সুনামগঞ্জের জুলাই ৩৬ চত্বরে শ্রীশ্রী শিহীদদের স্মরণে সমাবেশের পর, অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প‑গৃহায়ন, গণপূর্ত ও স্থানীয় সরকার, পল্লী‑উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকালে উপস্থিত শ্রোতাদের জানিয়ে দেন, দেশের অভ্যন্তর ও সীমান্তের পার্শ্ব থেকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিরোধী ষড়যন্ত্র গড়ে উঠছে এবং তা কোনোভাবে সফল হতে দেওয়া হবে না।
আদিলুর রহমানের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান সময়ে কিছু গোষ্ঠী দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোকে দুর্বল করে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার পরিকল্পনা করছে। তিনি এ ধরনের কার্যক্রমকে ‘অবৈধ’ ও ‘অসামাজিক’ হিসেবে চিহ্নিত করে, সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে তা রোধের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
উল্লেখযোগ্য যে, উপদেষ্টা বলেন, জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে স্থানীয় প্রশাসন নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গঠন করেছে। এই কর্মসূচিগুলি ভোটার তালিকা আপডেট, ভোটার সচেতনতা কর্মসূচি, এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিকরণসহ বিভিন্ন দিককে অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি সপ্তাহ থেকে কার্যক্রমের দৃশ্যমানতা বাড়বে।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে, আদিলুর রহমান খান সুনামগঞ্জ বাফার গুদাম পরিদর্শন করেন। গুদামটি নির্বাচনী সামগ্রী সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাই তার পরিদর্শনকে নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের একটি অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। গুদামের অবস্থা, সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, শিল্প সচিব ওবায়দুর রহমান, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন (বিসিআইসি) এর চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, ল্যান্ডস অ্যান্ড গ্রেডিয়েন্টস ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন (এলজিইডি) এর প্রধান প্রকৌশলী কাজী গোলাম মোস্তফা, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট এবিএম জাকির হোসেন, এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন এবং গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোল্লা রবিউল ইসলাম।
উল্লেখিত কর্মকর্তারা গুদামের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। গুদামের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপনের প্রস্তাবও উঠে আসে।
আদিলুর রহমানের মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নির্বাচনী প্রচারণার সময়সূচি ও কার্যক্রমের বিস্তারিতও উপস্থাপন করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। এছাড়া, নির্বাচনের পূর্বে কোনো অনিয়ম বা হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখযোগ্য যে, এই সতর্কতা এবং পরিকল্পনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সূচনা করে। নির্বাচনের সময়সূচি যদি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত না হয়, তবে তা সামাজিক অশান্তি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি একত্রে কাজ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সুনামগঞ্জে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশ ও গুদাম পরিদর্শন, নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের মোকাবিলার জন্য সরকারের দৃঢ় সংকল্পের একটি প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে নির্বাচনী কার্যক্রমের অগ্রগতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া এই প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ধারণ করবে।



