বিসিবি পরিচালনা পরিষদের সদস্য এম নাজমুল ইসলাম, তামিম ইকবালের ভারতীয় বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের পর প্রকাশিত মন্তব্যের ফলে দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তামিমের এই সিদ্ধান্তের পর তিনি যে মন্তব্যের মুখোমুখি হন, তা নিয়ে শান্ত (নাজমুল হোসেন শান্ত) সামাজিক মাধ্যমে এবং সরাসরি মাঠে তার মত প্রকাশ করেছেন। শান্তের মন্তব্যের সময় তিনি রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে বেসিক লিগ (বিপিএল) ম্যাচে অংশগ্রহণ করছিলেন এবং ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে তার বক্তব্য শোনা যায়।
বিসিবি সম্প্রতি ভারতীয় বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর তামিম ইকবাল এই বিষয়ে মিডিয়ার প্রশ্নের জবাবে কিছু মন্তব্য করেন। তাতে পরিচালনা পরিষদের প্রধান এম নাজমুল ইসলাম তামিমকে “ভারতীয় দালাল” বলে সমালোচনা করেন, যা তামিমের প্রতি সরাসরি আক্রমণ হিসেবে গণ্য হয়। এই মন্তব্যের ফলে তামিমের সমর্থক এবং সহকর্মী ক্রিকেটাররা সামাজিক মাধ্যমে তীব্র বিরোধিতা প্রকাশ করে।
শান্ত, যিনি বর্তমানে বিপিএল-এ রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে খেলছেন, তামিমের প্রতি পরিচালকের মন্তব্যকে “দুঃখজনক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তামিম দেশের সর্বকালের সেরা ওপেনারদের একজন এবং তার প্রতি এমন মন্তব্য করা অনুচিত। শান্তের মতে, কোনো ক্রিকেটার, তা সাবেক অধিনায়ক হোক বা সাধারণ খেলোয়াড়, সবসময় সম্মানের প্রত্যাশা করে এবং তা বজায় রাখা উচিত। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, তামিমের মতো একজন খেলোয়াড়ের প্রতি এই রকম মন্তব্য করা পুরো ক্রিকেট সম্প্রদায়ের জন্য ক্ষতিকর।
শান্তের মন্তব্যের সময় তিনি উল্লেখ করেন, ক্রিকেট বোর্ডকে ঘরের মানুষের মতো বিবেচনা করা হয়, যারা খেলোয়াড়দের রক্ষা ও সমর্থন করে। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি যে আমাদের ঘরের মানুষ, অর্থাৎ পরিবার ও সমর্থক, আমাদের পাশে থাকবে এবং আমাদেরকে সুরক্ষিত রাখবে”। শান্ত স্পষ্ট করে বলেন যে, তিনি কোনো ধরনের জনসমক্ষে তামিমের সমালোচনা গ্রহণ করতে পারবেন না এবং তিনি নিজেও এমন মন্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করেন।
শান্তের মতে, যদি কোনো সমালোচনা করা হয়, তবে তা ঘরের মধ্যে, পরিবারিক পরিবেশে হওয়া উচিত, জনসমক্ষে নয়। তিনি বলেন, “আমি চাই না যে আমার ভুলের জন্য আমাকে জনসমক্ষে তিরস্কার করা হোক; তা আমি একজন ক্রিকেটার হিসেবে মেনে নিতে পারি না”। শান্তের এই বক্তব্য তার সহকর্মী ও ভক্তদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পায়, যারা তাকে সমর্থন জানিয়ে বলেন যে, তিনি সঠিক পথে আছেন।
শান্তের মন্তব্যের পর, বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়কও প্রকাশ্যে তার হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বোর্ডের কর্মকর্তারা ক্রিকেটারদের যথাযথ সমর্থন না দিয়ে তাদের অপমান করছেন। এই ধারাবাহিক মন্তব্যগুলো ক্রিকেটারদের মধ্যে এক ধরনের একাত্মতা গড়ে তুলেছে, যেখানে সবাই একসাথে পরিচালনা পরিষদের মন্তব্যের বিরোধিতা করছে।
বিপিএল ম্যাচের পর শান্তের সঙ্গে তার সহকর্মীরা তামিমের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি ছোট সমাবেশে অংশ নেয়। তারা একসাথে তামিমের অবদানের প্রশংসা করে এবং পরিচালকের মন্তব্যের প্রতি বিরোধিতা করে। শান্তের এই সমাবেশে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, “যে কোনো ক্রিকেটারকে সম্মান ও সুরক্ষা দেওয়া উচিত, তা তার ক্যারিয়ার বা অবস্থান যাই হোক না কেন”।
বিসিবি পরিচালকের মন্তব্যের ফলে ক্রিকেটারদের মধ্যে এক ধরনের সুরক্ষা ও সমর্থনের দাবি উত্থাপিত হয়েছে। শান্তের মতে, বোর্ডের উচিত খেলোয়াড়দের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে তারা স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং কোনো ধরনের অবমাননাকর মন্তব্যের শিকার না হয়। তিনি শেষ পর্যন্ত বলেন, “আমি আশা করি যে ভবিষ্যতে এমন মন্তব্য না করে আমরা একসাথে ক্রিকেটের উন্নতি করতে পারব”।
এই ঘটনাটি বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে খেলোয়াড় ও বোর্ডের মধ্যে সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন। শান্তের স্পষ্ট ও দৃঢ় বক্তব্যের মাধ্যমে ক্রিকেটাররা তাদের অধিকার ও সম্মানের জন্য একসাথে দাঁড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতে ক্রিকেট নীতি ও পরিচালনা প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।



