আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের উদ্বোধন ৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, আর এক মাসের কম সময় বাকি। দেশের ক্রিকেট দলকে এখন চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) ব্যবহার করে দুর্বল দিকগুলো মেরামত করা উচিত ছিল, তবে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বিষয়ে অনিশ্চয়তা খেলোয়াড়দের পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বৃহস্পতিবার আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)‑কে একটি চিঠি পাঠায়, যেখানে ভারত ভ্রমণের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে। এটি বোর্ডের দ্বিতীয় অনুরোধ, এবং এখন আইসিসি‑এর কাছ থেকে দ্রুত উত্তর প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই অনিশ্চয়তার মাঝেও, বাংলাদেশ দল রবিবার একটি ১৫ জনের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। স্কোয়াডে পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত, যা দলের কৌশলগত সমন্বয়ের সুযোগ দেয়। তবে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এই পরিস্থিতিতে মানসিক চাপ বাড়াতে পারে।
বিপিএল-এর চাট্টোগ্রাম রয়্যালসের অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার মাহেদি হাসান, যিনি বিশ্বকাপের স্কোয়াডের মধ্যেও অন্তর্ভুক্ত, তার দলের সিলেটের রায়শাহী ওয়ারিয়র্সের বিরুদ্ধে দুই উইকেটের জয়কে নিয়ে অনিশ্চয়তা সম্পর্কে মন্তব্য করেন।
মাহেদি বলেন, “অনিশ্চয়তা ব্যবস্থাপনার বিষয়, এটি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব। খেলোয়াড়ের কাজ শুধু খেলা।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি আপনাদের খেলোয়াড়দের মঙ্গল গ্রহে পাঠানও, তারা যাবে এবং খেলবে। কোনো খেলোয়াড়ের এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।” এই কথা তার দলের জয়োত্তীর্ণ পারফরম্যান্সের পর প্রকাশিত হয়, যেখানে রায়শাহী ওয়ারিয়র্সকে দুই উইকেটের পার্থক্যে পরাজিত করা হয়।
অন্যদিকে, একই ম্যাচে পূর্বে বিশ্বকাপের ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী নাজমুল হোসেন শান্তো, যিনি এইবারের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত নন, তার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। শান্তো অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, “প্রতিটি বিশ্বকাপের আগে আমাদের সঙ্গে কিছু না কিছু ঘটেই থাকে। আমি কয়েকটি বিশ্বকাপে খেলেছি, এবং এ ধরনের বিষয়গুলো খেলোয়াড়দের উপর প্রভাব ফেলে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমরা এমন ভান করি যে কিছুই আমাদের প্রভাবিত করে না, আমরা পেশাদার ক্রিকেটার। তবে সবাই জানে, আমরা আসলে অভিনয় করছি।” শান্তোর এই মন্তব্য দলীয় মনোভাবের একটি সূক্ষ্ম দিক উন্মোচন করে, যেখানে প্রকাশ্যভাবে প্রকাশ না করলেও অভ্যন্তরীণ উদ্বেগের উপস্থিতি স্বীকার করা হয়।
বিপিএল চলাকালীন এই দুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দলের প্রস্তুতির পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে, কিছু খেলোয়াড় অনিশ্চয়তাকে প্রশাসনিক দায়িত্ব হিসেবে দেখিয়ে নিজের কাজের ওপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে চান; অন্যদিকে, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মতে, এমন পরিস্থিতি মানসিকভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, যদিও তা প্রকাশ্যে স্বীকার করা হয় না।
বিসিবি’র চিঠি পাঠানোর পর থেকে আইসিসি‑এর কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর পাওয়া যায়নি, তবে সময়সীমা কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা বাড়ছে। স্কোয়াডের পরিবর্তনের শেষ তারিখ ৩১ জানুয়ারি, তাই দলকে এই সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য পরিবর্তন বা সমন্বয় করতে হবে।
বিশ্বকাপের আগে বিপিএল-এর এই ম্যাচগুলো খেলোয়াড়দের ফর্ম যাচাই, দলীয় সমন্বয় এবং মানসিক প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এবং আইসিসি‑এর উত্তর না পাওয়া দলীয় পরিকল্পনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
মাহেদি ও শান্তোর উক্তি থেকে স্পষ্ট হয়, দলীয় নেতৃত্বের মধ্যে প্রস্তুতি, মনোভাব এবং অনিশ্চয়তার মোকাবিলায় ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। এই পার্থক্যগুলো কিভাবে দলীয় পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।
সর্বশেষে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আবেদন এবং আইসিসি‑এর প্রতিক্রিয়া বিশ্বকাপের আগে দলের প্রস্তুতির মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়াবে। স্কোয়াডের চূড়ান্ত রূপ এবং খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থা নির্ধারণে এই দুই বিষয়ের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হবে।



