একটি নতুনভাবে সনাক্ত করা নিকট-পৃথিবী গ্রহাণু, তার আকারের তুলনায় সর্বোচ্চ ঘূর্ণন গতি রেকর্ড করেছে। এই গ্রহাণুটি প্রায় ৩০ মিটার ব্যাসের এবং মাত্র অর্ধ-সেকেন্ডে একবার ঘুরে যায়, যা একই আকারের অন্য কোনো গ্রহাণুর চেয়ে দ্রুত। গ্রহাণুটির নামকরণ করা হয় ২০২৬ AB১ হিসেবে, এবং এটি প্রথমবারের মতো জেডি ট্রান্সিয়েন্ট ফ্যাসিলিটি (ZTF) দ্বারা শনাক্ত করা হয়।
গ্রহাণুটির দ্রুত ঘূর্ণন গতি বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি গ্রহাণুর গঠন সম্পর্কে ধারণা দেয়। এত দ্রুত ঘূর্ণন হলে, যদি গ্রহাণুটি পাথরের টুকরো টুকরো (রাবল পাইল) দিয়ে গঠিত হয়, তবে তা নিজেই ছিন্ন হয়ে যাবে। তাই গবেষকরা অনুমান করছেন যে এই গ্রহাণুটি একক কঠিন শিলার গঠন, যা উচ্চ ঘনত্বের এবং দৃঢ়।
এই পর্যবেক্ষণটি প্যালোমার পার্সিভিয়ান টেলিস্কোপের সাহায্যে করা হয়েছিল, যেখানে উচ্চ রেজোলিউশনের চিত্র ব্যবহার করে গ্রহাণুটির ঘূর্ণন সময় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়। গবেষক দলটি গ্রহাণুটির আলোর পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে ঘূর্ণন গতি মাপতে সক্ষম হয়, যা ফ্ল্যাশ লাইট কার্ভ নামে পরিচিত পদ্ধতি।
গ্রহাণুটির কক্ষপথে পৃথিবীর নিকটবর্তী পাসের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বর্তমান তথ্য অনুযায়ী কোনো প্রভাবের ঝুঁকি নেই। এর কক্ষপথের ন্যূনতম দূরত্ব প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন কিলোমিটার, যা পৃথিবীর চাঁদের গড় দূরত্বের চেয়ে কিছুটা বেশি। তাই এটি তাত্ক্ষণিক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয় না।
বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ দেখায় যে এই ধরনের দ্রুত ঘূর্ণন গ্রহাণু সাধারণত ছোট আকারের এবং কঠিন পদার্থের গঠনের হয়। বৃহত্তর গ্রহাণু, যেগুলো রাবল পাইল দিয়ে গঠিত, তাদের ঘূর্ণন গতি সাধারণত ধীর হয়, কারণ অতিরিক্ত গতি তাদের ভেঙে ফেলতে পারে। তাই এই আবিষ্কারটি গ্রহাণুর গঠন ও বিকাশের মডেলকে পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
এই গ্রহাণুর ঘূর্ণন গতি পূর্বে রেকর্ড করা সবচেয়ে দ্রুত গ্রহাণু, ২০১৪ RC, এর তুলনায় সমান বা ততোধিক। ২০১৪ RC প্রায় ২০ মিটার ব্যাসের এবং ১ সেকেন্ডের কম সময়ে একবার ঘুরে। তবে ২০২৬ AB১ এর ঘূর্ণন সময় অর্ধ-সেকেন্ডের কাছাকাছি, যা এটিকে নতুন রেকর্ডধারী করে তুলেছে।
গবেষকরা গ্রহাণুটির ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করছেন, যাতে তার কক্ষপথের পরিবর্তন এবং ঘূর্ণন গতি আরও সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা যায়। এছাড়া, রেডিও টেলিস্কোপের মাধ্যমে রেডিও সিগন্যাল সংগ্রহ করে গ্রহাণুর পৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই আবিষ্কারটি নিকট-পৃথিবী গ্রহাণু গবেষণার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, কারণ এটি গ্রহাণুর শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও গতিবিদ্যা সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে। দ্রুত ঘূর্ণন গতি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা গ্রহাণুর অভ্যন্তরীণ গঠন, ঘনত্ব এবং উপাদান সম্পর্কে আরও সঠিক অনুমান করতে পারবে।
সারসংক্ষেপে, ২০২৬ AB১ নামের এই নতুন গ্রহাণুটি তার আকারের তুলনায় সর্বোচ্চ ঘূর্ণন গতি প্রদর্শন করেছে, যা তার কঠিন গঠনকে ইঙ্গিত করে এবং গ্রহাণু গঠন তত্ত্বে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করে। ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ এই গ্রহাণুর বৈশিষ্ট্যকে আরও স্পষ্ট করবে এবং নিকট-পৃথিবী গ্রহাণু গবেষণার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়তা করবে।
পাঠকদের জন্য প্রশ্ন রইল: যদি আরও এমন দ্রুত ঘূর্ণনকারী গ্রহাণু আবিষ্কৃত হয়, তবে আমাদের গ্রহাণু পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার পদ্ধতি কীভাবে পরিবর্তিত হবে?



