22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখল পরিকল্পনা: যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক বিকল্প

ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখল পরিকল্পনা: যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক বিকল্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার তাসের প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ইচ্ছা রয়েছে এবং তা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণের সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে প্রশ্ন উঠলে, ট্রাম্প উত্তর দেন যে বর্তমানে অর্থ নিয়ে আলোচনা নয়, তবে ভবিষ্যতে বিষয়টি উঠে আসতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিকল্প থাকবে না – তা স্বেচ্ছায় হোক বা না হোক, দেশটি নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়, কারণ না করলে রাশিয়া বা চীন সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী হয়ে উঠতে পারে।

ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, “যদি আমরা গ্রিনল্যান্ডের মালিক না হই, তবে লিজের মাধ্যমে তা রক্ষা করা সম্ভব নয়; সম্পূর্ণ মালিকানা প্রয়োজন।” তিনি যুক্তি দেন, স্বত্বাধিকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রই দ্বীপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে। এই ধারণা পূর্বে বহুবার প্রকাশিত হয়েছে; ২০২৫ সালের মে মাসে এনবিসি নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কোনো সীমাবদ্ধতা না রাখার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্সও একই সপ্তাহে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র আশা করে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীনতা অর্জনের পর শান্তিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং এ প্রক্রিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হবে না। তবে হোয়াইট হাউসের জানুয়ারি ৬ তারিখের এক লিখিত বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের কাছে সর্বদা সামরিক বিকল্পের অধিকার রয়ে গেছে।

পরের দিন, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের ক্রয় সম্ভাবনা নিয়ে তার সহযোগীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আলোচনায় তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যা নির্দেশ করে যে অর্থনৈতিক স্বার্থও এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ।

গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, যার ওপর ১৯৫১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে ন্যাটো কাঠামোর অধীনে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ঐ চুক্তি অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডে কোনো আগ্রাসন ঘটলে ডেনমার্কের দায়িত্বে দ্বীপের রক্ষা করা হবে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। ট্রাম্পের এই নতুন দাবি, ঐ চুক্তির ভিত্তিতে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসনকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণের পরিকল্পনা কেবল ভূ-রাজনৈতিক নয়, বরং সম্পদ সংক্রান্তও হতে পারে, কারণ দ্বীপে বিশাল তেল ও গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, কোনো দেশ স্বেচ্ছায় অন্য দেশের ভূখণ্ড অধিগ্রহণের জন্য সরাসরি অর্থ প্রদান বা সামরিক হুমকি ব্যবহার করা কঠিন। ডেনমার্কের সরকার ও গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসিত সরকার এখনও এই প্রস্তাবের প্রতি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেননি।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং সম্ভাব্য সামরিক বিকল্পের সমন্বয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। রাশিয়া ও চীনও আর্কটিক অঞ্চলে তাদের স্বার্থ বাড়াতে সক্রিয়, তাই গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ কেবল যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই নয়, বরং বৃহত্তর আর্কটিক কৌশলগত গঠনে প্রভাব ফেলবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ও ডেনমার্কের পার্লামেন্টে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখল করার ইচ্ছা, তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে প্রকাশিত হয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন স্তরে মন্তব্য করেছেন। ভবিষ্যতে কী ধরনের কূটনৈতিক বা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসন এবং আর্কটিকের বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক গতিবিধির উপর নির্ভরশীল থাকবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments