28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানদূরবর্তী নক্ষত্রে দ্বিগুণ বিস্ফোরণ, প্রথম সুপারকিলোনোভা সম্ভাবনা

দূরবর্তী নক্ষত্রে দ্বিগুণ বিস্ফোরণ, প্রথম সুপারকিলোনোভা সম্ভাবনা

একটি দূরবর্তী নক্ষত্রে দুবার বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা রিপোর্ট করেছেন, যা এখন পর্যন্ত পরিচিত কোনো ‘সুপারকিলোনোভা’‑এর প্রথম উদাহরণ হতে পারে। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের লিগো (LIGO) ও ইতালির ভিরগো (Virgo) গ্র্যাভিটেশনাল‑ওয়েভ ডিটেক্টরগুলো আগস্টে রেকর্ড করা একটি নিউট্রন‑তারার মর্জের সঙ্গে যুক্ত।

লিগো‑ভিরগো সিস্টেমের সেন্সরগুলো প্রায় ১.৮ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে দুটি নিউট্রন‑তারার সংঘর্ষের তরঙ্গ সনাক্ত করে। এই সংকেতের একটি অস্বাভাবিক দিক ছিল যে, অন্তত একটি নিউট্রন‑তারার ভর সূর্যের চেয়ে কম বলে অনুমান করা হয়।

সাধারণভাবে নিউট্রন‑তারার ভর সূর্যের ১.৪ গুণের বেশি হওয়া প্রত্যাশিত, তাই এই ফলাফলটি বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি করে। এই অস্বাভাবিকতা নিয়ে গবেষণার জন্য ক্যালটেকের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও তার দল ক্যালিফোর্নিয়ার প্যালোমার পর্যবেক্ষণাগারে দ্রুত অনুসন্ধান চালায়।

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তারা একই দিক ও দূরত্বে লাল রঙের একটি ধোঁয়া দেখতে পায়, যা মর্জের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়। এরপর পরবর্তী কয়েক দিনে প্যালোমারসহ একাধিক পর্যবেক্ষণাগার বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করে।

প্রথমে এই ঘটনা ২০১৭ সালে ধরা পড়া নিউট্রন‑তারার মর্জের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে ধারণা করা হয়। সেই সময়ের পর্যবেক্ষণগুলো দেখিয়েছিল যে মর্জের ফলে একটি কিলোনোভা সৃষ্টি হয়, যেখানে সোনার ও প্লাটিনামের মতো ভারী উপাদান গঠিত হয়।

নতুন ঘটনাটিও লালচে রঙের এবং দ্রুত অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছে, যা ২০১৭ সালের কিলোনোভার সঙ্গে কিছুটা মিল। তবে এইবারের আলো আরও তীব্রভাবে লাল এবং সময়ের সঙ্গে দ্রুত হ্রাস পেয়েছে, যা অতিরিক্ত শক্তি মুক্তির ইঙ্গিত দেয়।

বৈজ্ঞানিক দল এই বৈশিষ্ট্যগুলোকে ‘সুপারকিলোনোভা’ ধারণার সঙ্গে যুক্ত করেছে, অর্থাৎ একটি সুপারনোভা ও কিলোনোভার মিশ্রণ। এই মিশ্রণটি তাত্ত্বিকভাবে এমন একটি বিস্ফোরণকে নির্দেশ করে, যেখানে নিউট্রন‑তারার মর্জের পরে অতিরিক্ত ভরবর্ধন বা বিক্রিয়া ঘটতে পারে, ফলে প্রচলিত কিলোনোভার চেয়ে বেশি উজ্জ্বলতা ও ভিন্ন রঙ দেখা যায়।

যদি এই ব্যাখ্যা সঠিক হয়, তবে এটি মহাবিশ্বে এখনো অদেখা ধরনের বস্তু ও প্রক্রিয়ার উদাহরণ প্রদান করবে। গবেষকরা উল্লেখ করেন, এমন একটি ঘটনা নতুন ধরনের তড়িৎচৌম্বকীয় ও গ্র্যাভিটেশনাল সংকেতের উৎপাদন ঘটাতে পারে, যা ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে।

এই ফলাফলটি ডিসেম্বর ২০ তারিখে প্রকাশিত ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটারস’‑এ বিস্তারিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, আরও সুনির্দিষ্ট ডেটা সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত টেলিস্কোপ ও গ্র্যাভিটেশনাল‑ওয়েভ ডিটেক্টরের সমন্বয় প্রয়োজন।

বিজ্ঞানীরা এখন এই ধরনের দ্বিগুণ বিস্ফোরণ কীভাবে ঘটতে পারে এবং এর ফলে কোন নতুন উপাদান গঠিত হতে পারে তা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে একই রকম সংকেত পাওয়া গেলে তা দ্রুত বিশ্লেষণ করে এই তত্ত্বকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

পাঠকরা যদি এই নতুন আবিষ্কারের প্রভাব সম্পর্কে আরও জানতে চান, তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানী সম্প্রদায়ের আপডেট অনুসরণ করা এবং সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণাগারের প্রকাশনা নজরে রাখা উপকারী হবে। আপনার মতামত কী? এই ধরনের ঘটনা আমাদের মহাবিশ্বের ধারণাকে কীভাবে পরিবর্তন করতে পারে?

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments