শুক্রবার বিকাল, ঠাকুরগাঁও শহরে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সময় তিনজন প্রার্থীকে ডিজিটাল ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন করার অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের ওপর তদন্ত চালু রয়েছে।
স্থানীয় গোয়েন্দা বিভাগের ওসির মতে, দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বিকাল ৩টা থেকে ৪:৩০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। ঠাকুরগাঁওতে একই সময়সূচিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা বাড়ে।
পরীক্ষা তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একসাথে অনুষ্ঠিত হয়: কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং ঠাকুরগাঁও রোড ডিগ্রি কলেজ। এই তিনটি কেন্দ্রেই সন্দেহভাজন প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে লিটন দাসের স্ত্রী জ্যোতি রাণী দাস, যিনি মিলননগর এলাকার বাসিন্দা; আইনুল হকের মেয়ে রিপা আক্তার, যিনি খটশিংগা গ্রামের বাসিন্দা; এবং শনিচরণ চন্দ্র রায়ের ছেলে নরদেব চন্দ্র, যিনি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ী ভোটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাদের নাম মূল সংবাদে যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনই রাখা হয়েছে।
তদন্তকালে তল্লাশি করা হলে প্রত্যেকের পোশাকের নিচে এবং ব্যাগে ডিজিটাল ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া যায়। এই ডিভাইসগুলোকে পরীক্ষার সময় অননুমোদিত সহায়তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ডিভাইসের ধরণ ও পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
গোয়েন্দা পুলিশ ওসির রসুল গোলাম জানান, তল্লাশি চলাকালীন ডিভাইস পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রেফতারকৃতদের সঙ্গে অতিরিক্ত কোনো সহায়ক বা সহচর আছে কিনা তা জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ চালু রয়েছে।
অটেন্ডেন্স রেকর্ড অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত তিনজনই পরীক্ষার কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন এবং ডিভাইস ব্যবহার করে অনুন্নত উপায়ে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদুপরি, গ্রেফতারকৃতদের ব্যক্তিগত সামগ্রীও তল্লাশি করা হয়েছে, তবে অন্য কোনো অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ডিভাইসের উৎস, ব্যবহার পদ্ধতি এবং অন্য কোনো সহায়ক সংস্থা জড়িত আছে কিনা তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা বিভাগ এই তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য অপরাধী নেটওয়ার্কের সন্ধান চালিয়ে যাবে।
আইনি দিক থেকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক ধারা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সময় অননুমোদিত সহায়তা ব্যবহার করা একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং এর শাস্তি কঠোর হতে পারে।
এই ঘটনার পর, দেশের অন্যান্য পরীক্ষাকেন্দ্রেও নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত তদারকি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার রোধে পরীক্ষার আগে ও পরে কঠোর তল্লাশি করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে ভবিষ্যতে পরীক্ষার সময় সিকিউরিটি প্রোটোকল আরও শক্তিশালী করা হবে। এছাড়া, পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নৈতিক দায়িত্বের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হবে।
পরবর্তী পর্যায়ে, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হবে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, যদি অতিরিক্ত অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তি আরোপ করা হতে পারে। এই বিষয়টি স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে থাকবে এবং জনসাধারণকে সময়ে সময়ে আপডেট প্রদান করা হবে।



