শন অ্যাশমোর নেতৃত্বে নির্মিত রহস্য‑থ্রিলার ‘দ্য হান্টসম্যান’ ৬ ফেব্রুয়ারি উত্তর আমেরিকায় নির্বাচিত থিয়েটারে প্রদর্শিত হবে। এপিক পিকচারস গ্রুপের মাধ্যমে প্রকাশিত এই ছবিটি ১০ ফেব্রুয়ারি ভিডিও‑অন‑ডিমান্ড (VOD) প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। চলচ্চিত্রটি মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং দর্শকদেরকে অপ্রত্যাশিত মোড়ে মোড়ে রাখার লক্ষ্য রাখে।
এপিক পিকচারস গ্রুপের উদ্যোগে এই চলচ্চিত্রটি সীমিত সংখ্যক থিয়েটারে মুক্তি পাবে, যা প্রথমে উত্তর আমেরিকায় সীমিত দর্শকগোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে। VOD মুক্তি পূর্বে থিয়েটার পর্যায়ে দর্শক প্রতিক্রিয়া সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে, ফলে বাড়ি থেকে সিনেমা উপভোগের সুযোগও দ্রুত আসবে।
চিত্রে শন অ্যাশমোর পাশাপাশি এলিজাবেথ মিচেল, জেসি শ্রাম এবং গ্যারেট ডিলাহান্টের মতো পরিচিত মুখগুলো উপস্থিত। মিচেল ‘লস্ট’ সিরিজে তার ভূমিকার জন্য পরিচিত, শ্রাম ‘ম্যাড মেন’ সিরিজে এবং ডিলাহান্ট ‘ফিয়ার দ্য ওয়াকিং ডেড’ সিরিজে দর্শকের নজরে এসেছেন। এই কাস্টের সমন্বয় চলচ্চিত্রের আকর্ষণকে বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চিত্রনির্দেশক কাইল কাওয়িকাহ হ্যারিস এই প্রকল্পের দায়িত্বে আছেন। হ্যারিসের সঙ্গে স্ক্রিপ্টের সহ-লেখক স্টিভেন জন হ্রিটনারের সহযোগিতায় চিত্রনাট্য রচিত হয়েছে, যা মূলত জুডিথ স্যান্ডার্সের উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। হ্যারিসের পরিচালনায় গল্পের গূঢ়তা ও নৈতিক দ্বন্দ্বকে তুলে ধরা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, ‘দ্য হান্টসম্যান’ উপন্যাসটি জুডিথ স্যান্ডার্সের রচনা, যা ইতিমধ্যে পাঠকদের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। উপন্যাসের মূল থিমগুলোকে চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত করতে হ্যারিস ও হ্রিটনারের দল যথাযথভাবে কাজ করেছে। ফলে গল্পের মূল সত্তা বজায় রেখে স্ক্রিনে নতুন রূপ পেয়েছে।
ফ্র্যাঙ্ক জে. মালিনস্কি এই প্রকল্পের এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে কাজ করছেন। তার অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি ছবির উৎপাদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মালিনস্কির তত্ত্বাবধানে চলচ্চিত্রের গুণগত মান নিশ্চিত করা হয়েছে।
হ্যারিস চলচ্চিত্রের মূল উদ্দেশ্যকে নৈতিক ধূসর ক্ষেত্র, ন্যায়বিচারের সীমা এবং সত্যের অস্থির প্রকৃতির অনুসন্ধান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, দর্শককে প্রতিটি মুহূর্তে প্রশ্ন করতে এবং অপ্রয়োজনীয় হিংসা না দিয়ে মানসিক উত্তেজনা বজায় রাখতে চেয়েছেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে চলচ্চিত্রটি মানসিক ভয় ও দুর্বলতার দ্বৈত অস্ত্রকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
পরবর্তীতে হ্যারিস উল্লেখ করেন, তিনি শুধুমাত্র বিনোদন নয়, বরং এমন এক অনুভূতি জাগাতে চান যা ক্রেডিট শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে স্মরণীয় থাকে। তিনি আশা করেন, অপ্রত্যাশিত মোড় এবং চরিত্রের অভ্যন্তরীণ দুঃখ, অপরাধবোধ বা প্যারানয়ার সঙ্গে মুখোমুখি হওয়া দর্শককে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে।
এপিক পিকচারস গ্রুপের সিইও প্যাট্রিক ইওয়াল্ডও ছবির থ্রিলার দিককে প্রশংসা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের উচ্চমানের থ্রিলার যা অন্ধকারময় পরিবেশ, শক্তিশালী অভিনয় এবং বুদ্ধিদীপ্ত মোড়ে পরিপূর্ণ, তা সমর্থন করা তাদের জন্য গর্বের বিষয়। ইওয়াল্ডের মতে, ‘দ্য হান্টসম্যান’ দর্শকের মনোযোগকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখবে এবং শেষ পর্যন্ত চমকপ্রদ সমাধান প্রদান করবে।
চলচ্চিত্রের থ্রিলার বৈশিষ্ট্য এবং কাস্টের পারফরম্যান্সকে বিবেচনা করে, দর্শকদেরকে এই নতুন রিলিজটি দেখার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। থিয়েটার প্রদর্শনের পর VOD সংস্করণ দ্রুতই উপলব্ধ হবে, ফলে বাড়িতে বসে সিনেমা উপভোগের সুযোগ পাবেন।
সামগ্রিকভাবে, ‘দ্য হান্টসম্যান’ একটি মনোযোগ আকর্ষণকারী থ্রিলার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে, যেখানে নৈতিক দ্বন্দ্ব, মানসিক টানাপোড়েন এবং অপ্রত্যাশিত মোড়ের সমন্বয় রয়েছে। সিনেমা প্রেমিক ও থ্রিলার অনুরাগীরা এই নতুন অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হতে পারেন।



