা হচ্ছে।

মার্কো রুবিওর ডেনমার্কের সঙ্গে বৈঠক গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে স্পষ্ট যে আন্তর্জাতিক শক্তির টানাপোড়েনের মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও নিরাপত্তা প্রশ্নের সমাধান খুঁজে বের করা হবে। এই আলোচনার পরবর্তী ধাপগুলোতে ডেনমার্কের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনা, গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত আইনগত পরিবর্তন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতির পুনর্মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দারা, যদিও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাসের অভ্যাসে অভ্যস্ত, তবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ঝড়ের মধ্যে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। এই উদ্বেগের সমাধান এবং গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments