গথেম পুরস্কার অনুষ্ঠানে গিলার্মো ডেল টোরো মঞ্চে এআই প্রযুক্তি সম্পর্কে তীব্র সমালোচনা করেন এবং একই বাক্যটি পুনরাবৃত্তি করে শোনার জন্য সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তার এই মন্তব্যের পরেই এআই‑বিরোধী সুরটি হলিউডের পুরস্কার মৌসুমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
ডেল টোরোর এই উক্তি, যা তিনি দুবার উচ্চারণ করেন, শিল্পের মধ্যে প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সম্পর্ক নিয়ে তীব্র বিতর্কের সূচনা করে। একই সময়ে, স্ট্রিমিং শো “দ্য স্টুডিও”তে আইস কিউব নিজ নামেই একই রকম মন্তব্য করেন, যা মেট রেমিকের জন্য অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি করে।
এই ঘটনাগুলি দেখায় যে এআই নিয়ে উদ্বেগ কেবল একক ব্যক্তির নয়, বরং পুরো শিল্পের একটি প্রবণতা হয়ে উঠেছে। পুরস্কার মৌসুমে, হলিউড এবং বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্র নির্মাতারা মানবিক অনুভূতি ও গল্পকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, যেখানে এআইকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে।
বর্তমান ওসকারের শীর্ষপ্রতিযোগিতায় হ্যামনেট, সেনটিমেন্টাল ভ্যালু, মার্টি সুপ্রিম এবং ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন মতো চলচ্চিত্রগুলো প্রধান স্থান দখল করেছে। এই ছবিগুলো গভীর মানবিক আবেগকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এবং প্রযুক্তিগত বুদ্ধিমত্তার তুলনায় মানবিক অনুভূতির ওপর জোর দেয়।
এই চলচ্চিত্রগুলোতে চরিত্রগুলোর সূক্ষ্ম অনুভূতি, পারিবারিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামকে বিশদভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা এআই‑সক্ষমতা দ্বারা পুনরায় তৈরি করা কঠিন বলে মনে করা হয়। ফলে, দর্শকরা এই চলচ্চিত্রগুলোতে মানবিকতার স্বাদ পেতে পারেন, যা প্রযুক্তি‑নির্ভর কাহিনীর তুলনায় আলাদা।
এক দশক আগে, ওসকারের প্রার্থীদের তালিকায় হিডেন ফিগারস, আরাইভাল এবং দ্য মার্টিয়ান মতো চলচ্চিত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেগুলো প্রযুক্তি ও অগ্রগতির ইতিবাচক দিককে তুলে ধরেছে। তবে আজকের তালিকায় এ ধরনের থিমের উপস্থিতি কমে গিয়ে মানবিক অনুভূতির ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।
এই বছরের ওসকারের প্রার্থীদের মধ্যে একমাত্র প্রযুক্তি‑সামর্থ্যপূর্ণ চলচ্চিত্র হল “এফ১”, যা পিস্টন ও টায়ার‑ট্রেডের ঐতিহ্যবাহী প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। অন্য সব চলচ্চিত্রই মানবিক গল্পকে কেন্দ্র করে, যা এআই‑বিরোধী মনোভাবকে আরও দৃঢ় করে।
সেন্টিমেন্টাল ভ্যালুর সহ-অভিনেত্রী এল ফ্যানিং উল্লেখ করেছেন যে, এ ধরনের চলচ্চিত্রের প্রয়োজনীয়তা বর্তমান সময়ে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, মানবিক অনুভূতি ও সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে তৈরি সিনেমা সমাজের জন্য প্রয়োজনীয় বার্তা বহন করে।
অন্যদিকে, বেস্ট অ্যাক্টর প্রার্থী লিওনার্ডো ডিক্যাপ্রিও সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এআইকে “সহায়ক সরঞ্জাম” হিসেবে স্বীকার করেন, তবে অতিরিক্ত ব্যবহারকে সতর্ক করেন যে তা মানবিক সৃজনশীলতাকে ক্ষয় করতে পারে। তার এই মন্তব্যও এআই‑বিরোধী আলোচনাকে তীব্র করে তুলেছে।
সারসংক্ষেপে, বর্তমান পুরস্কার মৌসুমে হলিউডের বেশিরভাগ চলচ্চিত্র মানবিক অনুভূতি ও সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যেখানে এআইকে সীমিত বা নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। এই প্রবণতা শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং দর্শকের প্রত্যাশাকে পুনর্গঠন করছে।
পাঠকদের জন্য পরামর্শ: এই মৌসুমের শীর্ষ চলচ্চিত্রগুলো দেখার মাধ্যমে মানবিক গল্পের গভীরতা ও প্রযুক্তি‑বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে নিজস্ব মত গঠন করা যেতে পারে। এভাবে আমরা প্রযুক্তি ও মানবতার সমন্বয় নিয়ে সচেতন আলোচনা চালিয়ে যেতে পারব।



