টেলিভিশন একাডেমি ২০২৬ সালের এমি পুরস্কারের জন্য নতুন নিয়ম প্রণয়ন করেছে, যার মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার সম্পর্কিত গাইডলাইন এবং কয়েকটি বিভাগে নাম ও কাঠামোর পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত। এই পরিবর্তনগুলো জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে প্রকাশিত নিয়মাবলী ও পদ্ধতি ম্যানুয়ালে অন্তর্ভুক্ত হবে। একাডেমি মানবিক গল্প বলাকে মূল মানদণ্ড হিসেবে ধরে রেখেছে, যদিও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম পরিবর্তিত হতে পারে।
নতুন গাইডলাইনের মূল বিষয় হল, কোনো প্রস্তাবনা বা জমা দেওয়ার সময় এআই ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তা সম্পর্কে একাডেমি প্রশ্ন করতে পারে। এআই ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য এই ধাপটি যোগ করা হয়েছে, যাতে পুরস্কার প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা বজায় থাকে। একাডেমি স্পষ্ট করে বলেছে যে, গল্পের মূল সত্তা ও সৃজনশীলতা মানবের হাতেই থাকবে, যন্ত্রের নয়।
এআই সংক্রান্ত নীতির পাশাপাশি, পুরস্কারের বিভাগীয় নামেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বে “আউটস্ট্যান্ডিং টেলিভিশন মুভি” নামে পরিচিত বিভাগটি এখন শুধুমাত্র “আউটস্ট্যান্ডিং মুভি” নামে পরিচিত হবে। এই পরিবর্তনের পেছনে লক্ষ্য হল, সম্প্রচার বা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে তৈরি চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্যকে আরও সঠিকভাবে প্রতিফলিত করা।
নতুন নামকরণে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বড় বাজেটের স্ট্রিমার-নির্ভর চলচ্চিত্র এবং ঐতিহ্যবাহী টেলিভিশন মুভি উভয়ই। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালে নেটফ্লিক্সের “রেবেল রিজ” এই বিভাগে পুরস্কার জিতেছিল, যা স্ট্রিমিং-ভিত্তিক বড় স্ক্রিন কন্টেন্টের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
স্বল্প-দৈর্ঘ্য প্রোগ্রামের জন্যও বিভাগীয় কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়েছে। নন-ফিকশন/রিয়েলিটি এবং কমেডি/ড্রামা/ভ্যারাইটি শাখা এখন আলাদা ট্র্যাকের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে, এবং মূল সিরিজের পাশাপাশি অন্য প্রোগ্রাম থেকে উদ্ভূত সিরিজগুলোও স্বীকৃত হবে। প্রতিটি উপশ্রেণিতে জমা দেওয়া কাজের সংখ্যা অনুযায়ী মনোনয়নের সংখ্যা নির্ধারিত হবে, যাতে প্রতিযোগিতা সমানভাবে বিতরণ হয়।
সঙ্গীত বিভাগে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করা হয়েছে। “বেস্ট মেইন টাইটেল থিম মিউজিক” বিভাগে এখন “মেইন-অন-এন্ড” থিম অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যা চূড়ান্ত দৃশ্যের পর এবং ক্রেডিট শুরুর আগে বাজে সঙ্গীতকে স্বীকৃতি দেবে। এই পরিবর্তনটি শেষের মুহূর্তের সাউন্ডট্র্যাকের গুরুত্বকে তুলে ধরতে চায়।
অন্যদিকে, নন-ফিকশন ও ডকুমেন্টারি প্রোগ্রামের জন্য “বেস্ট অরিজিনাল মিউজিক স্কোর” বিভাগে রিয়েলিটি শোও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পূর্বে শুধুমাত্র ডকুমেন্টারি ও নন-ফিকশনকে লক্ষ্য করা এই পুরস্কার এখন রিয়েলিটি শোয়ের সঙ্গীত সৃষ্টিকর্তাদেরও স্বীকৃতি দেবে, যা সৃজনশীলতা ও বৈচিত্র্যের প্রসার ঘটাবে।
শব্দ মিক্সিং ক্ষেত্রেও বিভাগীয় বিভাজন করা হয়েছে। অ-স্ক্রিপ্টেড প্রোগ্রামের জন্য “সাউন্ড মিক্সিং” এখন দুটি পৃথক ক্যাটেগরিতে ভাগ হবে: নন-ফিকশন এবং রিয়েলিটি। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিটি ধরণের প্রোগ্রামের প্রযুক্তিগত চাহিদা ও সৃজনশীল দিক আলাদা করে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
এই সব পরিবর্তন একাডেমির দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে, যেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উত্থান ও কন্টেন্টের বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দিয়ে পুরস্কার প্রক্রিয়াকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এআই ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ, বিভাগীয় নামের সরলীকরণ এবং সঙ্গীত ও সাউন্ড মিক্সিংয়ে নতুন উপশ্রেণি যোগ করা সবই শিল্পের পরিবর্তনশীল গতিপথের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার প্রচেষ্টা।
প্রস্তাবিত নিয়মগুলো জানুয়ারি শেষে প্রকাশিত হবে, এবং পরবর্তী মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলো শিল্পের বিভিন্ন অংশীদার, বিশেষত নির্মাতা, স্রষ্টা ও সঙ্গীতশিল্পীদের জন্য নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে। একাডেমি আশা করে, এই পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত এবং সৃজনশীল পুরস্কার পরিবেশ গড়ে তুলবে।
এমি পুরস্কারের এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো শিল্পের গতি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, মানবিক গল্প বলার মূল মানকে অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।



