৯ জানুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের গোপালনগর ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত এক সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান ও জামায়াত‑এনসিপি জোটের কুমিল্লা‑৪ (দেবিদ্বার) আসনের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ দেশীয় আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যারা বিশাল পরিমাণে বিদেশে টাকা পাচার করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করে, তাদেরকে সংসদে কোনো আসন দেওয়া হবে না; ভবিষ্যৎ সংসদ শুধুমাত্র ন্যায় ও ন্যায়বিচারের নীতিতে পরিচালিত হবে।
হাসনাত আবদুল্লাহ এনসিপি-র দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক এবং জামায়াত‑এনসিপি জোটের কুমিল্লা‑৪ (দেবিদ্বার) আসনের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনগণের সামনে নিজের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও লক্ষ্য পরিষ্কার করেন, যা দেশের আর্থিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে কেন্দ্রে রাখে।
বক্তা উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনীতিতে অবৈধভাবে প্রবাহিত কোটি কোটি টাকা এবং ব্যাংক লুটেরা দেশের উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন অপরাধী ও ধনী লোভী ব্যক্তিদের সংসদে কোনো স্থান থাকবে না; ভবিষ্যৎ আইনসভা শুধুমাত্র সৎ ও ন্যায়পরায়ণ নাগরিকদের দ্বারা গঠিত হবে।
হাসনাত নিজের প্রতি কোনো অবৈধ সম্পদ বা প্রলোভন নেই বলে জোর দেন। তিনি মৃত ওসমান হাদির ন্যায়পরায়ণতা ও আদর্শকে নিজের সেবার মডেল হিসেবে গ্রহণের কথা বলেন এবং জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তার মতে, জনসেবার মূল চালিকাশক্তি হল ন্যায়বোধ ও দায়িত্ববোধ।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের বিশ্লেষণে তিনি দুইটি মূল গোষ্ঠীকে আলাদা করে তুলে ধরেন। একদিকে এমন একটি গোষ্ঠী আছে, যা ন্যায়বিচার, সাধারণ মানুষের শ্রম ও দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য লড়াই করে; অন্যদিকে আরেকটি গোষ্ঠী আছে, যা জুলুম, দুর্নীতি ও ভারতীয় আগ্রাসনের পক্ষে অবস্থান নেয়। তিনি এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরে, ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন।
সৎ, দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব ছাড়া দেশের সমৃদ্ধি সম্ভব নয়, এটাই তার মূল বার্তা। তিনি রাজনৈতিক শৃঙ্খলাকে পরিষ্কার করে, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা ছাড়া কোনো উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না বলে উল্লেখ করেন।
মৃত ওসমান হাদির স্মৃতিচারণে তিনি বলেন, হাদি ভাইয়ের সততা এখনও জনগণের হৃদয়ে বেঁচে আছে। তার হত্যার বিচারকে জাতীয় অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে, দেশীয় মাটিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি দুর্নীতির শিকার ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
রসুলপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী হাসানের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান সরকার, ইউপি সদস্য হাসান মেম্বার, সিরাজুল ইসলাম, সামসুল হক ও সোহাগ চৌধুরীসহ বহু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও বক্তব্য রাখেন। তাদের উপস্থিতি স্থানীয় নেতৃত্বের সমর্থনকে প্রকাশ করে।
বক্তা এই অনুষ্ঠানের আগে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন করেন, যেখানে তিনি তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। এই সরাসরি সংযোগ তার নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
হাসনাতের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি তার দাবিগুলি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে আগামী নির্বাচনে আর্থিক অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের পার্টি ও প্রার্থী নির্বাচনী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। এছাড়া, ন্যায়বিচারকে ভিত্তি করে গঠিত সংসদে দুর্নীতি বিরোধী আইন প্রণয়নের গতি ত্বরান্বিত হতে পারে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দলীয় শৃঙ্খলা, আইনি কাঠামো ও জনসাধারণের সমর্থন অপরিহার্য হবে।
সংক্ষেপে, হাসনাত আবদুল্লাহ বিদেশি টাকা পাচারকারী ও ব্যাংক লুটেরাদের সংসদে স্থান না দেওয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা প্রকাশ করেছেন এবং ন্যায়পরায়ণ, স্বচ্ছ নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক দিক পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্য ও কার্যক্রম দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।



