দৌদকান্দি উপজেলা, কুমিল্লা—ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বানিয়াপাড়া এলাকায় আজ দুপুর ১২ঃ৪০ টার দিকে একটি বাস, একটি মোটরবাইক এবং একটি সিএনজি অটো-রিকশা ধাক্কা খায়। ধাক্কা মারার পর জ্বালানির ছিটে যাওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং চারজনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি উচ্চ গতিতে চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়। বাসের ধাক্কা মোটরবাইক ও অটো-রিকশার ওপর পড়ে, ফলে উভয় গাড়ির জ্বালানি ছড়িয়ে যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে শিখা ছড়িয়ে পড়ে। শিখা দ্রুত বাসের পুরো গাড়ি জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, যা পৃষ্ঠতলে দাহ্য বস্তুগুলোর সঙ্গে মিশে বিশাল অগ্নিকাণ্ডে রূপ নেয়।
অগ্নি নিভানোর জন্য স্থানীয় দমকল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দমকল কর্মীরা অগ্নি নিভিয়ে চারজনের দেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত দেহগুলো পরে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের তদন্তকক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মৃতদেহের মধ্যে রয়েছে মোটরবাইক চালক মোঃ শামিম, ৪১ বছর বয়সী, এবং তার ৬ বছর বয়সী পুত্র নাদিম, যারা দুজনই দৌদকান্দি পেন্নাই গৌরিপুর এলাকায় বসবাস করতেন। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার ১৮ মাসের হোসেন নামের শিশুটিও বাসের যাত্রী হিসেবে ধরা পড়ে। বাকি এক নারী ভুক্তভোগীর পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
দুর্ঘটনায় বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। দৌদকান্দি আপিল হেলথ কমপ্লেক্সের ডাঃ হাবিবুর রহমান জানান, মোট ২৬ জন যাত্রীকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জনকে উন্নত সেবা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
দৌদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ স্টেশনের অফিসার-ইন-চার্জ ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, দুর্ঘটনা ঘটার সময় বাসটি অতিরিক্ত গতি করছিল এবং তা সরাসরি মোটরবাইক ও অটো-রিকশার সঙ্গে ধাক্কা খায়। তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্তে জ্বালানির ছিটে যাওয়াই অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ বলে ধরা হচ্ছে।
দৌদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের ইন-চার্জ এরশাদ উল্লাহ জানান, অগ্নি নিভানোর কাজের পাশাপাশি দেহ উদ্ধার ও আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আহতদের মধ্যে গৃহস্থালি ও বয়সের বিভিন্ন স্তরের মানুষ ছিলেন, তবে কোনো গুরুতর শারীরিক ক্ষতি ছাড়া অধিকাংশই ত্বরিত সেবা পেয়েছেন।
ডাঃ হাবিবুর রহমানের মতে, আহতদের মধ্যে কিছু রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল হলেও, শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যায় আক্রান্ত কয়েকজনকে তীব্র পর্যবেক্ষণ ও অতিরিক্ত অক্সিজেন সাপোর্টের প্রয়োজন হয়েছে। তিনি যোগ করেন, রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার পর বাস চালককে তৎক্ষণাৎ সনাক্ত করা যায়নি; তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ তাকে অনুসন্ধান করছে। পরে পুলিশ বাসটি জব্দ করে এবং চালকের পরিচয় ও দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য তদন্ত চালু করেছে।
ঘটনা ঘটার পর সন্ধ্যা ৮ঃ৩০ টার দিকে পর্যন্ত কোনো অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়নি এবং কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী বিবৃতি ও ডিএসএল রেকর্ড বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধমূলক দায়িত্ব নির্ধারণের কাজ চলমান।
অধিক তদন্তের পর যদি প্রমাণিত হয় যে বাসের চালক গতি সীমা অতিক্রম করে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন, তবে তিনি ট্রাফিক আইন অনুযায়ী শাস্তি পেতে পারেন। বর্তমানে পুলিশ দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনাস্থলের ফোরেন্সিক বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
এই দুর্ঘটনা স্থানীয় বাস ও সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিরাপদ গতি বজায় রাখা, জ্বালানি লিক নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি সেবা দ্রুত পৌঁছানোর ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান করা হচ্ছে।



