ওয়ার্নার ব্রোস পিকচারস টিমের নতুন প্রকল্পে দুই তরুণ স্ক্রিনরাইটের নাম যুক্ত হয়েছে। ড্যানিয়া জিমেনেজ এবং হ্যান্না ম্যাকমেকান, ‘কেপপ ডেমন হান্টারস’ অ্যানিমেশন ছবির সৃষ্টিকর্তা, এখন টিম বার্টনের পরিচালনায় ‘অ্যাট্যাক অব দ্য ফিফটি ফুট ওম্যান’ রিমেকের স্ক্রিপ্ট লিখবেন। বার্টন নিজে পরিচালনা ও প্রযোজনা দায়িত্বে আছেন, সঙ্গে অ্যান্ড্রু মিটম্যান ও টমি হার্পার। লাকি চ্যাপ প্রোডাকশন ও ডেভেলপমেন্টে অংশ নেবে, আর কাই ডলবাশিয়ান এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে যুক্ত।
১৯৫৮ সালে প্রকাশিত মূল ‘অ্যাট্যাক অব দ্য ফিফটি ফুট ওম্যান’ ছবিতে এক ধনী উত্তরাধিকারী নারী মানসিক হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে বিশাল দৈত্যে রূপান্তরিত হয় এবং তার স্বামী ও তার স্বামীকে ঘিরে থাকা স্বার্থপর নারীকে মোকাবেলা করে। ওয়ার্নার ২০২৪ সাল থেকে এই ক্লাসিকের রিমেকের পরিকল্পনা চালিয়ে আসছে; পূর্বে গিলিয়ান ফ্লিন এই প্রকল্পের স্ক্রিপ্ট লিখেছিলেন। নতুন লেখক জুটি বলেছে, তারা এই বিশাল নারীকে সমাজের অবিচার ও পুরুষের দোষের প্রতীক হিসেবে দেখছেন এবং আশা করছেন দর্শকরা এ থেকে কিছুটা আত্মপরিচয় পাবেন।
‘কেপপ ডেমন হান্টারস’ ছবিটি সনি পিকচার্স অ্যানিমেশন দ্বারা নির্মিত হয় এবং নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিংয়ের পর সর্বোচ্চ দর্শকসংখ্যা অর্জন করে। ছবিটি নেটফ্লিক্সের সর্বাধিক দেখা চলচ্চিত্রের শিরোপা জিতেছে এবং সাউন্ডট্র্যাক বিশ্বব্যাপী সঙ্গীত তালিকায় শীর্ষে পৌঁছেছে। এই সাফল্যের পর ছবিটি তিনটি গোল্ডেন গ্লোব, দশটি অ্যানি অ্যাওয়ার্ড (লেখা বিভাগসহ) এবং পাঁচটি গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। সাম্প্রতিক ক্রিটিক্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডে মূল গান ও অ্যানিমেটেড ফিচার দুটোই জিতেছে, আর টাইম ম্যাগাজিন ২০২৫ সালের ‘ব্রেকথ্রু অফ দ্য ইয়ার’ হিসেবে এটিকে উল্লেখ করেছে।
জিমেনেজ ও ম্যাকমেকান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম দেখা হয়। জিমেনেজ মেক্সিকান-আমেরিকান বংশোদ্ভূত, অরেঞ্জ কাউন্টিতে বড় হয়েছেন এবং ইংরেজি শিখতে লিজি ম্যাকগুইরের ডায়ালগ পুনরাবৃত্তি করতেন। ম্যাকমেকান ইউসেভি নিকটস্থ ছোট গ্রাম থেকে আসেন এবং প্রকৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। দুজনেই মাত্র ২৪ বছর বয়সে ‘কেপপ ডেমন হান্টারস’ এর স্ক্রিপ্টে হাত মিলিয়ে কাজ শুরু করেন, যা তাদের ক্যারিয়ারকে এক রাতেই উজ্জ্বল করে তুলেছে।
এই নতুন প্রকল্পে দুজনের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি এবং বার্টনের অদ্ভুত ভিজ্যুয়াল স্টাইলের সমন্বয় প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ওয়ার্নার ব্রোসের সূত্র অনুযায়ী, রিমেকের গল্পে মূল কাহিনীর মূল কাঠামো বজায় থাকবে, তবে আধুনিক সমাজের লিঙ্গবৈষম্য ও ক্ষমতার দায়িত্বের বিষয়গুলোকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হবে। প্রযোজনা দল ইতিমধ্যে স্ক্রিপ্টের প্রথম খসড়া সম্পন্ন করেছে এবং শুটিং শিডিউল ২০২৭ সালের শুরুর দিকে নির্ধারিত।
‘কেপপ ডেমন হান্টারস’ এর সাফল্যকে ভিত্তি করে, জুটি এখন হলিউডের বড় বড় প্রকল্পে প্রবেশের দরজা খুলে দিয়েছে। তাদের কাজের স্বীকৃতি শুধু বক্স অফিসে নয়, শিল্পের পুরস্কার ক্ষেত্রেও স্পষ্ট। এই রিমেকের মাধ্যমে তারা পুরনো বি-মুভি ক্লাসিককে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চায়, যেখানে বিশাল নারী চরিত্রের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার, আত্মমর্যাদা ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা হবে।
প্রকল্পের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল লাকি চ্যাপের অংশগ্রহণ, যা নারী-প্রধান গল্পকে সমর্থনকারী প্রোডাকশন হাউস হিসেবে পরিচিত। এই সহযোগিতা চলচ্চিত্রের থিমকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, কাই ডলবাশিয়ান এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে প্রকল্পের আর্থিক ও সৃজনশীল দিক তত্ত্বাবধান করবেন।
সামগ্রিকভাবে, ‘অ্যাট্যাক অব দ্য ফিফটি ফুট ওম্যান’ রিমেকটি শুধু পুরনো চলচ্চিত্রের পুনর্নির্মাণ নয়, বরং আধুনিক সমাজের লিঙ্গগত সমস্যার ওপর আলোকপাতের একটি প্ল্যাটফর্ম হবে। ড্যানিয়া জিমেনেজ ও হ্যান্না ম্যাকমেকানের তরুণ সৃজনশীল শক্তি এবং টিম বার্টনের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি একত্রে এই প্রকল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। চলচ্চিত্রের মুক্তি তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে শীঘ্রই আরও তথ্য প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



