ফেনী জেনারেল হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের সংলগ্ন অপারেশন থিয়েটারে দুই বছর ধারাবাহিকভাবে খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালের কর্মী, বিশেষত কিছু সিনিয়র নার্স, থিয়েটারের কক্ষকে রান্নাঘর ও বিশ্রামস্থল হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই অনিয়মের প্রেক্ষিতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাইফুল ইসলাম তিনজনের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যা পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ফলাফল উপস্থাপন করবে।
অভিযোগ অনুসারে, লেবার ওয়ার্ডে কর্মরত ডাক্তারগণও এই অবস্থা সম্পর্কে জানতেন এবং কখনো কখনো ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের জন্য এখানে রান্না করে খাবার পরিবেশন করতেন। এধরনের প্রথা রোগীর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি উভয়ই বিপন্ন করে তুলেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, অপারেশন থিয়েটারের মতো সংবেদনশীল পরিবেশে রান্না করা সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি করে এবং চিকিৎসা শৃঙ্খলার মৌলিক লঙ্ঘন। এ ধরনের অনিয়ম রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
একজন স্থানীয় নাগরিক, যিনি ঘটনাটির ব্যাপারে শোনার পর অবাক হয়েছেন, বলেন যে নার্সদের দ্বারা অপারেশন থিয়েটারে রান্না করা শোনাই অস্বাভাবিক এবং এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
আরেকজন রোগীর আত্মীয়, যিনি সম্প্রতি তার বোনকে লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি করিয়েছেন, জানান যে তিনি শুনেছেন নার্সরা থিয়েটারে রান্না চালিয়ে আসছেন এবং এটি দুই বছর ধরে চলছে। তিনি এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রৌকন উদ দৌলা উল্লেখ করেছেন যে, অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে রান্না করা সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক এবং এতে সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ে। তিনি জানান যে, এই বিষয়টি নিয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অর্থো সার্জারির জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. জামাল উদ্দিন স্বীকার করেছেন যে, হাসপাতাল বর্তমানে এই সমস্যার সম্মুখীন এবং এটি তাদের দুর্বলতা প্রকাশ করে। তিনি উল্লেখ করেন যে, পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্তের ফলাফল জানিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সংবেদনশীল স্থানে রান্না করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিমও এ বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন যে, অপারেশন থিয়েটারে কোনোভাবে রান্না করা সম্ভব নয় এবং এতে মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তিনি জানান যে, এই বিষয়টি নিয়ে সম্পূর্ণ তদন্ত করা হবে।
তদন্ত কমিটির গঠন ও সময়সীমা নির্ধারিত হওয়ায় আশা করা যায় যে, দ্রুতই স্পষ্ট ফলাফল পাবো এবং সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোগীর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার জন্য হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নিয়মকানুনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম পুনরায় না ঘটে।
পাবলিক স্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে, রোগী ও তাদের পরিবারকে এই ধরনের ঘটনার প্রতি সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে এবং হাসপাতালের কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানাতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা হলে, রোগীর বিশ্বাস পুনর্গঠন সম্ভব হবে।



