চট্টগ্রাম‑৬ (রাওজান) আসন নিয়ে বিএনপি প্রার্থী গিয়াসুদ্দিন ক্বাদার চৌধুরী আজ বিকেলে তার গুডস হিল, জামালখান বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত পার্টির উচ্চ কমান্ডের সিদ্ধান্তে তিনি যে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন করবেন।
সম্মেলনে তিনি রাওজানে চলমান রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও আসন্ন নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। গিয়াসুদ্দিনের সঙ্গে একই আসনের জন্য গুলাম আকবর খান্দকার, চট্টগ্রাম বিএনপির উত্তর জেলা ইউনিটের অবসৃত কনভিনার,ও পার্টির টিকিট নিয়ে নাম লেখিয়েছেন।
দুই প্রার্থীরই নামজারি কাগজপত্র পার্টির অনুমোদন পেয়ে জমা দেওয়া হয় এবং জেলা রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রাম ডেপুটি কমিশনার জাহিদুল আলম মিয়া উভয়েরই মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন।
এখন পর্যন্ত পার্টি উভয় প্রার্থীর নাম তালিকায় রেখেছে, তবে চূড়ান্ত তালিকা পাওয়া গেলে শুধুমাত্র একজনই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
গিয়াসুদ্দিন যখন জিজ্ঞেস করা হয়, যদি পার্টি তাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন না দেয় তবে গুলাম আকবরকে সমর্থন করবেন কিনা, তিনি উত্তর দেন, “আমি কি কাউকে সমর্থন করব না, তা পার্টির উচ্চ কমান্ডই নির্ধারণ করবে। আমি স্পষ্টভাবে বলেছি—আমি পার্টি যা সিদ্ধান্ত নেবে, তা মেনে চলব; এটাই সহজ।”
এছাড়া তিনি যোগ করেন, “আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী, এবং আমি নিশ্চিত যে আমার উচ্চ কমান্ড আমাকে উপেক্ষা করবে না।” এই মন্তব্য থেকে দেখা যায়, পার্টির অভ্যন্তরে তার অবস্থান ও প্রভাব সম্পর্কে তার দৃঢ় বিশ্বাস।
রাওজানে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটমান গুলিবিদ্ধি ও অবৈধ অস্ত্রের সমস্যার মোকাবিলায় গিয়াসুদ্দিন ব্যক্তিগতভাবে পদক্ষেপ নেন। তিনি জানান, “আমি পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে হোম অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি লিখেছি। ঐ চিঠিতে আমি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করার জন্য বিশেষ অভিযান চালানোর দাবি করেছি।”
চিঠিতে তিনি রাওজানই নয়, সমগ্র চট্টগ্রাম জুড়ে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বিত অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্রের দখল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
গিয়াসুদ্দিনের মতে, “পার্টি আমাকে সবুজ সংকেত দিয়েছে, তাই আমি এখানে আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছি।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, পার্টির সমর্থন পেয়ে তিনি নিজেকে নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন।
ভবিষ্যতে পার্টি কোন প্রার্থিকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে, তা নির্ধারণের পর চট্টগ্রাম‑৬ আসনে ভোটের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলবে। উভয় প্রার্থীরই স্থানীয় ভিত্তি শক্তিশালী, তবে পার্টির একক প্রার্থী নির্বাচন হলে ভোটারদের পছন্দের দিক নির্ধারিত হবে।
অবশেষে, গিয়াসুদ্দিনের এই প্রকাশনা পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে বলে আশা করা যায়, এবং রাওজানের নিরাপত্তা সমস্যার সমাধানে পার্টি ও সরকারী সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে।



