ভারত সরকার পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া জেলায় একটি নতুন নৌঘাঁটি স্থাপনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য বঙ্গোপসাগরে দেশের নৌ উপস্থিতি বাড়িয়ে সামুদ্রিক নজরদারি ও জরুরি প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা শক্তিশালী করা। একই সময়ে শিলিগুড়ি করিডোরে তিনটি নতুন সেনা ঘাঁটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়েছে, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ও রসদ সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। মিজোরাম রাজ্যে নতুন সেনা গঠন ও পাহাড়ি যুদ্ধের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যাতে সীমান্তে উদ্ভূত যেকোনো কৌশলগত ঝুঁকির দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।
নতুন নৌঘাঁটি হলদিয়ার কূলে নির্মাণাধীন, যেখানে আধুনিক নৌবাহিনীর জাহাজ ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা স্থাপন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ঘাঁটি বঙ্গোপসাগরের জলে ভারতের নজরদারি বাড়াবে এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত সমুদ্রযান পাঠানোর সক্ষমতা দেবে। নৌবাহিনীর এই পদক্ষেপ পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বৃহত্তর কৌশলগত কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শিলিগুড়ি করিডোর, যা পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দু, সেখানে তিনটি নতুন সেনা ঘাঁটি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘাঁটিগুলি উত্তর-পূর্বের সড়ক ও রেলপথের সংযোগ রক্ষা, সরবরাহ শৃঙ্খল নিরাপদ রাখা এবং সম্ভাব্য সীমানা উত্তেজনা মোকাবিলায় দ্রুত মোবিলাইজেশন নিশ্চিত করবে। করিডোরের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে, এই পদক্ষেপকে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা নীতির একটি মূল স্তম্ভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মিজোরাম রাজ্যে নতুন সেনা গঠন এবং পাহাড়ি যুদ্ধের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও সমান্তরালভাবে চলছে। এই অঞ্চলের কঠিন ভূপ্রকৃতি ও সীমান্তের সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে, ভারতীয় সেনাবাহিনী বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম দিয়ে গঠিত ইউনিট গঠন করছে। লক্ষ্য হল সীমান্তে উদ্ভূত যেকোনো হুমকির দ্রুত সাড়া দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
এই সব সামরিক উদ্যোগ একসাথে দেখায় যে পূর্ব দিকের নিরাপত্তা এখন দেশের কৌশলগত অগ্রাধিকার। নৌবাহিনীর নতুন ঘাঁটি, শিলিগুড়ি করিডোরের সেনা ঘাঁটি এবং মিজোরামের পাহাড়ি ইউনিটের গঠন—all together—দেশের পূর্ব সীমান্তে সম্ভাব্য ঝুঁকি হ্রাস এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, এই পদক্ষেপগুলো ভারতের সামরিক অবকাঠামোকে সমন্বিত করে পূর্ব অঞ্চলে শক্তি সমতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়লে বঙ্গোপসাগরে বাণিজ্যিক নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, আর শিলিগুড়ি ও মিজোরামের উন্নত সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সীমানা রক্ষা ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
ভবিষ্যতে, এই অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর সম্পূর্ণতা দেশের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নৌঘাঁটির কার্যকরী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় নৌবাহিনীর সমুদ্রসীমা পর্যবেক্ষণ বাড়বে, যা অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশে পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে, শিলিগুড়ি করিডোরের সেনা ঘাঁটি এবং মিজোরামের পাহাড়ি ইউনিটের শক্তিবৃদ্ধি সীমান্তে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে, সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি কমাবে।
সামগ্রিকভাবে, হলদিয়া, শিলিগুড়ি এবং মিজোরামের এই সামরিক উদ্যোগগুলো ভারতের পূর্ব সীমান্তে কৌশলগত প্রস্তুতি স্পষ্ট করে তুলছে, যা দেশের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



