উগান্ডা ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনে ২১.৬ মিলিয়ন নিবন্ধিত ভোটারদের সামনে দুইজন প্রধান প্রার্থী—প্রেসিডেন্ট যোয়েরি মুসেভেনি এবং প্রাক্তন পপ-স্টার ববি ওয়াইন—একই ভোটের পাত্রে দাঁড়িয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ভোটের সময় সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারিত, এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিউতে থাকা ভোটারদের ভোট দেওয়ার অনুমতি থাকবে।
প্রেসিডেন্ট যোয়েরি মুসেভেনি, ৮১ বছর বয়সী, ১৯৮৬ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন এবং এই নির্বাচন তার সপ্তম ধারাবাহিক জয় অর্জনের প্রচেষ্টা। তিনি জাতীয় প্রতিরোধ আন্দোলনের (NRM) নেতা এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় গেরিলা বাহিনীর প্রধান ছিলেন। তার শাসনকালকে প্রায় চার দশক ধরে একক শাসন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা তাকে আফ্রিকার তৃতীয় দীর্ঘতম সময় ধরে শাসনরত নেতায় পরিণত করেছে।
ববি ওয়াইন, ৪৩ বছর বয়সী, মূলত সঙ্গীত শিল্পে জনপ্রিয়তা অর্জন করে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিবর্তনের ইচ্ছা থেকে সমর্থন পেয়ে ‘গভর্ন্যান্স রেভোলিউশন’ এবং ব্যাপক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার প্রচারণা মূলত যুবকেন্দ্রিক, যেখানে বেকারত্বের সমস্যাকে প্রধান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এই নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে বিরোধী দলের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি, কর্মী ও সক্রিয়তাবাদীর গ্রেফতার এবং পুলিশি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে র্যালি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতি পূর্বের নির্বাচনে দেখা গিয়েছিল এবং বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
উগান্ডার জনসংখ্যার অধিকাংশই ৩০ বছরের নিচে, এবং উচ্চ বেকারত্বের হার দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক নীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রশ্নগুলো নির্বাচনের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোটদান প্রক্রিয়া সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে, এবং ভোটারদের নামের তালিকায় থাকা হলে তারা যেকোনো সময়ে ভোট দিতে পারবেন। মোট ২১.৬ মিলিয়ন নিবন্ধিত ভোটার এই তিনটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন, যেখানে প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্টের সদস্য এবং স্থানীয় স্তরের প্রতিনিধিদের নির্বাচন হবে।
২০২১ সালের নির্বাচনে মুসেভেনি ৫৮% ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, আর ববি ওয়াইন ৩৫% ভোট পেয়েছিলেন। তবে সেই নির্বাচনে ফলাফল নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ উঠে, এবং বিরোধী দলের ওপর কঠোর দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
মুসেভেনি ৪০ বছর আগে গেরিলা বাহিনীর নেতা হিসেবে ক্ষমতায় আসেন, যখন উগান্ডা দীর্ঘ সময়ের গৃহযুদ্ধ এবং ইডি আমিনের স্বৈরাচারী শাসন থেকে বেরিয়ে আসছিল। তিনি তখন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নতুন প্রজন্মের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।
কয়েক বছর পর থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিরোধী দমন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সমালোচনা বাড়তে থাকে। এই সমালোচনাগুলো মুসেভেনির জনপ্রিয়তাকে প্রভাবিত করেছে, যদিও তিনি এখনও দেশের অধিকাংশ মানুষের জন্য পরিচিত একমাত্র প্রেসিডেন্ট।
বর্তমান সময়ে মুসেভেনি আফ্রিকায় তৃতীয় দীর্ঘতম শাসনকাল সম্পন্ন করছেন, এবং তার শাসনকাল শেষের দিকে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা তীব্রতর হচ্ছে। ভোটের ফলাফল নির্ধারিত হলে উগান্ডার অভ্যন্তরীণ নীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের দিক নির্ধারিত হবে, যা পরবর্তী কয়েক বছর দেশের উন্নয়নকে প্রভাবিত করবে।



