বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের দিন থেকে এক মাসের বেশি সময় বাকি, তবু বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত নয়। দেশের ক্রিকেটে চলমান বিতর্ক ও অস্থিরতা খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলছে, এ বিষয়ে জাতীয় টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তের স্পষ্ট বক্তব্য শোনা গেছে।
শান্ত, যিনি গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, বর্তমানে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের দলে নেই। তবু তিনি দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কে গভীর দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে মাঠের বাইরে ঘুরে বেড়ানো বিষয়গুলো কীভাবে পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করে।
বেঙ্গল প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) চলমান থাকা সত্ত্বেও, মাঠের ক্রিকেটের আলোচনা তুলনামূলকভাবে কম। অধিকাংশ আলোচনা অফ-ফিল্ড ঘটনার দিকে ঝুঁকে আছে, যা খেলোয়াড়দের মনোভাবকে অস্থির করে তুলছে। অতীতেও বিশ্বকাপের আগে এমনই পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে, এবং শান্ত নিজেও সেই সময়ের সাক্ষী ও প্রভাবিত ব্যক্তি ছিলেন।
বিসিবির কোড অব কন্ডাক্ট ও পেশাদারিত্বের মানদণ্ড কখনো কখনো খেলোয়াড়দের মত প্রকাশকে সীমাবদ্ধ করে। তবে শান্ত বললেন, এখন তিনি কিছুটা মানসিক চাপ কমিয়ে বিষয়গুলোকে সামলাতে পারছেন। যদিও তিনি টি-টোয়েন্টি দলে স্থান হারিয়েছেন, তবু তিনি বিসিবির চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার এবং দেশের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে তার অবস্থান অটুট।
সিলেটের একটি বিপিএল ম্যাচের পর শুক্রবার, রাজশাহী দলের অধিনায়ক (শান্ত) কিছু সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, “গত বছর বিশ্বকাপে আমরা ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছি, তবে আরও উন্নতির সুযোগ ছিল, যা আমরা ব্যবহার করতে পারিনি।” তিনি আরও যোগ করেন, “প্রতিটি বিশ্বকাপের আগে কিছু না কিছু ঘটেই থাকে, এবং তা আমাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে।”
শান্তের মতে, খেলোয়াড়রা প্রায়ই নিজেদেরকে পেশাদার হিসেবে উপস্থাপন করে, যদিও বাস্তবে তারা বিভিন্ন চাপের মুখে থাকে। “আমরা অভিনয় করি যে আমাদের কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু সত্যি বলতে এটা সহজ নয়,” তিনি বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, খেলোয়াড়দের উচিত এইসব বিষয়কে পেছনে রেখে দলীয় লক্ষ্য অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।
বিতর্কের মূল সূত্রপাত হয়েছে গত শনিবার, যখন বামহাতি পেসার মুস্তাফিজুরকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়। বিসিবি দ্রুতই জানায়, মুস্তাফিজুর আগামী মাসের ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে না। একই সঙ্গে, দেশের আইপিএল সম্প্রচারের বন্ধের সিদ্ধান্তও জানানো হয়।
এই সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে দেশীয় ক্রিকেটে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। কিছু বিশ্লেষক ও ভক্তরা প্রশ্ন তোলেন, কেন একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ঝুঁকিতে রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিসিবি এই পদক্ষেপকে দলের শৃঙ্খলা ও নিয়ম মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা হিসেবে উপস্থাপন করে।
বিবাদে আরও এক স্তর যোগ হয়, যখন টেস্ট ও ওডিআই দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল কিছু মন্তব্য করেন, যা বিসিবির একজন পরিচালক তীব্রভাবে নিন্দা করেন এবং তাকে “ভারতীয় দালাল” বলে সমালোচনা করেন। এই ঘটনা ক্রিকেটের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থের জটিলতা প্রকাশ করে।
শান্তের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যে খেলোয়াড়দের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বহিরাগত বিতর্কের প্রভাব অপরিসীম। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যদি এইসব বিষয় না থাকে, তবে আমাদের পারফরম্যান্স আরও ভালো হতে পারে।” তার কথায় বোঝা যায়, বর্তমান সময়ে খেলোয়াড়দের জন্য মানসিক শান্তি ও সমর্থন নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।
বিসিবি এখনো বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত দলে নাম লেখাতে দেরি করছে, এবং শেষ মুহূর্তে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়ে গেছে। দলীয় প্রস্তুতি, খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক অবস্থা সবই এখনো অনিশ্চিত। তবে শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের স্পষ্ট বক্তব্য থেকে দেখা যায়, যে কোনো সিদ্ধান্তের আগে মানসিক দিকটি বিবেচনা করা উচিত।
অবশেষে, ক্রিকেটের মাঠে ফিরে আসা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফলতা অর্জনের জন্য দেশের শীর্ষ খেলোয়াড়দের সমন্বিত প্রচেষ্টা ও সমর্থন প্রয়োজন। শর্তাবলি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ যাত্রা এখনও অনিশ্চিত রয়ে যাবে।



