ব্রিটিশ অভিনেতা টম ব্লাইথ, যিনি ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’ দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি অর্জন করেছেন, সম্প্রতি নতুন নেটফ্লিক্স রোম্যান্টিক কমেডি ‘পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন’ এর প্রচারকালে ক্যারিয়ার সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি টাইপকাস্টিংয়ের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশের পাশাপাশি কাজের গতি কমিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।
এই মন্তব্যগুলো লন্ডন থেকে অনুষ্ঠিত একটি জুম সেশনে মধ্য-ডিসেম্বরে শেয়ার করা হয়। আলোচনায় তিনি স্বীকার করেন যে কখনো কখনো নিজেকে বিশ্রাম দেওয়া ভুলে যান এবং আশেপাশের মানুষদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া দরকার।
ব্লাইথের ২০২৫ সালের কাজের তালিকা অত্যন্ত ব্যস্ত ছিল; একই বছরে তিনি তিনটি ভিন্ন প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন করেন। এই চলচ্চিত্রগুলো হল ‘প্লেইনক্লথস’, ‘দ্য ফেন্স’ এবং ‘ওয়াস্টম্যান’, যেগুলো বিভিন্ন ধারায় দর্শকের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে।
প্রতিটি ছবির মুক্তির পর তিনি প্রচারমূলক ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। এই ধারাবাহিক প্রচার কাজ তার সময়সূচিকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।
নেটফ্লিক্সের ‘পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন’ ছবিটি আধুনিক রোম্যান্স লেখক এমিলি হেনরির একই নামের উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি। ব্লাইথকে অ্যালেক্স নিলসেন চরিত্রে কাস্ট করা হয়, যিনি সহ-অভিনেত্রী এমিলি ব্যাডারের পপি রাইটের বিপরীত স্বভাবের চরিত্রে অভিনয় করেন।
এই প্রকল্পটি তার জন্য প্রধানধারার রোম্যান্টিক কমেডি জঁরে প্রথম প্রধান ভূমিকা, যা তাকে নতুন দর্শকগোষ্ঠীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। ছবির গল্পে দুই চরিত্রের ভ্রমণ ও সম্পর্কের উত্থান-পতনকে কেন্দ্র করে রোম্যান্সের আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে।
ব্লাইথের মতে, ধারাবাহিকভাবে নতুন প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার আগে তিনি নিজেকে প্রশ্ন করেন যে তিনি সত্যিই সেই ভূমিকা গ্রহণে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন কিনা। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রতিটি কাজের আগে আমি থেমে ভাবি, এটা কি আমাকে সঠিক পথে নিয়ে যাবে।”
তিনি শিল্পের ব্যবসায়িক এবং প্রযুক্তিগত দিকগুলোকে ক্যাপিটালিজমের কাঠামোর অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা সব শিল্পীর জন্য অপরিহার্য। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সৃজনশীল দিকটি মানবিক অভিজ্ঞতার ভিত্তি, যা কাজকে অর্থবহ করে।
ব্লাইথের দৃষ্টিতে, চলচ্চিত্রের সাফল্য শুধুমাত্র সৃজনশীল প্রক্রিয়ায় নয়, বরং তার প্রচারেও নির্ভরশীল। তিনি বলেন, “একটি ছবি তৈরি করা শেষ নয়; তা দর্শকের সামনে পৌঁছাতে হলে প্রচার দরকার।”
প্রচার না করলে কাজটি অদৃশ্য হয়ে যায়, যা তিনি স্বার্থপর কাজের সমান হিসেবে উল্লেখ করেন। তাই তিনি সব সময় প্রচারমূলক কার্যক্রমকে নিজের দায়িত্বের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেন।
ব্লাইথের মতে, ব্যবসায়িক দায়িত্ব এবং সৃজনশীল স্বাধীনতার মধ্যে সমতা বজায় রাখা শিল্পের টেকসই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। তিনি এই ভারসাম্য বজায় রাখতে নিজের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করছেন।
বিশ্রাম নেওয়া এবং নিজের সৃজনশীল সীমা প্রসারিত করা তার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশাবাদী যে, যথাযথ বিশ্রাম এবং সঠিক প্রকল্পের নির্বাচন তাকে দীর্ঘমেয়াদে সফল করবে।
ভবিষ্যতে তিনি আরও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করতে ইচ্ছুক, তবে একই সঙ্গে নিজেকে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে না ফেলে কাজের গতি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করেছেন। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি শিল্পে নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের জন্য উদাহরণস্বরূপ বিবেচিত হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, টম ব্লাইথের ক্যারিয়ার গতি, টাইপকাস্টিং নিয়ে উদ্বেগ এবং নতুন নেটফ্লিক্স রোম্যান্সের প্রচার তার পেশাগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করে, যেখানে তিনি ব্যবসা ও সৃজনশীলতার সমন্বয়কে মূল নীতি হিসেবে গ্রহণ করছেন।



