ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) আজকের সকালেই মানিকগঞ্জ ও গাজীপুর জেলায় একাধিক অভিযান চালিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের হত্যার সঙ্গে জড়িত তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের মধ্যে গুলি চালানোর অভিযোগে জিনাত নামের এক ব্যক্তি, পরিকল্পনা করার সন্দেহে বিলাল এবং তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে উভয়ের সঙ্গে যুক্ত আরেকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযানের সময় সন্দেহভাজনদের বাড়ি ও আশেপাশের এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে গুলি চালানো, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সন্দেহভাজন জিনাতকে গুলি চালানোর প্রধান দায়িত্বে অভিযুক্ত করা হয়েছে, আর বিলালকে হত্যার পরিকল্পনা ও সমন্বয়কারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তৃতীয় সন্দেহভাজনকে উভয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ভিত্তিতে গ্রুপের সহায়ক হিসেবে ধরা হয়েছে।
মুসাব্বিরের মৃত্যু ৭ জানুয়ারি ঘটেছে, যখন কাজি নাজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউতে করবান বাজারের স্টার হোটেলের কাছাকাছি এক গোষ্ঠী হঠাৎ গুলি চালায়। গুলি চালানোর ফলে মুসাব্বির গুলি পেয়ে প্রাণ হারায় এবং আরেকজন ব্যক্তি আহত হয়।
মুসাব্বির পূর্বে ঢাকা সিটি নর্থ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, যা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টির স্বেচ্ছাসেবক শাখা। তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি স্থানীয় স্তরে পরিচিত ছিলেন।
ডিবি কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে এবং তদন্ত চলাকালীন প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। বর্তমানে সন্দেহভাজনদের জেলায় রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী আদালত শোনার তারিখ নির্ধারিত হবে।
অধিক তদন্তে দেখা যাবে, গুলিবর্ষণ ঘটার সময় গুলির দিক, ব্যবহার করা অস্ত্রের ধরন এবং সংশ্লিষ্টদের পূর্বের অপরাধমূলক রেকর্ড কী ছিল। এছাড়া, হত্যার পেছনের রাজনৈতিক প্রেরণা বা ব্যক্তিগত বিরোধের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।
প্রাসঙ্গিক আইন অনুযায়ী, গুলি চালিয়ে প্রাণহানি, গুলিবর্ষণ এবং সহায়তা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। আদালত যদি দোষী সাব্যস্ত করে, তবে তারা আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি পেতে পারে।
এই মামলায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি কঠোরভাবে কাজ করছে। ভবিষ্যতে তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের রায়ের ভিত্তিতে আরও তথ্য প্রকাশিত হবে।



