নওগাঁ জেলায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রতারণার অভিযোগে পুলিশ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারগুলো শুক্রবার সন্ধ্যা প্রায় সাতটায় নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারইনস্পেক্টর মো. তারিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দেন।
অভিযানটি গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিচালিত হয়। তদন্তে প্রকাশ পায় যে, প্রশ্নপত্র বিক্রি করার চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী লোকেরা প্রত্যেক পরীক্ষার্থী থেকে সর্বোচ্চ ১৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাবি করেছিল। গ্রেপ্তারের সময় ১১টি মোবাইল ফোন এবং মোট ৩৭,৯৪৮ টাকা নগদ জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের মতে, নওগাঁ শহরের ‘পোরশা রেস্ট হাউস’ ও ‘হোটেল নীল সাগর’ থেকে প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল দায়িত্বশীল ‘হোতা’ আহসান হাবিব ও মামুনুর রশিদসহ মোট ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের তালিকায় পরীক্ষার্থী, ভুয়া পরীক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকসহ বিভিন্ন ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত। আহসান হাবিব মহাদেবপুর উপজেলার জিউলি গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে, আর মামুনুর রশিদ পত্নীতলা উপজেলার শিবপুর গ্রামের সালেহ উদ্দিনের ছেলে।
একই দিনে দেশের আটটি বিভাগে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়ও একই ধরণের অপরাধের অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। পরীক্ষার সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে রোকসানা খাতুন নামের শিক্ষার্থীকে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করার অভিযোগে থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
রোকসানা খাতুন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কালিনগরের আব্দুর রজ্জাকের কন্যা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. নূরে আলম জানান, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে অনিয়মের অভিযোগে জেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার আব্দুর রজ্জাক অভিযোগ দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হবে। আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, জব্দকৃত মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ তদন্তে ব্যবহার করা হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ শাস্তি নির্ধারিত হবে।
প্রশাসনিক দিক থেকে, সরকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা এবং পরীক্ষার সময় ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
এই ঘটনাগুলো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে পরীক্ষার ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পুনরায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে এমন ধরনের প্রতারণা রোধে কঠোর নজরদারি চালু থাকবে এবং যেকোনো লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
অভিযানটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্রকে ভেঙে ফেলতে এবং শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনর্স্থাপন করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তদন্ত চলমান থাকায় আরও তথ্য প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।



