ব্রিটেন সরকার Ofcom-কে নির্দেশ দিয়েছে যে, ইলন মাস্কের মালিকানাধীন X (পূর্বে টুইটার) সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে “দিনের মধ্যে” সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে, সপ্তাহ নয়। এই ত্বরান্বিত পদক্ষেপের পেছনে গ্রক AI ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্মে যৌন ডিপফেক তৈরি হওয়া একটি বড় ঘটনা রয়েছে।
গ্রক AI ব্যবহারকারী যখন X-এ কোনো ছবির নিচে ট্যাগ করে, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবির বিষয়বস্তু পরিবর্তন করে মানুষকে নগ্ন দেখাতে পারে, যা ব্যবহারকারীর সম্মতি ছাড়া করা হয়। এই ফিচারটি সম্প্রতি সীমাবদ্ধ করা হয়েছে এবং এখন শুধুমাত্র মাসিক ফি প্রদানকারী ব্যবহারকারীর জন্যই সক্রিয়।
ডাউনিং স্ট্রিটের একটি বিবৃতি অনুযায়ী, এই পরিবর্তনটি যৌন নির্যাতনের শিকারদের প্রতি অবমাননাকর এবং অনুচিত। একই সঙ্গে একটি গৃহস্থালি নির্যাতন সংস্থা এটিকে “শোষণমূলক” বলে সমালোচনা করেছে, কারণ এটি নির্যাতনের অর্থায়নকে উৎসাহিত করে।
প্রযুক্তি সচিব লিজ কেন্ডল উল্লেখ করেছেন যে, তিনি Ofcom-কে অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের সম্পূর্ণ আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে X-কে জবাবদিহি করতে প্রত্যাশা করছেন। তিনি আরও বলেছিলেন, যদি Ofcom সেবা বন্ধের মতো পদক্ষেপ নেয়, তবে সরকার পূর্ণ সমর্থন প্রদান করবে।
Ofcom-এর একটি মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, সোমবারই তারা X-কে জরুরি যোগাযোগ করে আজকের মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন, এবং এখন তারা ত্বরিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই মূল্যায়নের ফলাফল শীঘ্রই জানানো হবে।
অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের অধীনে Ofcom-কে আদালতের আদেশের মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষকে X-কে আর্থিক সহায়তা প্রদান বা যুক্তরাজ্যে সেবা প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, যদি কোম্পানি যুক্তরাজ্যের আইন মেনে না চলে। এই ধরনের ব্যবসা ব্যাহত করার ব্যবস্থা এখনো ব্যাপকভাবে পরীক্ষা করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর অফিসের একটি প্রতিনিধির মন্তব্যে বলা হয়েছে, গ্রক AI-র ব্যবহারিক নীতি পরিবর্তন দেখায় যে X যখন ইচ্ছা করে তখন দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে। তিনি এটিকে “প্রচুর ক্ষমতা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিবিধ সূত্রে জানা যায়, X এখনও প্ল্যাটফর্মের অন্যান্য অংশে, যেমন ইন-বিল্ট “ইমেজ এডিট” ফাংশন বা আলাদা অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে, ছবি সম্পাদনা করতে পারে। তবে এই ফিচারগুলোর ব্যবহারেও এখন সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
সরকারের এই ত্বরান্বিত পদ্ধতি অনলাইন নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, আইন মেনে না চললে দ্রুত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
অধিক তথ্যের জন্য, BBC X-কে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করেছে, তবে এখনো কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই যৌথ প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের দায়িত্বশীল ব্যবহারে প্রভাব ফেলতে পারে।



