20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনরজার ইউইং, গন্সমোকের থ্যাড গ্রিনউডের ভূমিকায় ৮৩ বছর বয়সে নেন বিদায়

রজার ইউইং, গন্সমোকের থ্যাড গ্রিনউডের ভূমিকায় ৮৩ বছর বয়সে নেন বিদায়

প্রখ্যাত অভিনেতা রজার ইউইং ১৯৮৩ সালে ৮৩ বছর বয়সে মারা গেছেন। তার মৃত্যু ১৮ ডিসেম্বর পরিবারের কাছ থেকে জানানো হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার মরো বে-তে দীর্ঘদিন বসবাসকারী ইউইং, গন্সমোক ধারাবাহিকের থ্যাড গ্রিনউড চরিত্রে দুই মৌসুমের জন্য দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন।

ইউইংের মৃত্যু সংবাদ তার পরিবারই প্রথমে প্রকাশ করে। মরো বে-র স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে তিনি বহু বছর সেখানে বাস করতেন এবং স্থানীয় সমাজে পরিচিত ছিলেন। তার বয়স ৮৩ বছর, জন্ম ১২ জানুয়ারি ১৯৪২, লস এঞ্জেলেসে।

গন্সমোকের সঙ্গে তার সংযোগ ১৯৬৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয়, যখন তিনি বেন লুকেন্স নামের চরিত্রে এক পর্বে উপস্থিত হন। একই বছরের অক্টোবর মাসে তিনি থ্যাড গ্রিনউডের ভূমিকায় ফিরে আসেন, যা গন্সমোকের ১১তম মৌসুমের তৃতীয় পর্বে দেখা যায়। থ্যাডের চরিত্রটি ওকলাহোমার এক বৃদ্ধ শেরিফের (পল ফিক্স) পুত্র, যিনি ডজ সিটিতে তার বাবার হৃদরোগে মৃত্যুর পর অনুসরণে আসেন।

শোতে থ্যাডের প্রবেশের পর, তিনি চারজন চোরকে ধরতে ডজ সিটিতে যান, যারা তার বাবার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যদিও তার ওয়ারেন্ট ডজ সিটিতে কার্যকর করা যায় না, তবে শেরিফ ম্যাট ডিলন (জেমস আর্নেস) তাকে ডেপুটি হিসেবে রাখার প্রস্তাব দেন। থ্যাডের এই নতুন ভূমিকা শোয়ের গল্পে নতুন মোড় এনে দেয়।

ইউইংের মতে, থ্যাডের বাস্তবিক পরিবার না থাকায় শোয়ের মূল চরিত্রগুলো—ম্যাট, কিটি (অ্যামান্ডা ব্লেক), ডক (মিলবার্ন স্টোন) এবং ফেস্টাস (কেন কার্টিস)—তার জন্য এক ধরনের পরিবার গড়ে তোলেন। তিনি প্রায়ই অতিরিক্ত সাহায্যের প্রয়োজন হলে উপস্থিত থাকতেন এবং যেকোনো সময়ে কাজের সঙ্গে মানিয়ে নিতেন। এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই থ্যাডকে শোয়ের অন্যতম প্রিয় চরিত্রে পরিণত করে।

থ্যাডের ভূমিকায় ইউইং মোট ৫০টি পর্বে অভিনয় করেন, যা সেপ্টেম্বর ১৯৬৭ পর্যন্ত চলতে থাকে। রেটিংয়ের সাময়িক পতনের পর শোয়ের নির্মাতারা তাকে ধারাবাহিক থেকে বাদ দেন, তবে তার অবদান শোয়ের ইতিহাসে স্মরণীয় রয়ে যায়।

ইউইংের শৈশবের কথা বলতে গেলে, তিনি ১৯৪২ সালে লস এঞ্জেলেসে জন্মগ্রহণ করেন। হাইস্কুলের শেষ বর্ষে তিনি গন্সমোকের একটি ব্যঙ্গাত্মক নাটকে চেস্টার (ডেনিস ওয়েভারের চরিত্র) ভূমিকা পালন করেন। শোটি প্রতি শনিবার তার ঘরে দেখা হতো, যা তার অভিনয় জগতের প্রতি আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল।

হাইস্কুলের পর এক বছর কলেজে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইফগার্ডের কাজও করেন। এরপর তিনি অভিনয়ের পথে পা বাড়িয়ে ১৯৬৪ সালের চলচ্চিত্র ‘এনসাইন পুলভার’ এ অপ্রকাশিত ভূমিকা পান, যেখানে তার চরিত্র একটি হাঁসের মুখে বিয়ার বটল ঢুকিয়ে দেয়। এই ছোট্ট কাজই তার পরবর্তী ক্যারিয়ারের সূচনা করে।

এরপর ইউইং টেলিভিশনের বিভিন্ন জনপ্রিয় সিরিজে কাজ করেন, যেমন ‘বিউইচড’, ‘দ্য বেইলিজ অফ ব্যালবোয়া’, ‘দ্য বিং ক্রসবি শো’ এবং ‘রাওহাইড’। তিনি ফ্রাঙ্ক সিনাত্রার ছবিতে ‘নন বাট দ্য ব্রেভ’ নামের চলচ্চিত্রেও অংশ নেন। তার চরিত্রগুলো প্রায়শই লম্বা, অদ্ভুত এবং কিছুটা অদক্ষ হিসেবে চিত্রিত হতো, যা দর্শকদের কাছে হাস্যকর এবং স্মরণীয় হয়ে দাঁড়ায়।

রজার ইউইংের মৃত্যু গন্সমোকের ভক্ত এবং পুরনো টেলিভিশন প্রেমিকদের জন্য এক বড় ক্ষতি। তার অভিনয়শৈলী, উচ্চতা ও স্বতন্ত্র চেহারা তাকে সময়ের অন্যতম স্মরণীয় চরিত্রে পরিণত করেছে। ভবিষ্যতে তার কাজগুলো নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে পরিচিত হবে এবং গন্সমোকের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – TV
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments