মদ্রাস হাইকোর্ট শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ‘জানী নায়ক’ ছবির নির্মাতাদের পক্ষে রায় দিয়ে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC)‑কে ইউ/এ ১৬+ সার্টিফিকেট প্রদান করার নির্দেশ দেয়। এই রায়ের পর CBFC তৎক্ষণাৎ আপিল করে এবং পুনঃপর্যালোচনার দাবি জানায়, ফলে আদালত পূর্বের আদেশটি স্থগিত করে।
আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে যে, ছবির প্রকাশের তারিখ নিয়ে নির্মাতারা অতিরিক্ত জরুরিতা তৈরি করে থাকতে পারে, যা বিচারিক প্রক্রিয়ায় অনিচ্ছাকৃত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা ও সিদ্ধান্তের জন্য পরবর্তী শুনানি ২১ জানুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে, ফলে ছবির এই মাসের মধ্যে থিয়েটারে প্রদর্শন হবে কিনা এখনো অনিশ্চিত।
বহুবার উল্লেখিত হয়েছে যে, ছবির প্রযোজক ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সার্টিফিকেশন আবেদন জমা দিয়েছিলেন। আবেদনপত্রের পরপরই ১৯ ডিসেম্বর ছবিটি এক্সামিনিং কমিটিতে উপস্থাপন করা হয়, যেখানে কমিটি ঐক্যমতের ভিত্তিতে ইউ/এ ১৬+ রেটিং প্রস্তাব করে, তবে কিছু পরিবর্তনের শর্তে।
প্রযোজকরা কমিটির সুপারিশ অনুসারে সংশোধনী কাজ সম্পন্ন করে এবং ২৪ ডিসেম্বর ফর্ম IX জমা দেন, যেখানে কাটা অংশগুলোর যাচাইয়ের রেকর্ড সংযুক্ত থাকে। এই পর্যায়ে ছবিটি প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত বলে ধারণা করা হয়েছিল।
তবে ৫ জানুয়ারি CBFC প্রযোজকদের জানায় যে, ‘কোম্পিটেন্ট অথরিটি’ ছবিটিকে রিভাইজিং কমিটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে, যেখানে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও সশস্ত্র বাহিনীর চিত্রায়ন নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে।
অভিযোগকারী দল দাবি করে যে, ছবিতে এমন দৃশ্য ও সংলাপ রয়েছে যা বিদেশি শক্তি দ্বারা বৃহৎ ধর্মীয় সংঘাতের উস্কানির ইঙ্গিত দেয়। তারা বলেন, এ ধরনের বিষয়বস্তু সামাজিক সাদৃশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ধর্মীয় সাদৃশ্য বজায় রাখতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
অভিযোগের আরেকটি মূল দিক হল ছবিতে সেনাবাহিনীর উল্লেখের সংখ্যা এবং সেসব উল্লেখের প্রেক্ষাপট। অভিযোগকারী উল্লেখ করেন যে, সেনা বিষয়ক বিষয়বস্তু সঠিকভাবে উপস্থাপন করার জন্য কোনো প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞকে এক্সামিনিং কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এছাড়াও, ছবিতে জাতীয় পতাকার ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আদালতের আদেশে দেখা যায় যে, জাতীয় পতাকার দৃশ্যটি পূর্বে কেটে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তবে তা এখনও সম্পূর্ণভাবে সরানো হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে CBFC রিভাইজিং কমিটিতে ছবিটিকে পুনরায় মূল্যায়নের জন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে, পূর্বে দেওয়া ইউ/এ ১৬+ রেটিং এখনো চূড়ান্ত নয় এবং ছবির চূড়ান্ত সার্টিফিকেশন নির্ধারিত হতে বাকি রয়েছে।
প্রযোজকরা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত কাটছাঁট ও সংশোধনী কাজ করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন, যাতে রিভাইজিং কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়। তবে এই অতিরিক্ত পরিবর্তনগুলো ছবির মূল কাহিনীতে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
মদ্রাস হাইকোর্টের রায় স্থগিত হওয়ায়, চলচ্চিত্রের মুক্তির সময়সূচি পুনরায় নির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সিনেমা প্রেমিকদের জন্য এই অনিশ্চয়তা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ ‘জানী নায়ক’ ছবিটি বড় স্ক্রিনে দেখার জন্য বহু দর্শকের প্রত্যাশা রয়েছে।
বিনোদন শিল্পের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের সার্টিফিকেশন বিরোধ চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সাফল্য ও প্রচার কৌশলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। রিভাইজিং কমিটির চূড়ান্ত রায়ের পরই ছবির মুক্তির পরিকল্পনা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।
সারসংক্ষেপে, ‘জানী নায়ক’ ছবির সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া এখনো রিভাইজিং কমিটির পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে, এবং আদালতের পরবর্তী শুনানি ২১ জানুয়ারিতে নির্ধারিত। ছবির মুক্তি ও রেটিং সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় শিল্পের সকল অংশীদার অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।



