বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৯ জানুয়ারি শুক্রবার সকালবেলা থাকুরগাঁ শহরের কালীবাড়ি তাঁতিপাড়া এলাকায় নিজের পৈতৃক বাসভবনে সাংবাদিকদের সামনে গণভোটে ‘না’ বলার কোনো বিকল্প না থাকায় মন্তব্য করেন। তিনি একই সঙ্গে বিএনপি’র অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ‘বিএনপি মিডিয়া সেল’‑এও একই বক্তব্য প্রকাশ করেন।
মির্জা ফখরুলের মতে, গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচনকে একসাথে অনুষ্ঠিত করার দাবি দলটি বহু বছর আগে থেকেই রাখে এবং শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই দুই প্রক্রিয়া একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়া তাদের পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিএনপি ২০১৬ এবং ২০২৩ সালে প্রকাশিত ৩১‑দফা প্রোগ্রামের মাধ্যমে যে সংস্কারগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরেছিল, সেগুলোই বর্তমানে গণভোটের বিষয়বস্তু। মির্জা ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, ঐ সংস্কারগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিকশিত হচ্ছে এবং সেগুলোর বিরোধিতা করার কোনো যুক্তি তিনি দেখতে পান না।
তিনি আরও বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জনগণের মতামতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি। এদিকে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিশেষ করে বিএনপি কর্মীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে।
মির্জা ফখরুল সরকারের পক্ষ থেকে এসব হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়াকে তীব্র নিন্দা জানান। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের পূর্বে এ ধরনের সহিংসতা রোধে সরকারকে আরও সক্রিয় এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।
বিএনপি মহাসচিবের এই মন্তব্যের পেছনে দলটির গণভোটে ‘না’ বলার সম্ভাবনা সীমিত করার ইচ্ছা স্পষ্ট। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা এবং জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো বিরোধী মতামত গৃহীত হবে না।
বিএনপি’র মতে, ২০১৬ ও ২০২৩ সালের ৩১‑দফা প্রোগ্রামে উল্লিখিত সংস্কারগুলোই বর্তমান গণভোটের মূল বিষয়বস্তু, ফলে এই সংস্কারগুলোকে প্রত্যাখ্যানের কোনো ভিত্তি না থাকায় ‘না’ বলার বিকল্পই নেই।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে উল্লেখযোগ্য যে, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক নেতাদের ওপর আক্রমণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তিনি সরকারকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।
বিএনপি মহাসচিবের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি সরকার নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা ভোটারদের অংশগ্রহণের ইচ্ছা ও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, দলটি গণভোটকে তার সংস্কার এজেন্ডার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উপস্থাপন করে, যা ভোটারদের সমর্থন না পেলে তার রাজনৈতিক পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে গণভোটে ‘না’ বলার কোনো বিকল্প না থাকায় দলটির দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে, পাশাপাশি তিনি সরকারকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।



