বেন আফ্লেক এবং ম্যাট ড্যামন, তাদের প্রোডাকশন কোম্পানি আর্টিস্টস ইকুইটির মাধ্যমে, নেটফ্লিক্সের সঙ্গে ‘দ্য রিপ’ চলচ্চিত্রের জন্য কর্মীদের পারফরম্যান্স ভিত্তিক বোনাসের ব্যবস্থা করতে চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। এই চুক্তি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের প্রচলিত বেতন কাঠামোর থেকে আলাদা, যেখানে সাধারণত শুধুমাত্র পূর্বনির্ধারিত ফি প্রদান করা হয়।
‘দ্য রিপ’ একটি অ্যাকশন-থ্রিলার, যেখানে মিয়ামির দুই পুলিশ অফিসার অপ্রত্যাশিতভাবে লুকানো টাকা খুঁজে পায়। ছবির বাজেট প্রায় একশো কোটি ডলার, এবং প্রোডাকশনে মোট প্রায় এক হাজার দুইশো কর্মী যুক্ত ছিলেন। এই বড় স্কেলের প্রকল্পে সবাইকে সমানভাবে পুরস্কৃত করার ধারণা আর্টিস্টস ইকুইটির মূল নীতি।
নেটফ্লিক্সের ঐতিহ্যগত পদ্ধতি হল ক্যাস্ট ও ক্রুদেরকে পূর্বনির্ধারিত ফি দিয়ে চুক্তি করা, যা প্রোডাকশন শুরু হওয়ার আগে ঠিক হয়ে যায়। কিছু স্টুডিওতে সফল প্রকল্পের ক্ষেত্রে ব্যাক-এন্ড শেয়ারিং থাকে, তবে নেটফ্লিক্স সাধারণত তা প্রয়োগ করে না। ফলে এই নতুন চুক্তি প্ল্যাটফর্মের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হল, ‘দ্য রিপ’ এর সব ১,২০০ কর্মীকে একবারের বোনাস পাওয়ার সুযোগ থাকবে, যদি ছবিটি নির্ধারিত পারফরম্যান্স মান পূরণ করে। এই বোনাসের পরিমাণ এবং শর্তাবলী পূর্বেই নির্ধারিত, তবে সুনির্দিষ্ট মেট্রিক্স জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করা হয়নি।
বোনাসের মূল্যায়ন ছবির প্রথম নব্বই দিনের স্ট্রিমিং ডেটার ওপর ভিত্তি করে হবে। নেটফ্লিক্সের অন্যান্য শিরোনামের সঙ্গে তুলনা করে, যদি ‘দ্য রিপ’ নির্দিষ্ট ভিউয়িং এবং সম্পৃক্ততার মানদণ্ড অতিক্রম করে, তবে বোনাস প্রদান করা হবে। এই পদ্ধতি কর্মীদের জন্য পারফরম্যান্সের সরাসরি ফলাফল দেখার সুযোগ তৈরি করে।
আফ্লেক উল্লেখ করেছেন, এই ব্যবস্থা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার এবং শিল্পের বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধান করার উদ্দেশ্যে গৃহীত। তিনি বলেন, কোম্পানি শুরু করার সময়ই সকল কর্মীর সঙ্গে লাভ ভাগাভাগি করার নীতি গড়ে তোলা হয়েছিল। এই দৃষ্টিভঙ্গি আর্টিস্টস ইকুইটির মৌলিক দার্শনিকতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আর্টিস্টস ইকুইটি ২০২২ সালের শেষের দিকে প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং তার মিশন হল চলচ্চিত্র তৈরির সব স্তরে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে আর্থিক লাভ ভাগ করা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোম্পানি বেশ কিছু প্রকল্পে এই মডেল প্রয়োগ করেছে, যা শিল্পের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। ‘দ্য রিপ’ এ এই নীতি প্রথমবারের মতো নেটফ্লিক্সের সঙ্গে চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
নেটফ্লিক্সের সহ-সিইও টেড সারান্ডোসও এই পদ্ধতিকে সমর্থন জানান। তিনি শিল্পের মূল্য এবং সৃজনশীল কর্মীদের অবদানের গুরুত্বকে স্বীকার করে, এই ধরনের আর্থিক মডেলকে উৎসাহিত করার কথা প্রকাশ করেছেন। তার মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, স্ট্রিমিং সেবা প্রদানকারীও নতুন মুনাফা ভাগাভাগির মডেল গ্রহণে উন্মুক্ত।
‘দ্য রিপ’ এর আর্থিক সমর্থনকারী সংস্থাগুলোর সম্পর্কে কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তবে বিশদ বিবরণ এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে জানা যায়, আর্টিস্টস ইকুইটি উচ্চ মূলধন সমর্থন পেয়েছে, যা বড় বাজেটের চলচ্চিত্রের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল নিশ্চিত করে। এই তহবিলের মাধ্যমে কর্মীদের বোনাস ব্যবস্থা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।
এই চুক্তি শিল্পে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে, যেখানে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম এবং প্রোডাকশন হাউস উভয়ই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুরস্কার প্রদান করতে পারে। যদি ‘দ্য রিপ’ সফল হয়, তবে অন্যান্য প্রকল্পেও অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা বাড়বে।
অবশেষে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচার বাড়ার আশা করা যায়। কর্মীরা তাদের কাজের ফলাফল সরাসরি দেখতে পারবে, যা সৃজনশীল উদ্যমকে আরও উজ্জীবিত করবে। শিল্পের ভবিষ্যতে এই ধরনের মডেল কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।



