বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ শুক্রবার বিকেলে মোসাব্বিরের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে সমবেদনা জানিয়ে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে নির্বাচনবিরোধী স্বেচ্ছাসেবক গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেন। তিনি উল্লেখ করেন, হত্যাটি পূর্ব পরিকল্পিত এবং সুসংগঠিত ষড়যন্ত্রের অংশ।
মোসাব্বিরের হঠাৎ মৃত্যু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শোকের ছায়া ফেলেছে। পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার পর, সালাহউদ্দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় ঘটনাটির বিশদে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যারা নির্বাচনকে অস্বীকার করে, তাদেরই এই অপরাধে জড়িত থাকার সম্ভাবনা বেশি।
সালাহউদ্দিনের মতে, হত্যাটি কেবল একক অপরাধ নয়, বরং একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের কাজের পেছনে সুসংগঠিত গোষ্ঠীর হাত থাকতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষুন্ন করতে চায়।
বিবাদে তিনি তৎক্ষণাৎ স্বতন্ত্র ও নির্ভরযোগ্য তদন্তের দাবি তোলেন। তিনি দাবি করেন, তদন্তের প্রক্রিয়া যেন কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকে এবং সত্যিকারের দায়িত্বশীলদের সামনে আনা হয়।
সালাহউদ্দিন উল্লেখ করেন, “যারা নির্বাচনকে অগ্রাহ্য করে, তারা এই হত্যার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।” তিনি এই মন্তব্যে জাতীয় অপশক্তি শব্দটি ব্যবহার করে, যারা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধা দিতে চায়, তাদের প্রতি ইঙ্গিত দেন।
তদুপরি, তিনি বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, স্বৈরাচারী শক্তি নির্বাচনকে বিকৃত করার চেষ্টা করছে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রতি তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
মোসাব্বিরের পরিবারের প্রতি দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, তার স্ত্রী ও সন্তানদের প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দলীয়ভাবে প্রদান করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরিবারকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে তারা এই কঠিন সময়ে একা না থাকে।
বিএনপি দলীয় কাঠামো অনুযায়ী, পরিবারের সকল প্রয়োজনীয়তা পূরণে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি পরিবারকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সেবা সরবরাহে তৎপর থাকবে।
সালাহউদ্দিনের এই মন্তব্যের ফলে রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনের আগে এ ধরনের অভিযোগ পার্টিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়াতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি স্বতন্ত্র তদন্ত না হয়, তবে এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে। তাই, দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা জরুরি।
অবশেষে, সালাহউদ্দিনের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি এবং তার দল এই হত্যাকাণ্ডের দায়িত্বশীলদের বিচারের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন করা হবে।



