18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসাগর-রুনি হত্যার টাস্কফোর্স ছয় মাসে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ পায়

সাগর-রুনি হত্যার টাস্কফোর্স ছয় মাসে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ পায়

ঢাকার হাইকোর্টের ফাতেমা নজিব ও ফাতেমা আনোয়ার বিচারপতি সমন্বিত বেঞ্চ গত বছর টাস্কফোর্স কমিটিকে ছয় মাসের মধ্যে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আদেশ দেয়। এই আদেশের আগে সাগর-রুনি হত্যার মামলায় ১২৩ বার সময় বাড়ানো হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ পিবিআইকে প্রধান করে সিআইডি ও র্যাবের সমন্বয়ে উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।

টাস্কফোর্সের প্রধান হিসেবে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল নিযুক্ত হন, আর তদন্তের দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিজুল হক রয়েছেন। টাস্কফোর্সে সিআইডি, র্যাব এবং পিবিআইয়ের বিশেষজ্ঞ দল একত্রিত হয়ে ১৫ মাস ধরে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ, ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ এবং বাড়ির সবকিছু বিশদভাবে পরীক্ষা করে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রকাশিত হয়নি এবং তদন্তের ফলাফল এখনও অজানা।

টাস্কফোর্সের প্রধান কামাল জানান, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে যে অপরাধীরা বাড়ির সামনের জানালার গ্রিল ভেঙে প্রবেশ করেছে। ভাঙা গ্রিলের মাধ্যমে প্রবেশের সম্ভাবনা যাচাই করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্রিল ভাঙা অবস্থায় কীভাবে প্রবেশ করা সম্ভব তা প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুনরায় পরীক্ষা করা হচ্ছে।

সাগর-রুনি দম্পতি ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ রাত ১০টার পর ঢাকার পশ্চিম রাজা বাজারের একটি অ্যাপার্টমেন্টে নির্মমভাবে হত্যা হয়। হত্যার সময় দম্পতির একমাত্র সন্তান, পাঁচ বছর বয়সী মেঘ, বাড়িতে উপস্থিত ছিল। মেঘের বয়স এখন ১৯ বছর। ঘটনাস্থলে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করা যায়নি এবং কোনো গ্রেফতার হয়নি।

হত্যার পরপরই শেরে বাংলানগর থানা মামলাটি হ্যান্ডল করে, তবে কয়েক মাসের মধ্যে তদন্তের দায়িত্ব মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কে হস্তান্তর করা হয়। ডিবি দল বহু মাস ধরে তদন্ত চালিয়ে যায়, তবে কোনো স্পষ্ট সূত্র বা ক্লু পাওয়া যায়নি। ফলে আদালতের হস্তক্ষেপে তদন্তের দায়িত্ব পুনরায় নির্ধারিত হয়।

হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশে টাস্কফোর্সকে ছয় মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে, যাতে মামলার অগ্রগতি এবং সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত টাস্কফোর্সের কাজের কোনো দৃশ্যমান ফলাফল প্রকাশিত না হলেও, তদন্তের গতি বাড়াতে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং অতিরিক্ত তদন্ত পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, সাগর-রুনি হত্যার মামলায় এখনো কোনো সন্দেহভাজন গ্রেফতার হয়নি এবং মামলাটি অপরাধী সনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত চলমান থাকবে। আদালত এবং টাস্কফোর্স উভয়ই মামলার সমাধান এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

টাস্কফোর্সের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখের দিকে এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য প্রকাশের প্রত্যাশা বাড়ছে। এই প্রতিবেদনে গ্রিল ভাঙার পদ্ধতি, প্রযুক্তিগত যাচাই এবং সন্দেহভাজনদের সম্ভাব্য তালিকা অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। মামলাটির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সাগর-রুনি পরিবারের শোক ও ন্যায়বিচারের দাবি অব্যাহত থাকবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments