পাকিস্তানকে সাম্প্রতিক অপারেশন সিঁদুরের পরিণতিতে সংবিধানিক পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে—এটি ভারতীয় সেন্ট্রাল ডিফেন্স স্টাফের জেনারেল অনিল চৌহান পুণের পাবলিক পলিসি ফেস্টিভ্যালে উল্লেখ করেন। চৌহান জানান, পাকিস্তান দ্রুত সংবিধান সংশোধন করে তার সামরিক কাঠামোতে ফাঁকগুলো মেরামত করেছে, যা পূর্বের যৌথ কমান্ডের নীতি থেকে বিচ্যুতি নির্দেশ করে। তিনি যুক্তি দেন, এই পরিবর্তনগুলো অপারেশন সিঁদুরের সময় উন্মোচিত দুর্বলতাগুলোর সরাসরি ফলাফল।
পুনে অনুষ্ঠিত ফেস্টিভ্যালে চৌহান উল্লেখ করেন, পাকিস্তান সম্প্রতি সংবিধানের ধারা ২৪৩-এ পরিবর্তন আনে। সংশোধনের মাধ্যমে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ বিলুপ্ত করা হয় এবং নতুনভাবে চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) পদ গঠন করা হয়। এই পদটি পূর্বে সমগ্র সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করত, তবে এখন তা শুধুমাত্র সেনাপ্রধানের (সিওএএস) অধীনে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
নতুন সংবিধানিক ধারা অনুযায়ী, সিডিএফের দায়িত্ব কেবলমাত্র সেনাপ্রধানের হাতে থাকবে, যা জয়েন্ট কমান্ডের মূলনীতির বিরোধী হিসেবে বিবেচিত হয়। চৌহান বলেন, এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের সামরিক কাঠামোকে একক শাখার উপর কেন্দ্রীভূত করে, ফলে যৌথ কমান্ডের সমন্বয়মূলক স্বভাব ক্ষীণ হয়ে যায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তান ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি কমান্ড এবং আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ড গঠন করে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণকে ত্বরান্বিত করেছে।
এই কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে সেনাপ্রধানের দায়িত্বের পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়বে। তিনি এখন কেবল স্থল অভিযান নয়, যৌথ অভিযান এবং পারমাণবিক বিষয়ের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বও গ্রহণ করবেন। চৌহান এই পরিবর্তনকে পাকিস্তানের সামরিক অগ্রাধিকারকে স্পষ্টভাবে প্রকাশকারী পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরণের সংবিধানিক সংশোধন সামরিক শাখার প্রভাব বাড়িয়ে দেয় এবং রাজনৈতিক সমতা হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করে।
পশ্চিমবঙ্গের পেহেলগাঁওতে গত বছরের ২২ এপ্রিল সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু ঘটার পর ভারত- পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি ত্বরান্বিত হয়। ওই ঘটনার পরপরই দুই দেশই সীমান্তে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেয়। ৭ মে পাকিস্তান ও ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে আক্রমণ চালায়, যার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানও ভারতের ভূখণ্ডে পাল্টা হামলা চালায়। এই পারস্পরিক আক্রমণ উভয় দেশের মধ্যে যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
পরিস্থিতি তীব্র হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় দুই দেশ শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষর করে। ট্রাম্পের উদ্যোগে গৃহীত এই চুক্তি সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমিয়ে দেয়, তবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চিত রয়ে যায়। চৌহানের মতে, পাকিস্তানের সংবিধানিক পরিবর্তনগুলো এই সংঘাতের পরবর্তী কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
ভবিষ্যতে পাকিস্তানের এই কাঠামোগত রূপান্তর কীভাবে ভারত- পাকিস্তান সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। একদিকে, সামরিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করবে; অন্যদিকে, সংবিধানিক পরিবর্তনগুলো পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্যকে পুনর্গঠন করতে পারে। উভয় দেশই এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি বজায় রাখতে এবং পারস্পরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়াতে হবে।
সারসংক্ষেপে, অপারেশন সিঁদুরের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান সংবিধান সংশোধন করে তার সামরিক কাঠামোকে একক শাখার উপর কেন্দ্রীভূত করেছে, যা ভারতের সিডিএসের মতে যৌথ কমান্ডের নীতি থেকে বিচ্যুতি ঘটায়। এই পরিবর্তনগুলো কেবল সামরিক অগ্রাধিকারকে জোরদারই করে না, বরং দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করে। ভবিষ্যতে এই কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রভাব কেমন হবে, তা নির্ভর করবে উভয় দেশের কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের ওপর।



