শেরপুর ও জামালপুরের সাংবাদিকদের জন্য প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজন করা দুই দিনের নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ ৯ জানুয়ারি শুক্রবারে সমাপ্ত হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয় এবং সমাপনী অনুষ্ঠান শেরপুর জেলা প্রশাসনের তুলশীমালা ট্রেনিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এই সময়ে মিডিয়ার ভূমিকা সঠিক ও নিরপেক্ষ রাখতে হবে। এজন্য পিআইবি সাংবাদিকদের আইনগত জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে এই ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন করেছে।
প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচনী সময়ে সংবাদ পরিবেশে কোনো বিচ্যুতি না ঘটিয়ে তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা। এতে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের নির্বাচন সংক্রান্ত আইন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা এবং সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড সম্পর্কে গভীর ধারণা প্রদান করা হয়।
মিডিয়াকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করে, প্রশিক্ষণে গণমাধ্যমের দায়িত্ব ও কর্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সঠিক তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা মিডিয়ার মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণের রিসোর্স পারসন হিসেবে পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন, এটিএন বাংলার চিফ রিপোর্টার একরামুল হক সায়েম এবং ডেইলি স্টারের সিনিয়র রিপোর্টার বাহারাম খান উপস্থিত ছিলেন। তারা নির্বাচনী রিপোর্টিংয়ের প্রয়োজনীয়তা, সামাজিক প্রভাব এবং বাস্তবিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল এবং কার্যকরী সভাপতি রফিক মজিদও বক্তব্য রাখেন। তারা স্থানীয় মিডিয়ার উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মতামত প্রকাশ করেন।
প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তুতে নির্বাচনী রিপোর্টিংয়ের মৌলিক নীতি, করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়, সাংবাদিকতার নৈতিকতা, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা এবং প্রাসঙ্গিক আইনশাস্ত্রের বিশদ আলোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব উদাহরণ দিয়ে কীভাবে সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা যায় তা শিখতে পারলেন।
শেরপুর ও জামালপুর জেলায় মোট পঞ্চাশজন সাংবাদিক এই প্রশিক্ষণে অংশ নেন। তারা বিভিন্ন মিডিয়া সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে, যার মধ্যে স্থানীয় পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল এবং টেলিভিশন চ্যানেল অন্তর্ভুক্ত। সকল অংশগ্রহণকারীকে প্রশিক্ষণ শেষে সনদ প্রদান করা হয়।
প্রশিক্ষণের শেষে অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণের কার্যকারিতা নিয়ে ইতিবাচক মতামত প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনী সময়ে তথ্যের সঠিকতা বজায় রাখতে আইনগত জ্ঞান ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, বাস্তবিক কেস স্টাডি ও রোল প্লে সেশন তাদের রিপোর্টিং দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
প্রশিক্ষণে নির্বাচনী পরিবেশে তথ্যের দ্রুত প্রচার ও ভুল তথ্যের বিস্তার রোধের উপায়ও আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে সামাজিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া গুজবের মোকাবিলায় যাচাই প্রক্রিয়া ও সূত্রের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করার পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে।
অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের জন্য প্রশিক্ষকেরা কিছু ব্যবহারিক টিপসও শেয়ার করেন। উদাহরণস্বরূপ, ভোটার তালিকা যাচাই করার সময় সরকারি ডেটাবেসের সঙ্গে ক্রস-চেক করা, নির্বাচনী বিজ্ঞাপন ও প্রচারমূলক উপকরণ বিশ্লেষণ করা এবং নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার সময় সঠিক সময়সূচি মেনে চলা।
প্রশিক্ষণের ফলস্বরূপ, স্থানীয় মিডিয়া কর্মীরা এখন নির্বাচনী সময়ে তথ্যের সঠিকতা ও নৈতিক দায়িত্ব সম্পর্কে অধিক সচেতন। এ ধরনের প্রশিক্ষণ ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে গেলে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
আপনার যদি কোনো মিডিয়া সংস্থা বা সাংবাদিক এই ধরনের প্রশিক্ষণে অংশ নিতে চান, তবে পিআইবির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আপডেটেড তথ্য অনুসরণ করুন। ভবিষ্যতে আরও কোন দক্ষতা উন্নয়ন প্রোগ্রাম আপনার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন?



