শ্রীমতি আলিয়া ভাটের সমর্থনে গড়ে ওঠা এড‑এ‑মাম্মা, রিলায়েন্স রিটেইল ভেঞ্চারসের ২০২৫ সালে ৫১ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণের পর, শিশুর ব্যক্তিগত যত্নের পণ্য লাইন চালু করেছে। নতুন সিরিজে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বেবি ওয়াশ, তেল, লোশন, ট্যাল্ক‑ফ্রি পাউডার এবং র্যাশ বাম। এই পদক্ষেপটি ব্র্যান্ডকে পোশাকের বাইরে দ্রুতগতির ভোক্তা পণ্য (FMCG) বাজারে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে।
এড‑এ‑মাম্মা ২০২০ সালে অনলাইন শিশু পোশাক ব্র্যান্ড হিসেবে শুরু হয়, মূলত ২ থেকে ১২ বছর বয়সের শিশুর জন্য। পরবর্তীতে মেটার্নিটি ও ইনফ্যান্ট পণ্যে সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে রিলায়েন্সের অংশীদারিত্বের দরজা খুলে যায়। রিলায়েন্স রিটেইল ভেঞ্চারসের অধিকাংশ শেয়ার অধিগ্রহণের ফলে ব্র্যান্ডকে ব্যক্তিগত যত্ন, বেবি ফার্নিচার, শিশুদের গল্পের বই এবং অ্যানিমেটেড সিরিজের মতো নতুন ক্যাটেগরিতে প্রবেশের সমর্থন মিলেছে।
ব্র্যান্ডের লক্ষ্য হল মা ও শিশুর জন্য পোশাক, যত্ন, বৃদ্ধি এবং বিনোদন সবকিছুই এক ছাদের নিচে সরবরাহ করা। ব্যক্তিগত যত্ন বিভাগে প্রবেশের কারণ হিসেবে রিলায়েন্সের আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই ভীড় বাজারে প্রতিযোগিতা করার জন্য প্রয়োজনীয়।
ইন্ডিয়ার বেবি কেয়ার বাজার ২০২৩ সালে প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের ছিল এবং ২০২৮ সালের মধ্যে ৬০ থেকে ৬৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। এই বৃদ্ধির পেছনে বাড়তি সচেতনতা, উচ্চতর ভোগ্যমান আয় এবং নগরায়নের গতি প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এড‑এ‑মাম্মা এই প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের পণ্য পরিসর বিস্তৃত করতে চাচ্ছে।
নতুন পণ্য লাইনটি ত্বক-সুরক্ষিত ফর্মুলা ব্যবহার করে তৈরি, যেখানে ট্যাল্কের পরিবর্তে নরম পাউডার ব্যবহার করা হয়েছে এবং র্যাশ বামটি ত্বকের জ্বালা কমাতে সহায়ক। বেবি ওয়াশ ও তেল উভয়ই হাইপোঅ্যালার্জেনিক উপাদানে তৈরি, যা নবজাতকের সংবেদনশীল ত্বকের জন্য নিরাপদ বলে বিবেচিত।
ব্র্যান্ডের সম্প্রসারণ কৌশল শুধুমাত্র পণ্য বৈচিত্র্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি ভবিষ্যতে টিনেজ পোশাক এবং পেট কেয়ার সেক্টরেও প্রবেশের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। টিনেজ ক্যাটেগরিতে পূর্বে সীমিত ড্রপের পর পুনরায় প্রবেশের ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে, যা তরুণ গ্রাহকদের নতুন চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে।
পেট কেয়ার ক্ষেত্রে, পোষা প্রাণীর জন্য বিশেষ যত্ন পণ্য এবং আনুষঙ্গিক সামগ্রী বিকাশের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপটি পরিবারিক গ্রাহক ভিত্তি বাড়িয়ে ব্র্যান্ডের বাজার শেয়ার বৃদ্ধি করতে লক্ষ্য রাখে।
রিলায়েন্সের অংশীদারিত্বের ফলে এড‑এ‑মাম্মা লজিস্টিক নেটওয়ার্ক, রিটেইল চ্যানেল এবং ডিজিটাল মার্কেটিং ক্ষমতা অর্জন করেছে। ফলে নতুন পণ্যগুলো রিটেইল স্টোর এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দ্রুত পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আলিয়া ভাটের মতে, ব্যক্তিগত যত্ন পণ্যগুলো বাজারের চাহিদা এবং গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য উচ্চ মানের মানদণ্ডে তৈরি করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই ধাপটি রিলায়েন্সের অধিগ্রহণের পর অবিলম্বে নেওয়া প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ছিল।
এড‑এ‑মাম্মা বর্তমানে ই-কমার্স ও রিটেইল পার্টনারশিপের মাধ্যমে দেশের প্রধান শহরগুলোতে পণ্য সরবরাহ করছে। গ্রাহকরা অনলাইন অর্ডার ও শোরুমে সরাসরি ক্রয়ের সুবিধা পেতে পারেন।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এড‑এ‑মাম্মার এই বিস্তৃতি শিশুর ব্যক্তিগত যত্ন সেক্টরে নতুন প্রতিযোগী হিসেবে কাজ করবে এবং বিদ্যমান ব্র্যান্ডগুলোর ওপর চাপ বাড়াবে। তবে রিলায়েন্সের শক্তিশালী ব্যাকআপ থাকায় ব্র্যান্ডের প্রবেশ সহজতর হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, এড‑এ‑মাম্মার পণ্য পরিসরের সম্প্রসারণ এবং রিলায়েন্সের অংশীদারিত্বের সমন্বয় ইন্ডিয়ার বেবি কেয়ার বাজারে নতুন গতিশীলতা তৈরি করবে। ভবিষ্যতে পণ্য বৈচিত্র্য এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নত করার মাধ্যমে ব্র্যান্ডের বৃদ্ধির সম্ভাবনা উঁচুতে থাকবে।
ব্র্যান্ডের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হল শিশুর সব ধরণের প্রয়োজন মেটাতে একক প্ল্যাটফর্ম গঠন করা, যা মা ও বাবার জন্য কেনাকাটার প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নের জন্য রিলায়েন্সের আর্থিক ও অপারেশনাল সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এড‑এ‑মাম্মা এখনো তার পরবর্তী ধাপের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে নতুন ক্যাটেগরি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। এই কৌশলগত পদক্ষেপগুলো ব্র্যান্ডকে ইন্ডিয়ার শিশুর যত্ন শিল্পে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।



