নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মেঘনা নদীর পার্শ্ববর্তী কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলে গৃহহীন ঘরে লুট হওয়া অস্ত্রপত্র উদ্ধার এবং পাঁচজন সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার করা হয়। এই অভিযানটি থানা, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ বাহিনীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশের নিরাপত্তা সংস্থার উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন পেয়ে পরিচালিত হয়।
অভিযানে মোট ১৪০ জন সেনা এবং ১০ জন পুলিশ সদস্য অংশগ্রহণ করে, যা জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (গ) সার্কেল মেহেদী ইসলামের নির্দেশে সম্পন্ন হয়। সকালের শুরুর দিকে, দলটি কালাপাহাড়িয়ার কদমীরচর এলাকায় অবস্থিত কাশেম আলীর পরিত্যক্ত বাড়িতে প্রবেশ করে এবং সেখানে লুকানো অস্ত্র সংগ্রহ করে।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থাকলেও, জানানো যায় যে কাশেম আলী আড়াইহাজারের ছাত্রদল সদস্য সচিব মোবারক হোসেনের পিতা এবং তিনি বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নজরুল আজাদের ঘনিষ্ঠ সমর্থক। এই তথ্যগুলো স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।
গ্রেপ্তারের তালিকায় কালাপাহাড়িয়ার খালিয়ার চরের এরশাদের পুত্র মো. জাকির (৩০), একই এলাকার কানাই মিয়ার পুত্র মো. জনি (১৯), প্রয়াত হযরত আলীর পুত্র মো. স্বপন (৪০), শামসুল হক ব্যাপারীর পুত্র আব্দুল মতিন (৪৫) এবং শুকুর আলীর পুত্র রিন্টু মিয়া (৫১) অন্তর্ভুক্ত। সকল অপরাধীকে স্থানীয় থানা থেকে জব্দ করা অস্ত্রের সঙ্গে সঙ্গে আটক করা হয়।
অভিযানের পর বিকেলে, খালিয়ার চর জাহানারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল যোবায়ের আলম উপস্থিত হন। তিনি উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় অপরাধ হ্রাস এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরণের অভিযান জরুরি।
সেই ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত বছর গণঅভ্যুত্থানের সময় আড়াইহাজার থানা থেকে লুট হওয়া একটি পিস্তল, তার ম্যাগাজিন, দশটি গুলি এবং শটগানের পাঁচটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, একাধিক ককটেল গ্রেনেড, দেশীয় তৈরি ধারালো অস্ত্র, চীনা কুড়াল, ইলেকট্রিক স্টানগান এবং কিছু মাদকও জব্দ করা হয়েছে।
অপরদিকে, অপারেশনে দশ লাখ টাকা নগদ এবং কয়েকটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। এই সম্পদগুলোকে অপরাধমূলক কার্যকলাপের তহবিল হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
কালাপাহাড়িয়া অঞ্চলটি নদীর দ্বারা চারপাশে বেষ্টিত, ফলে ভৌগলিকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং দীর্ঘদিন ধরে অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। স্থানীয় গৃহহীন ও কৃষক সম্প্রদায় এই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্র, মাদক এবং থানা থেকে লুট হওয়া সামগ্রী সংরক্ষণে জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
গুপ্তচরবৃত্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে জানা যায়, এই এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের সঞ্চয় এবং গোপন আস্তানা রয়েছে। তাই ভোরের পাঁচটার দিকে অভিযান শুরু করে, যৌথ বাহিনী ১৫০ জন সদস্যের সহায়তায় বহির্গমন পথ, নদীপথ এবং বসতবাড়ি এলাকা আলাদা করে ঘেরে রাখে।
পরবর্তী পর্যায়ে, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালু থাকবে। সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, সন্দেহভাজনদের আদালতে হাজির করা হবে এবং জব্দ করা সামগ্রী ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য নিরাপত্তা সংস্থার কাছে পাঠানো হবে। এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
অভিযানটি স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলাফল, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধমূলক কার্যকলাপ দমন করতে মডেল হিসেবে কাজ করবে।



