শুক্রবার রাতের পরেই, শনিবার সকাল ১১টায়, ঢাকা শহরের বনানী হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে এক বিশেষ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। দুই সপ্তাহ আগে দেশে ফিরে আসা বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান, দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন। এই অনুষ্ঠানটি দলের প্রধানের প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ প্রদান করে।
সমাবেশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। উপস্থিতির তালিকায় জাতীয় দৈনিক, রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদ সংস্থা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সম্পাদক ও সাংবাদিকরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করা। উপস্থিতিরা একে অপরকে স্বাগত জানিয়ে, রাজনৈতিক পরিবেশে মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, বহু বছর পর দলনেতা তারেক রহমানের প্রথমবারের মতো দেশের গণমাধ্যমের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ হয়। তিনি বলেন, এই ধরনের সরাসরি যোগাযোগের অভাবের পর এখন দল ও মিডিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার সময় এসেছে। আলমগীরের মতে, এই সমাবেশটি দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি ও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তারেক রহমানের এই সফরটি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার পরপরই ঘটে। তিনি যুক্তরাজ্যে এক দশকেরও বেশি সময়ের নির্বাসন শেষে, ২৫ ডিসেম্বর পুরো পরিবারসহ দেশে ফিরে আসেন। তবে, ফিরে আসার মাত্র পাঁচ দিন পর, ৩০ ডিসেম্বর তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান। এই দু’টি ঘটনার পর, শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারপার্সন ঘোষণা করা হয়।
এই সময়ে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি নতুন দিকনির্দেশনা গ্রহণের চেষ্টা করছে। সম্পাদকদের সঙ্গে এই সাক্ষাৎটি মিডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার পাশাপাশি, দলের নীতি ও কৌশলকে জনসাধারণের সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা এই সমাবেশকে দলের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে স্বীকার করছেন, তবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা অব্যাহত থাকবে বলে ইঙ্গিত দেন।
সমাবেশের পর, উপস্থিত সাংবাদিকরা দল ও মিডিয়ার ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তারা আশা করেন, এই ধরনের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক তথ্যের প্রবাহ স্বচ্ছ হবে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্ববোধ আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি দেখা যাবে, যেখানে দলনেতা ও মিডিয়া উভয়ই জনমত গঠনে সমান ভূমিকা পালন করবে।



