বহুল আলোচনার পর, তেলুগু চলচ্চিত্র নির্মাতা ভমশি পেইডিপল্লি হিন্দি বাজারে প্রথম পদক্ষেপ নেবেন, যেখানে বক্স অফিসের কিংবদন্তি সালমান খান প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করবেন। এই প্রকল্পটি অ্যাকশন ও নাটকের মিশ্রণ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে এবং শ্যুটিং শুরু হবে সালমানের সাম্প্রতিক যুদ্ধচিত্র ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’ মুক্তির পর।
ভমশি পেইডিপল্লি তেলুগু সিনেমার ক্ষেত্রে বহু হিটের পেছনে নাম, তার ‘ব্রেকিং’ এবং ‘ব্রাভ হিরো’ মতো ছবিগুলো সমালোচক ও দর্শকের প্রশংসা অর্জন করেছে। হিন্দি ভাষায় প্রথম কাজের জন্য তিনি একটি বৃহৎ স্কেল প্রোডাকশন গড়ে তুলছেন, যেখানে বাণিজ্যিক দিকের পাশাপাশি গল্পের গভীরতা বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সালমান খান এই প্রকল্পে সম্মতি জানিয়ে ইতিমধ্যে শ্যুটিংয়ের প্রস্তুতিতে অংশগ্রহণ শুরু করেছেন। তার অংশগ্রহণের খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, কারণ তিনি দীর্ঘ সময়ের পর নতুন ধাঁচের ছবিতে ফিরে আসছেন।
প্রকল্পের মূল থিমকে অ্যাকশন-ড্রামা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা দর্শকের হৃদয়স্পন্দন বাড়াবে এবং একই সঙ্গে চরিত্রের মানসিক দিকগুলোকে তুলে ধরবে। নির্মাতা ভমশি উল্লেখ করেছেন, এই গল্পে শক্তি, সাহস এবং মানবিক সম্পর্কের মিশ্রণ থাকবে, যা বৃহৎ পর্দায় নতুন রঙ যোগ করবে।
শুটিংয়ের সূচনা নির্ধারিত হয়েছে ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’ মুক্তির পর, যা সালমানের সাম্প্রতিক যুদ্ধচিত্র। গালওয়ানের তীব্রতা ও শারীরিক চ্যালেঞ্জের পর, তিনি নতুন প্রকল্পে ফিরে আসতে চান, যাতে কাজের পরিবেশে কিছুটা হালকা মেজাজের স্বাদ যুক্ত হয়।
সালমানের মতে, গালওয়ানের শ্যুটিং পর্বটি মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্তিকর ছিল, ফলে তিনি এমন একটি চলচ্চিত্রের সন্ধান করছেন যা তাকে পুনরুজ্জীবিত করবে। তিনি এমন একটি গল্পের দিকে ঝুঁকছেন, যেখানে অ্যাকশন ও নাটকের সমন্বয় থাকবে এবং দর্শকের হাসি-আনন্দের সুরে ভরা থাকবে।
এই নতুন প্রকল্পকে ‘ব্লু’স-চেজার’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা তার বর্তমান মানসিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সালমানের এই পছন্দটি তার ক্যারিয়ারের বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং দর্শকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
বিনোদন জগতের বিশ্লেষকরা এই সংযোজনকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন, কারণ এটি তেলুগু ও হিন্দি সিনেমার মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলবে। দু’টি শিল্পের সমন্বয় নতুন বাজারের দরজা খুলে দিতে পারে এবং উভয় ভাষার দর্শকের জন্য আকর্ষণীয় কন্টেন্ট সরবরাহ করবে।
প্রকল্পের বাজেট ও কাস্টের বিশদ এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে সূত্র অনুযায়ী এটি বড় স্কেলের প্রোডাকশন হবে, যেখানে আধুনিক ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এবং উচ্চমানের সাউন্ড ডিজাইন ব্যবহার করা হবে। শ্যুটিংয়ের স্থান নির্বাচনও আন্তর্জাতিক হতে পারে, যা ছবির ভিজ্যুয়াল আকর্ষণ বাড়াবে।
সালমানের ফ্যানবেস এবং ভমশির অনুগামী উভয়ই এই সহযোগিতার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। উভয় পক্ষের সমন্বয় নতুন ধারার চলচ্চিত্র তৈরি করবে, যা বক্স অফিসে ভাল পারফরম্যান্সের সম্ভাবনা রাখে।
প্রকল্পের অফিসিয়াল ঘোষণা এবং শ্যুটিং সূচি শীঘ্রই প্রকাশের কথা রয়েছে। চলচ্চিত্রের শিরোনাম ও মুক্তির তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে শিল্প insiders প্রত্যাশা করছেন যে এটি ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে বড় পর্দায় আসবে।
সামগ্রিকভাবে, সালমান খান এবং ভমশি পেইডিপল্লির এই যৌথ উদ্যোগ তেলুগু ও হিন্দি সিনেমার মিশ্রণকে নতুন মাত্রা দেবে, এবং দর্শকদের জন্য একটি রোমাঞ্চকর, হৃদয়স্পন্দন বাড়িয়ে দেয়া অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে।



