চট্টগ্রাম রাইডারসের ২০২৬ বি.পি.এল. অভিযানে দলটির ক্যাপ্টেন মেহেদি হাসান প্রথম ম্যাচ থেকেই বলিং বিভাগকে দলের শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। টুর্নামেন্টের শুরুর পর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে বলিংয়ের গুণগত মানের ওপর জোর দিয়েছেন, আর তার কথারই প্রমাণ দলটির বোলাররা দিচ্ছেন।
বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারী। সাতটি ম্যাচে তিনি ১৩টি উইকেট নেন, ওভারপ্রতি গড় রান ৬.৯২, এবং পাওয়ারপ্লে ও ডেথ ওভারে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বোলিং করেন। তার এই পারফরম্যান্স দলকে মাঝারি ও শেষ ওভারে চাপ বজায় রাখতে সহায়তা করছে।
বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম ১০টি উইকেটের মাধ্যমে দলের স্পিন আক্রমণকে শক্তিশালী করেছেন। তার ইকোনমি ৬.৭১, যা টুর্নামেন্টের গড়ের তুলনায় বেশ কার্যকর। তানভীরের সঙ্গে ক্যাপ্টেন মেহেদি, যিনি অফ-স্পিনার, মিলিয়ে ৭টি উইকেট নেন; দুজনই নতুন বল ও পুরোনো বল উভয়ই ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে লাইন ও লেংথ বজায় রাখেন।
পাকিস্তানের অল-রাউন্ডার আমের জামাল টুর্নামেন্টে পাঁচটি ম্যাচে ১০টি উইকেট নেন, যা দলের বোলিং গভীরতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার পাশে পেসার মুকিদুল ইসলাম, আবু হায়দার রনি এবং পাকিস্তানি স্পিন অল-রাউন্ডার হাসান নেওয়াজের সমর্থন রয়েছে, যারা প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ওভার সম্পন্ন করেন। যদিও দলের বিকল্পের সংখ্যা সীমিত, তবে উপস্থিত খেলোয়াড়রা প্রত্যেকেই কার্যকর পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন।
বিপিএলের শীর্ষ রানসংগ্রাহক হিসেবে চট্টগ্রামের ওপেনার অ্যাডাম রসিংটন আছেন। ছয়টি ম্যাচে তিনি তিনটি পঞ্চাশের ইনিংস এবং একটি ৪৯ রানের ইনিংসের মাধ্যমে মোট ২৫৮ রান সংগ্রহ করেছেন, যার স্ট্রাইক রেট ১৩৯.২৫। নেপাল প্রিমিয়ার লিগে গত বছরের নভেম্বর মাসে তিনি সর্বোচ্চ স্কোর অর্জন করায় এই ফর্মটি চট্টগ্রামের জন্য ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে কাজ করেছে।
পঞ্চম সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকও চট্টগ্রামেরই। বাঁহাতি ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম সাতটি ম্যাচে দুটি পঞ্চাশের ইনিংসের মাধ্যমে ১৯৭ রান করেছেন, স্ট্রাইক রেট ১৩৫.৮৪। রসিংটন ও নাঈমের যৌথ প্রচেষ্টায় ছয়টি ইনিংসে দুটি শতকোটি জোড়া গড়ে উঠেছে, যা ডানহাতি-বাঁহাতি ওপেনিং পার্টনারশিপকে টুর্নামেন্টে অন্যতম শক্তিশালী করে তুলেছে। ব্যাটিংয়ে তাদের পাশে মাহমুদুল হাসান, হাসান নেওয়াজ এবং ক্যাপ্টেন মেহেদি নিয়মিত সমর্থন দিচ্ছেন।
ক্যাপ্টেন মেহেদি নিজেও টুর্নামেন্টে উল্লেখযোগ্য ব্যাটিং পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পাঁচটি ইনিংসে তিনি ১০১ রান সংগ্রহ করেছেন, যার স্ট্রাইক রেট ১৬৮ এবং গড় ৩৩.৬৬। তার এই ব্যাটিং অবদান দলকে মাঝারি ও শেষ ওভারে অতিরিক্ত রনের বিকল্প প্রদান করেছে, যা তার বোলিং দক্ষতার সঙ্গে মিলিয়ে তাকে দলের সবচেয়ে মূল্যবান সব-দিকের খেলোয়াড় করে তুলেছে।
মেহেদি হাসানের বোলিং দক্ষতা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশ দলের অন্যতম শীর্ষ বোলার হিসেবে স্বীকৃত। এই টুর্নামেন্টে তিনি ওভারপ্রতি গড় ৬.৮৫ দিয়ে ৭টি উইকেট নিয়েছেন, যা তার ধারাবাহিকতা ও নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ। তার বোলিং ও ব্যাটিং উভয় দিকের সমন্বয় চট্টগ্রামকে টুর্নামেন্টের শীর্ষে রাখার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
সামগ্রিকভাবে, চট্টগ্রাম রাইডারসের সাফল্য মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে: শীর্ষ বোলারদের ধারাবাহিক উইকেট নেওয়া, শক্তিশালী ওপেনিং ব্যাটিং পার্টনারশিপ এবং ক্যাপ্টেনের সব-দিকের পারফরম্যান্স। বর্তমান পরিসংখ্যান ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দলটি টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে আরও শক্তিশালী অবস্থান বজায় রাখবে বলে ধারণা করা যায়।



