গডজিলা মাইনাস জিরো, গডজিলা সিরিজের নতুন ধারাবাহিক, উত্তর আমেরিকায় ৬ নভেম্বর থিয়েটারে প্রদর্শিত হবে। জাপানে একই সপ্তাহে ৩ নভেম্বর টোহো কোম্পানি প্রথম প্রদর্শনী করবে। গ্লোবাল বিতরণকারী জিকিডস এই দুই বাজারে চলচ্চিত্রটি নিয়ে যাবে।
এখন পর্যন্ত ছবির কাস্ট সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি, তবে প্রথম ছবির সাফল্যকে ধরা দিয়ে নির্মাতারা উচ্চ প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। গডজিলা মাইনাস ওয়ান ১৯৪৫ পরবর্তী জাপানের পটভূমিতে রচিত, যেখানে কামিকাজে পাইলট কোইচি (রিউনোকুকে কামিকি) যুদ্ধের সময় বেঁচে থাকা নিয়ে আত্মদোষে ভুগছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি দেশের মানুষকে গডজিলার মুখোমুখি করতে সাহায্য করে নিজের আত্মসম্মান পুনরুদ্ধার করেন।
প্রথম চলচ্চিত্রটি ২০২৩ সালে অপ্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করে, মাত্র ১৫ মিলিয়ন ডলারের বাজেটের তুলনায় বিশ্বব্যাপী ১১৩ মিলিয়ন ডলার আয় করে। এই আর্থিক সাফল্যই নয়, গডজিলা মাইনাস ওয়ান ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বিভাগে একাডেমি পুরস্কার জিতে, ৭০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গডজিলা ফ্র্যাঞ্চাইজিকে অস্কার কাপে পৌঁছে দেয়।
অস্কার জয়কে কেন্দ্র করে হলিউডের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের প্রশংসা জানানো হয়, যার মধ্যে স্টিভেন স্পিলবার্গের নাম উল্লেখযোগ্য। ছবিটি উত্তর আমেরিকায় লাইভ-অ্যাকশন জাপানি চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ আয়কারী হিসেবে রেকর্ড করে, প্রথমে রঙিন সংস্করণ ডিসেম্বর ২০২৩-এ, পরে জানুয়ারি ২০২৪-এ সাদা-কালো সংস্করণে দর্শকের সামনে আসে।
সিক্যুয়েলের পরিচালক তাকাশি ইয়ামাজাকি, প্রথম ছবির ভিএফএক্স টিমের অংশ হিসেবে অস্কার জয় অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি পুনরায় এই প্রকল্পে যুক্ত হয়ে গডজিলা মাইনাস জিরোকে পরিচালনা করবেন। তার বক্তব্যে তিনি হলিউডের বড় মঞ্চে জাপানি চলচ্চিত্রের স্বীকৃতি পেতে স্বপ্নের মতো অনুভব করেছেন এবং অস্কার মনোনয়নের মুহূর্তে নিজেদেরকে রকি বালবোর মতো সমানভাবে স্বাগত পাওয়া একটি চমক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইয়ামাজাকির এই মন্তব্যটি গডজিলার আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তা এবং জাপানি সিনেমার গ্লোবাল স্বীকৃতির নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত দেয়। গডজিলা মাইনাস জিরোতে কী ধরনের গল্প ও ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা থাকবে তা এখনও অজানা, তবে প্রথম ছবির সাফল্য এবং পুরস্কারকে ভিত্তি করে দর্শকরা উচ্চ প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছেন।
নতুন ধারাবাহিকের মুক্তি তার পূর্বসূরির সাফল্যকে ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখবে কিনা, তা সময়ই নির্ধারণ করবে। তবে গডজিলা ফ্র্যাঞ্চাইজির দীর্ঘ ইতিহাস এবং তাজা সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি মিলিয়ে এই চলচ্চিত্রটি গ্লোবাল বিনোদন বাজারে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে।
উত্তর আমেরিকায় ৬ নভেম্বরের প্রদর্শনী এবং জাপানে ৩ নভেম্বরের প্রিমিয়ার উভয়ই গডজিলা ভক্তদের জন্য বড় অপেক্ষা, এবং এই তারিখগুলোতে থিয়েটারগুলো পূর্ণ হতে পারে বলে শিল্প বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিয়েছেন। গডজিলা মাইনাস জিরো, গডজিলা সিরিজের নতুন অধ্যায় হিসেবে, দর্শকদের সামনে কী ধরনের চমক রাখবে, তা শীঘ্রই প্রকাশ পাবে।



