নরওয়ের চলচ্চিত্র নির্মাতা যোয়াকিম ট্রিয়ের নতুন নাটক ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ গ্লোবাল গ্লোব পুরস্কার এবং ইউরোপীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার উভয়ের জন্য নোমিনি পেয়েছে। এই কাজটি স্টেলান স্কার্সগার্ডের অভিনয়ে একজন বিশিষ্ট পরিচালককে কেন্দ্র করে, যিনি তার বিচ্ছিন্ন কন্যাকে (রেনাতে রেইনস্ভে) স্ব-জীবনীমূলক প্রকল্পে অংশ নিতে চান। ট্রিয়ের এই চলচ্চিত্রটি এই সপ্তাহের গ্লোব পুরস্কার অনুষ্ঠানে সর্বাধিক নোমিনেশন পেয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
গ্লোবাল গ্লোব পুরস্কার অনুষ্ঠানে ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ সর্বাধিক নোমিনেশন পেয়েছে, যেখানে ট্রিয়ের নিজে সেরা ছবি, সেরা পরিচালক এবং সেরা চিত্রনাট্য (সহ-লেখক এস্কিল ভগ্টের সঙ্গে) ক্যাটেগরিতে নামাঙ্কিত। একই সময়ে ইউরোপীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারেও এই চলচ্চিত্রটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি পাবে, যা বার্লিনে অনুষ্ঠিত হবে। ট্রিয়ের এই দুই সম্মানজনক নোমিনেশন তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
চার বছর আগে ট্রিয়ের ‘দ্য ওয়ারস্ট পারসন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ চলচ্চিত্রটি অস্কার পুরস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার এবং মূল চিত্রনাট্য উভয় ক্যাটেগরিতে নোমিনেশন পেয়েছিল। সেই সময়ে তার কাজটি শব্দের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাফল্যের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যা আর্টহাউস চলচ্চিত্রের জন্য বিরল। এই সাফল্য তার পরবর্তী প্রকল্প ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’কে আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী করে তুলেছে।
দুই দশকে ছয়টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনা করে ট্রিয়ের বিশ্ব চলচ্চিত্রের মানচিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার প্রথম দুই চলচ্চিত্রই ক্যান্সে চলচ্চিত্র উৎসবে বড় পুরস্কার জিতেছে, যা আন্তর্জাতিক সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছে। এখন 51 বছর বয়সী, ওস্লোতে বসবাসকারী ট্রিয়ের তার কাজের মাধ্যমে নরওয়ের চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
ট্রিয়ের প্রায়ই নিজেকে দেশের চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তাশীল একজন প্রতিনিধি হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেন এবং থিয়েটারীয় প্রকাশের গুরুত্বের পক্ষে দৃঢ়ভাবে কথা বলেন। তার মতে, সিনেমা হলের অভিজ্ঞতা এখনও দর্শকের জন্য অপরিবর্তনীয় মূল্য বহন করে, যদিও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
সান্তা মনিকায় আমেরিকান সিনেমাথেকের আয়োজনে ট্রিয়েরের কাজের একটি বিস্তৃত রেট্রোস্পেকটিভের অংশ হিসেবে একটি প্রশ্নোত্তর সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এই ইভেন্টের আগে তিনি স্থানীয় রেস্তোরাঁয় পাস্তা খেয়ে তার ক্যারিয়ার, বর্তমান প্রকল্প এবং শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে তিনি নিজের কাজের সঙ্গে যুক্ত সহ-লেখক এস্কিল ভগ্টের নামও উল্লেখ করেন, যাকে তিনি দীর্ঘদিনের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন।
ট্রিয়েরের পরিবারিক পটভূমি তার শিল্প দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রভাব ফেলেছে। তিনি ছোটবেলা থেকেই জ্যাজ সঙ্গীতের পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন; তার দাদার জ্যাজের প্রতি ভালোবাসা তাকে সৃজনশীলতা ও স্বতন্ত্র শৈলীর প্রতি অনুপ্রাণিত করেছে। এই সঙ্গীতের প্রভাব তার চলচ্চিত্রের বর্ণনায় সূক্ষ্মভাবে প্রতিফলিত হয়, যেখানে মানবিক সম্পর্কের জটিলতা ও আবেগের গভীরতা প্রকাশ পায়।
আজকের চলচ্চিত্র শিল্পে ট্রিয়েরের মত স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বরের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নরওয়ের গল্পকে তুলে ধরতে এবং একই সঙ্গে স্থানীয় থিয়েটার সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে সচেষ্ট। তার কাজের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতারা সাহসিকতা ও নৈতিক দায়িত্বের মিশ্রণ শিখতে পারে, যা ভবিষ্যতের সিনেমা শিল্পকে সমৃদ্ধ করবে।



