শুক্রবারের ছুটির দিনে ঢাকার শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা ও যাত্রাবাড়ি বাজারে চালের দাম বাড়ার দৃশ্য দেখা গেল। দেশীয় নাজিরশাইল চালের দাম এক কেজি ৮৮ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ৮৫ টাকায় পাওয়া যেত। একই সময়ে ভারতীয় নাজিরশাইল চালের দাম ৮৫ টাকায় স্থির, যেখানে পূর্বে তা ৮০ টাকায় বিক্রি হতো।
বাজারে নতুন চালের পাশাপাশি পুরনো চালও উপস্থিত, তবে পুরনো চালের দাম সামান্য বেশি। শান্তিনগরের মদিনা রাইস ট্রেডার্সের মালিক জানান, বাজারে চালের সরবরাহ যথেষ্ট, তবে দেশীয় ও ভারতীয় নাজিরশাইলের দাম এক সপ্তাহে পাঁচ টাকা বাড়েছে। বড় বড় বিক্রেতা ও কোম্পানির চালের দাম বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে ছোট ব্যবসায়ী ও চাতালে প্রস্তুত চালের দাম কেজিতে এক থেকে দুই টাকা বাড়েছে।
সেগুনবাগিচা বাজারের একজন বিক্রেতা উল্লেখ করেন, মিনিকেট চালের দাম বাড়ছে এবং ভারতীয় চালের আমদানি বন্ধ হওয়ায় বাজারের দাম তীব্রতর হয়েছে। তিনি আরও জানান, দেশীয় নাজিরশাইল চালের দাম ৮৮ থেকে ৯০ টাকায় এবং ভারতীয় নাজিরশাইল চালের দাম ৮৫ টাকায় স্থির রয়েছে।
যাত্রাবাড়ি হানিফস রাইস ট্রেডার্সের পরিচালক জানান, তারা একটি দেশীয় কোম্পানির মিনিকেট চালের দাম এক কেজি ৭৫ টাকায় বিক্রি করছেন, যা গত সপ্তাহে ৭০ টাকা ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, বাজারে নতুন ও পুরনো চালের দাম পার্থক্য কম, নতুন চালের দাম পুরনো চালের তুলনায় দুই থেকে তিন টাকা কম হওয়া উচিত।
শীতকালীন সবজির সরবরাহ ঠিকঠাক থাকলেও দাম প্রত্যাশিতভাবে কমেনি। বাজারে সবজির দাম স্থিতিশীল, যদিও শীতকালে সরবরাহ বাড়ার কথা ছিল। এই পরিস্থিতি ভোক্তাদের জন্য স্বস্তি না এনে দেয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বার্ষিক চালের চাহিদা ৩ কোটি ৭০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৯০ লাখ টন পর্যন্ত। বর্তমান মাসে আমন ধানের চাল বাজারে আসতে শুরু করেছে, যা পুরনো চালের সঙ্গে মিশে রয়েছে এবং শীঘ্রই শেষ হওয়ার পথে।
বাজারে চালের সরবরাহের গঠনও পরিবর্তিত হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, ঢাকার বাজারে বিভিন্ন জেলার মিলারদের তুলনায় কর্পোরেট কোম্পানির সরবরাহের পরিমাণ বেশি। গত দশকে চার থেকে পাঁচটি বড় কোম্পানি চালের বাজারে আধিপত্য বিস্তার করেছে, যা দাম নির্ধারণে প্রভাব ফেলছে।
চালের দাম বাড়ার পেছনে সরাসরি কোনো কারণ প্রকাশিত না হলেও, আমদানি বন্ধ, কর্পোরেট সরবরাহের বৃদ্ধি এবং পুরনো চালের সীমিত স্টক এই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করেছে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করেন। ভবিষ্যতে আমন ধানের চালের প্রবেশ এবং পুরনো চালের শেষ হওয়া চালের দামের গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল না হওয়ায় ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীর জন্য। তবে সবজির দাম স্থিতিশীল থাকায় সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি চাপ কিছুটা কমে। সরকারী নীতি ও আমদানি নিয়মের পরিবর্তন চালের দামের গতি নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।
এই পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প খোঁজা এবং বাজারের দামের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। চালের দাম স্থিতিশীল না হলে, গৃহস্থালির ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলবে।



