বহু বছর ধরে বলিউডের শীর্ষস্থানীয় নির্মাণ সংস্থা ধর্মা প্রোডাকশনস, করণ জোহরের নেতৃত্বে, সম্প্রতি একটি বড় পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়েছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে, সিরাম ইনস্টিটিউটের সিইও আদার পুণাওয়াল্লা ১,০০০ কোটি রুপি মূল্যে ধর্মা প্রোডাকশনস ও ধর্মাটিক এন্টারটেইনমেন্টের অর্ধেক শেয়ার কিনে নেন। এই চুক্তি সংস্থার মোট মূল্যায়নকে ২,০০০ কোটি রুপিতে নিয়ে আসে এবং শিল্পের কাঠামোতে নতুন দিক নির্দেশ করে।
এই বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র আর্থিক সমর্থন নয়, বরং কন্টেন্ট তৈরির, বিতরণ ও দর্শক সংযোগের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী পদ্ধতি প্রয়োগ করা। নতুন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ধর্মা তার সৃজনশীল শক্তি বজায় রেখে, ভবিষ্যৎ গ্লোবাল বিনোদন বাজারে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
ধর্মা প্রোডাকশনসের ঐতিহ্যগতভাবে বড় স্টুডিও ও বিতরণকারীদের ওপর নির্ভরশীলতা পরিবর্তন করে, এখন তারা নিজস্ব বিতরণ বিভাগ গড়ে তুলতে উদ্যোগী। এই পদক্ষেপের জন্য তারা জি স্টুডিওসের অভিজ্ঞ নির্বাহী ভুমিকা তেওয়ারিকে নিয়োগ করেছে। তেওয়ারি পূর্বে গুড নিউজ (২০১৯) ও কেসরি (২০১৯) মতো হিট ছবির বিতরণে সফল ছিলেন, যা ধর্মার জন্য একটি শক্তিশালী মানবসম্পদ যোগ করে।
নিজস্ব বিতরণ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে ধর্মা তার চলচ্চিত্রের রাজস্বের অংশ বাড়াতে, মেধাস্বত্ব রক্ষা করতে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমানভাবে মুক্তি নিশ্চিত করতে চায়। এই মডেলটি পূর্বে ইয়াশ রাজ ফিল্মসের মতো প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলি অনুসরণ করেছে, যারা উৎপাদন ও বিতরণ উভয়ই একসাথে পরিচালনা করে সফলতা অর্জন করেছে।
ধর্মা প্রোডাকশনসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কেবল নিজের ছবিগুলোর জন্য নয়, বরং অন্যান্য ব্যানারের চলচ্চিত্রগুলোকে বিতরণ করার সম্ভাবনাও অন্তর্ভুক্ত করে। এভাবে তারা বাজারে তার উপস্থিতি বিস্তৃত করে, নতুন প্রোডাকশন হাউসের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে, এবং দর্শকদের জন্য বৈচিত্র্যময় কন্টেন্ট সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।
আদার পুণাওয়াল্লার অংশীদারিত্বের আর্থিক দিকটি উল্লেখযোগ্য, কারণ ১,০০০ কোটি রুপি বিনিয়োগ ধর্মার জন্য একটি বড় তহবিল সরবরাহ করে। এই তহবিল নতুন প্রযুক্তি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করা হবে। ফলে ধর্মা তার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে, গ্লোবাল স্ট্রিমিং সেবার সঙ্গে সমন্বয় সাধন করতে পারবে।
করণ জোহর এই পরিবর্তনকে ধর্মার মূল ভিত্তি রক্ষা করে, ভবিষ্যতের বিনোদন দিগন্তে অগ্রসর হওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সহযোগিতা ধর্মার ঐতিহ্যকে সম্মান করে, একই সঙ্গে আধুনিক গ্লোবাল বিনোদন প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই দৃষ্টিভঙ্গি সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
ধর্মা প্রোডাকশনসের নতুন বিতরণ পরিকল্পনা ইতিমধ্যে শিল্পের বিভিন্ন স্তরে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, স্বয়ংক্রিয় বিতরণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংস্থা তার লাভের মার্জিন বাড়াতে এবং মেধাস্বত্বের সুরক্ষা শক্তিশালী করতে পারবে। এছাড়া, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত প্রবেশের সুবিধা পাবেন।
বিনিয়োগের পরিধি এবং নতুন ব্যবস্থাপনা কাঠামো ধর্মার ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলবে। এটি শুধুমাত্র ধর্মার জন্য নয়, পুরো বলিউড শিল্পের জন্যও একটি উদাহরণস্বরূপ মডেল হতে পারে, যেখানে উৎপাদন, বিতরণ ও প্রযুক্তি একত্রে কাজ করে শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখে।
ধর্মা প্রোডাকশনসের এই কৌশলগত পদক্ষেপের ফলে, ভবিষ্যতে আরও বেশি স্বতন্ত্র গল্প, উচ্চমানের প্রোডাকশন এবং বিস্তৃত দর্শকগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে চলচ্চিত্র তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। শিল্পের অন্যান্য সংস্থাগুলিও এই মডেল অনুসরণ করে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করতে পারে।
সংক্ষেপে, আদার পুণাওয়াল্লার সঙ্গে অংশীদারিত্ব এবং ভুমিকা তেওয়ারির নিয়োগ ধর্মা প্রোডাকশনসকে উৎপাদন থেকে বিতরণ পর্যন্ত সম্পূর্ণ চক্রে নিয়ন্ত্রণের পথে নিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন বলিউডের ব্যবসায়িক কাঠামোকে পুনর্গঠন করে, নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করে এবং দর্শকদের জন্য বৈচিত্র্যময় কন্টেন্ট নিশ্চিত করে।



