19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডিএনসিসি প্রশাসক আনোয়ারা উদ্যানকে সকলের জন্য খুলে দিলেন

ডিএনসিসি প্রশাসক আনোয়ারা উদ্যানকে সকলের জন্য খুলে দিলেন

ঢাকা, ৯ জানুয়ারি ২০২৬ – ঢাকা নগর পরিষদ (ডিএনসিসি) প্রশাসক আজ আনোয়ারা উদ্যানকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন। তিনি জানিয়েছেন যে উদ্যানটি এখন থেকে সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার প্রবেশের অনুমতি পাবে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য শহরের সব বাসিন্দার জন্য সবুজ পরিবেশ ও বিনোদনের সুযোগ নিশ্চিত করা।

আনোয়ারা উদ্যানটি শহরের উত্তর‑পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এবং ১৯৯০-এর দশকে শহরের সবুজায়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হয়। প্রায় ১৫ একর এলাকা জুড়ে গাছপালা, হাঁটার পথ এবং ছোটখাটো খেলার মাঠ রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য একটি শিথিলস্থল হিসেবে কাজ করেছে, যদিও প্রবেশের শর্তে সীমাবদ্ধতা ছিল।

পূর্বে উদ্যানের প্রবেশাধিকার সীমিত ছিল; শুধুমাত্র নিবন্ধিত সদস্য এবং নির্দিষ্ট সময়ে অনুমোদিত গোষ্ঠীগুলোই সেখানে যেতে পারত। এই নীতি কিছু বাসিন্দার মধ্যে অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, কারণ তারা প্রায়ই উদ্যানের সীমানা পার হয়ে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে হতাশ হতো। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এই সীমাবদ্ধতা নিয়ে বহুবার আলোচনা হয়েছে।

ডিএনসিসি প্রশাসক উদ্যানের উন্মুক্তকরণে উল্লেখ করেছেন যে, এখন থেকে উদ্যানের প্রবেশের জন্য কোনো নিবন্ধন প্রয়োজন হবে না এবং সকল বয়সের মানুষই স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে পারবে। তিনি আরও জানান যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যানের চারপাশে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করা হবে।

উদ্যানকে সকলের জন্য উন্মুক্ত করার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে তিনি শহরের সবুজায়ন নীতি এবং নাগরিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “শহরের দ্রুত নগরায়নের ফলে সবুজ স্থান কমে যাচ্ছে; তাই এমন স্থানগুলোকে সর্বসাধারণের জন্য সহজলভ্য করা জরুরি।” এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, উদ্যানের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। কিছু পরিবার ইতিমধ্যে উদ্যানের প্রবেশের পরিকল্পনা করে শিশুদের সঙ্গে পিকনিকের আয়োজনের কথা বলছে। অন্যদিকে, কিছু বাসিন্দা নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, অতিরিক্ত ভিড়ের ফলে উদ্যানের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে, তাই যথাযথ তদারকি প্রয়োজন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে ডিএনসিসি-র শাসনকালে নগর পরিষেবার উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের পূর্বে এই ধরনের জনসেবার সম্প্রসারণকে ভোটারদের কাছে ইতিবাচক ইমেজ গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিরোধী দলগুলো এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির অভিযোগে সমালোচনা করেছে এবং দাবি করেছে যে, উদ্যানের রক্ষণাবেক্ষণ খরচের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দরকার।

ডিএনসিসি প্রশাসক ভবিষ্যতে শহরের অন্যান্য বদ্ধ স্থানগুলোকে উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, একই নীতি অনুসরণ করে শহরের পুরনো গাছের পার্ক, কমিউনিটি সেন্টার এবং কিছু সরকারি জমি জনসাধারণের জন্য সহজলভ্য করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শহরের সবুজায়ন লক্ষ্য পূরণে ত্বরান্বিত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

সারসংক্ষেপে, আনোয়ারা উদ্যানের উন্মুক্তকরণ শহরের সবুজায়ন নীতি ও নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের দিকে একটি স্পষ্ট পদক্ষেপ। ডিএনসিসি প্রশাসকের এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী পর্যবেক্ষণ শহরের নগর পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক পরিবেশে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই প্রকাশ করবে।

৭৮/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বাংলানিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments